ইরানের কাছে পাল্টা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, গত পাঁচ দশকে ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে, তার জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে। হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পর ট্রাম্পের এই দাবি সামনে এলো।
স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কারণে গত ৫০ বছরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রশাসন সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করবে।
এর আগে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত হতো। ইরানের দাবিগুলো মূলত জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে ওই চুক্তি ভেঙে যায়।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ট্রাম্পের নতুন দাবিতে এই সামুদ্রিক পথটি পুনরায় খুলতে চলমান প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন “আপনি বলতে পারেন, তারা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। অথবা আমরা যে ক্ষতি করেছি তার জন্য অর্থ চেয়েছে।” তিনি সাংবাদিকদের বললেন। “আচ্ছা, এখন আমরা গত ৫০ বছরে তাদের করা ক্ষতির জন্য অর্থ চাইব।”
ট্রাম্প আরও বলেন, এই অর্থের মধ্যে ওই অঞ্চলে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাশাপাশি ইরানের বিক্ষোভে নিহত বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতিপূরণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্প দাবি করেন, গত চার মাসে ইরানে ৫২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৫০০ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী।