
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করেছে। এগুলোর কোনোটিই বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ছিল না।

গত কয়েক দিন ধরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন কিছু বিলবোর্ড দেখা গেছে। এসব বিলবোর্ডে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের দায়িত্ব নেওয়া সাত নেতার ছবি রয়েছে। তবে বিলবোর্ডে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো–নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কোনো ছবি নেই।

ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ছাড় আদায় করতে চাইছে। লক্ষ্য একটাই—যুক্তরাষ্ট্রকে আবার জুনের সেই সমঝোতার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের বিশ্লেষণ।

ট্রাম্প লিখেছেন, “কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তার পথ করে দেওয়ার অনুমতি দিলে, সেই দেশ নিজেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়বে।”

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বিষয়। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে, তখন আর্কটিক দিয়ে চীন-রাশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়তে থাকলে ওয়াশিংটনও বিষয়টির দিকে আরও নজর দেবে। এখানে ইউরোপ ও ন্যাটোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্কটিক কাউন্সিলের আট সদস্য দেশের মধ্যে সাতটিই ন্যাটোর সদস্য।

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখন্ড হিসেবে দাবি করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর, দুই পক্ষের কেউই এখন এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল নিয়েও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলেছেন। কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর প্রস্তাবও বারবার এসেছেতাঁর বক্তব্যে।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য নতুন একটি রুটের মানচিত্র তৈরিতে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে দুই দেশ এই সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে একটি যৌথ নৌ-সামরিক জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ। ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশ এতে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, “পেট্রলের জন্য সামান্য একটু বেশি দাম দেওয়া”, একটি দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য মূল্য দেওয়ার মতো বিষয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে তার উল্লেখ করা কারণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা এবং আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ার মধ্যে এমন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।

গত দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই তাদের বক্তব্য আরও কঠোর করেছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই মঙ্গলবার বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। এ ছাড়া, অতীতে ট্রাম্পকে সমর্থন করা গ্রামীণ এলাকাগুলোতে জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ভারতের সঙ্গে এবার সরাসরি রেলপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইছে রাশিয়া। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসকে এ কথা জানিয়েছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুশনুলিন।

ইরানের কাছে পাল্টা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, গত পাঁচ দশকে ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে, তার জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংঘাত সমাধানের আশা দিনে দিনে ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সাম্প্রতিক সমীকরণে হরমুজ প্রণালি এখন আর শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নয়। এটি পরিণত হয়েছে তেহরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক অস্ত্রে। ইরান এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ছাড় আদায় করতে চাইছে। লক্ষ্য একটাই—যুক্তরাষ্ট্রকে আবার জুনের

আরাঘচি বলেন, ইরানে ব্যাপক হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি এর ওপর আংশিকভাবে নির্ভর করবে।