আর্কটিক মহাসাগর দিয়ে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের জন্য নতুন একটি সমুদ্রপথ চালু করেছে চীন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথে জাহাজ চলাচলে বাধার মধ্যেই এই নতুন রুটের ঘোষণা দিল বেইজিং।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই আর্কটিকের বিকল্প রুট নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে শিপিং কোম্পানিগুলো।
চীনের নতুন এই রুটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইস সিল্ক রোড’। এই রুটের আওতায় চীনের পূর্ব উপকূলের নিংবো বন্দর থেকে যাত্রা করে জাহাজগুলো রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রপথ ধরে আর্কটিক মহাসাগর পার হবে। এরপর দক্ষিণ দিকে গিয়ে ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের ফেলিক্সটো বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাবে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের উপকূলে লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ রুট বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে এই রুটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, অনেক জাহাজ এই রুট এড়িয়ে চলছে। ফলে লোহিত সাগর ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ সুয়েজ খালেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, চীনের নতুন আর্কটিক সমুদ্রপথ কি দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প হিসেবে টিকে থাকতে পারবে? আর এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শক্তির ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে?
নতুন আর্কটিক সমুদ্রপথ
গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই রুটের ঘোষণা দেয় চীনের কনটেইনার পরিবহন কোম্পানি ‘সি লেজেন্ড’। ইউরোপের সঙ্গে চীনের সংযোগ তৈরি করা ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রোডের’ নাম অনুসারে এই রুটের নাম দেওয়া হয় ‘আইস সিল্ক রোড’। কোম্পানিটি গত বছরের অক্টোবরে এই পথে পরীক্ষামূলকভাবে একটি জাহাজ চালিয়েছিল।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক যাত্রায় সময় লেগেছিল মাত্র ২০ দিন। অন্যদিকে, সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে যেতে প্রায় ৪০ দিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ঘুরে যেতে প্রায় ৫০ দিন সময় লাগে। ফলে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আর্কটিকের এই নতুন রুট দিয়ে চীন থেকে ইউরোপে পণ্য পৌঁছাতে অনেক কম সময় লাগতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। ছবি: রয়টার্স
এই রুট কি সুয়েজ খালের বিকল্প হতে পারে?
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। এতে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো নতুন ঝুঁকি তৈরি হলেও, একই সঙ্গে সেখানে নতুন কিছু সমুদ্রপথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন আর্কটিক সমুদ্রপথ চীন থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের সময় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে। কিন্তু এই পথে সারা বছর জাহাজ চালানো সম্ভব হবে না। উত্তর গোলার্ধে গরমের সময় যখন বরফ কম থাকে, তখনই মূলত এই রুট ব্যবহার করা যাবে।
সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ডিলান লো আল-জাজিরাকে বলেন, এই রুট অন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর বিকল্প নয়, বরং অতিরিক্ত একটি মৌসুমি রুট হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, কখন বরফ গলবে, তার ওপর এই পথের ব্যবহার নির্ভর করে। ফলে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা থাকে।
এছাড়া পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও আর্কটিক দিয়ে জাহাজ চলাচলের সমালোচনা করছে। তাদের মতে, এতে ওই অঞ্চলের বরফ আরও দ্রুত গলতে পারে।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের নতুন আইস সিল্ক রোড রাশিয়ার ‘নর্দার্ন সি রুট’ বা উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রপথের মধ্য দিয়ে গেছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে এই রুটটি আর্কটিক অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সেখানে এখনো খুব বেশি কনটেইনার জাহাজ চলাচল করে না।
জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালিয়াঞ্জ কমার্শিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই পথে ১৫টি কনটেইনার জাহাজ চলেছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২৩টিতে দাঁড়ায়।
এই পথে জাহাজ চালাতে রাশিয়ার অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি দেয় ‘নর্দার্ন সি রুট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’। সংস্থাটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটমের অধীনে কাজ করে।
২০১৭ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রাশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভকে বলেছিলেন, চীন ও রাশিয়ার উচিত যৌথভাবে আর্কটিকের এই সমুদ্রপথ উন্নয়ন ও ব্যবহার করা। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পরই রাশিয়ার এই বাণিজ্যিক নৌপথে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ পায় চীন।
চীনের নতুন আইস সিল্ক রোড রাশিয়ার ‘নর্দার্ন সি রুট’ বা উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রপথের মধ্য দিয়ে গেছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, নর্দার্ন সি রুটের (এনএসআর) জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া। তাই এখন পর্যন্ত চীনই একমাত্র দেশ, যারা বাস্তবে এই রুটকে হরমুজ প্রণালি বা সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, এনএসআর দিয়ে চলাচল করা প্রায় সব জাহাজই রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ অংশ। এসব জাহাজের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে অন্য দেশগুলো এই রুট ব্যবহার করলে তাদেরও রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
নতুন এই রুট চীনের কতটা উপকারে আসবে?
ইয়াং বলেন, চীন যদি এনএসআরকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের কার্যকর বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে চীন ও চীনা জাহাজ কোম্পানিগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, এনএসআর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে চীন আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী করতে পারে। এটি বহু বছর ধরে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য।
তবে ইয়াং মনে করেন, এনএসআরের ভবিষ্যতে সুয়েজ খালের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত একটি আন্তর্জাতিক বিকল্প নৌপথ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এখনো সীমিত।
কেন আর্কটিকে নতুন বাণিজ্যরুট তৈরি হচ্ছে?
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে আর্কটিক অঞ্চলের এতদিন অনাবিষ্কৃত ও অপ্রচলিত প্রাকৃতিক সম্পদ ধীরে ধীরে সহজে পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে নতুন সমুদ্রপথও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে শীতকালে সমুদ্রের বরফের পরিমাণ ৫.৮ শতাংশ কমেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বরফ কমার এই হার ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো শুধু আর্কটিকের প্রাকৃতিক সম্পদের দিকেই নজর দিচ্ছে না, সেখানকার বাণিজ্যিক নৌপথ নিয়েও তারা আগ্রহী।
আবার রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের বদলে চীনের সঙ্গে কাজ করে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায়। এ জন্য তারা নর্দার্ন সি রুটকে আরও বেশি ব্যবহার করতে চাইছে।
অন্যদিকে চীনের জন্য নতুন এই আর্কটিক রুট বিকল্প একটি বাণিজ্যপথ হয়ে উঠতে পারে। এতে চীন মালাক্কা প্রণালি এবং উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার বাণিজ্যপথের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে।
চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি কানাডার আর্কটিক অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ’ও ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত ব্যবহার করা হতে পারে। এতে পূর্ব এশিয়া থেকে পশ্চিম ইউরোপে পণ্য পরিবহনের সময় কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন বিকল্প বাণিজ্যরুট প্রয়োজন?
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে পাঠানোর জন্য এটিই প্রধান সমুদ্রপথ। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। শুধু জ্বালানি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সার ও ওষুধও এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বাব আল-মান্দেব প্রণালিও এখন ঝুঁকির মুখে। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ১০ শতাংশের বেশি এই রুট দিয়ে পরিবহন হয়। সম্প্রতি হুতিরা লোহিত সাগরে ঢোকা বা বের হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে যেগুলো সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। আর লোহিত সাগরই সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত।
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব–এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতারা বিকল্প রুট খুঁজছেন।
চীনের নতুন রুট কি বিশ্ব বাণিজ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে?
চলতি মাসের শুরুতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালির বিকল্প একটি রুট তৈরির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ইরান একটি বড় হুমকি। ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নয়। তাই বিশ্ববাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য কীভাবে পৌঁছাবে, সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন প্রয়োজন।
তবে সিঙ্গাপুরের বিশ্লেষক ডিলান লো মনে করেন, চীনের মতো দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্যরুট খুঁজলেও এতে বিশ্ব বাণিজ্য শক্তির ভারসাম্য শিগগিরই বদলাবে না। তার ভাষ্য, চীনের নতুন রুট এখনো মূলত একটি বিকল্প ব্যবস্থা বা ‘ব্যাকআপ’। এটি এখনো পুরোপুরি পুরোনো নৌপথের বিকল্প হয়ে ওঠেনি। কারণ, প্রচলিত সমুদ্রপথগুলোর মতো এই পথে এখনো নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে জাহাজ চালানোর নিশ্চয়তা নেই।
ডিলান লো বলেন, পরিবেশ, খরচ ও নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে এই রুট কতটা কার্যকর, তা বুঝতে আরও সময় লাগবে। শুধু এই নতুন রুট চালু হওয়ার কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের শক্তির ভারসাম্য হঠাৎ বদলে যাবে না।
তবে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও জনপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলেহান্দ্রো রেয়েস মনে করেন, এই পথের ভূরাজনৈতিক প্রভাব আরও বড় হতে পারে। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকেই চীন আর্কটিক কাউন্সিলের পর্যবেক্ষক সদস্য। তার মানে, আর্কটিক অঞ্চলের প্রতি চীনের আগ্রহ অনেক পুরোনো। নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হলে এই আগ্রহের সঙ্গে বাস্তব অর্থনৈতিক দিকও যুক্ত হবে।
ফলে আর্কটিক অঞ্চল চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
আর্কটিক কাউন্সিল হলো আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম। এর পূর্ণ সদস্য দেশগুলো হলো– কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, রাশিয়া, সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্র।
রেয়েস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে, তখন আর্কটিক দিয়ে চীন-রাশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়তে থাকলে ওয়াশিংটনও বিষয়টির দিকে আরও নজর দেবে। এখানে ইউরোপ ও ন্যাটোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্কটিক কাউন্সিলের আট সদস্য দেশের মধ্যে সাতটিই ন্যাটোর সদস্য।
রেয়েস বলেন, ইউরোপের জন্য নতুন এই রুট এশিয়ায় পণ্য পাঠানোর সময় কমাতে পারে। তবে একই সঙ্গে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নৌপথের ওপর ইউরোপের নির্ভরতাও এতে বেড়ে যেতে পারে। যদিও আর্কটিক সমুদ্রপথ সুয়েজ খালকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে বলে মনে করেন না তিনি।
রেয়েসের মতে, আর্কটিক মূলত এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে আরেকটি যোগাযোগের রুট হিসেবে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে এটি চীন-রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।