
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর, দুই পক্ষের কেউই এখন এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা থেমে যাওয়ায় তেহরান আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, জুনে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থসংকটে বাংলাদেশের কৌশলগত বিকল্প সংকুচিত–এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রায় অনিবার্য। তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট থেকে উত্তরণ করতে হলে বাংলাদেশের বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অথচ আইএমএফ এখনও ঋণ ছাড়েনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান ভূপাতিত করে হত্যার কথিত ইরানি ষড়যন্ত্র এবং সেই হুমকি নিয়ে সিআইএর ‘লো কনফিডেন্স’ মূল্যায়ন এখন ওয়াশিংটনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মক্কার আল-সফা প্রাসাদে গত ৭ আগস্ট তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইরানের কাছে পাল্টা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, গত পাঁচ দশকে ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে, তার জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সাম্প্রতিক সমীকরণে হরমুজ প্রণালি এখন আর শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নয়। এটি পরিণত হয়েছে তেহরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক অস্ত্রে। ইরান এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ছাড় আদায় করতে চাইছে। লক্ষ্য একটাই—যুক্তরাষ্ট্রকে আবার জুনের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে গতকাল শুক্রবার এক ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। গত বছরও সৌদি আরব ও পাকিস্তান একই ধরনের একটি চুক্তি করেছিল।

ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতে পারে এবং পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হতে পারে। এ আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

ইরানের অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরে দাঁড়ানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি কমেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত একটি চুক্তি হলে তিনি ইরানের ওপর নতুন হামলা থেকে বিরত থাকবেন।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি সপ্তাহে তাদের জাতীয় তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার উপযুক্ত জবাব ও প্রতিশোধ হিসেবেই ইরাকের ভেতরে এই বিমান হামলা চালান হয়েছে।

এই মৌলিক পরিবর্তনগুলো নিশ্চিত করা না গেলে সাম্প্রতিক সব রক্তক্ষয় ও ধ্বংসযজ্ঞ কেবল ‘শব্দ ও উত্তেজনার’ এক অর্থহীন মহড়া হিসেবেই রয়ে যাবে এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতিটি পরবর্তী নতুন কোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ক্ষণগণনা হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চীন থেকে ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় আগামী কয়েক

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বৈঠকে ইরান সংঘাত ছাড়াও ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করবেন। গত সপ্তাহেই তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কাগজে-কলমে শান্তি চুক্তি হলেও বাস্তবে কি তা হয়েছে? আমরা তো দেখছি যুদ্ধ-পরিস্থিতি এখনো বিরাজমান। এ নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা।

ইরানের বিরুদ্ধে টানা অষ্টম রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সেন্টকম জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ইরানকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কাগজে-কলমে শান্তি চুক্তি হলেও বাস্তবে কি তা হয়েছে? আমরা তো দেখছি যুদ্ধ-পরিস্থিতি এখনো বিরাজমান। এ নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা।

জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনাতে এসব হামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।