
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও চরম যুদ্ধাবস্থা। একদিকে চুক্তি ভেঙে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের খবর, অন্যদিকে ইসরায়েলের বিস্ফোরক দাবি–প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার নতুন ছক কষছে তেহরান। ইরানকেও ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়েছেন।

অনেককে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা গেছে। আবার কিছু মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ডও বহন করছিলেন।

ইরাক থেকে ইরানে ফিরিয়ে আনা হলো নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ। ৯ জুলাই মাঝআকাশে ধারণ করা এই বিশেষ ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, খামেনির কফিন বহনকারী বিমানটিকে মাঝআকাশে নিরাপত্তা দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইরানি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান।

দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের হামলা বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্ক ও ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক হুমকি ও কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। তবে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বৈরিতা চরম রূপ ধারণ করেছে, যা বর্তমানে প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে এখন তুরস্ককে ইরানের সমপর্যায়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আলি খামেনির মৃত্যুর মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অধ্যায়ের অবসান ঘটে। ১৯৮৯ সালে দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রধান অভিভাবক ও নীতি-নির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তীব্র গরম উপেক্ষা করে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে দ্বিতীয় দিনের দিনেও তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লাতে মানুষের ঢল নেমেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরান বলেছে, “মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। এই তালিকায় শীর্ষস্থানীয় ইরানি প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইরানি নেতাদের এই হত্যা পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়।

তবে সরকারের দেখানো এই কৃত্রিম ঐক্যের আবরণের আড়ালে ইরানের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং দমনপীড়নে দেশটির তরুণ সমাজ ক্ষুব্ধ। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে খামেনির মৃত্যুর স্লোগান উঠেছিল এবং তার মৃত্যুর খবরে অনেকের উল্লাসের কথাও জানা গেছে।

কাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে থাকা ইরানি সামরিক কমান্ডার আলী আবদোল্লাহি আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেন ‘কোনো ভুল হিসাব’ না করে।

দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে—তেহরান এ দাবি নাকচ করেছে। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাও সেখানে উপস্থিত নন।

চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। কাতারের রাজধানী দোহায় আজ মঙ্গলবার এ বৈঠক হওয়ার কথা বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান বলছে এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের আপাতত নেই।

টানা তিনদিনের উত্তেজনার পর পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় সময় আগামীকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে দুই দেশ।

টানা তিনদিনের উত্তেজনার পর পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় সময় আগামীকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে দুই দেশ।