ads

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের বাড়ল তেলের দাম

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের বাড়ল তেলের দাম
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। আজ সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

ব্রেন্ট ক্রুডের সেপ্টেম্বর সরবরাহের ফিউচারের দাম সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি ৪ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ১৭ ডলারে পৌঁছায়। গত ২২ জুনের পর এটি সর্বোচ্চ দাম।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তেল বিশ্লেষক মুকেশ সাহদেভ বলেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের উচ্চ সীমায় থাকতে পারে।

সিডনিভিত্তিক আইজি'র বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পরও যুদ্ধের শুরুর দিকে দেখা উচ্চপর্যায়ে তেলের দাম পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।

সোমবার গ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুনে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নাজুক সমঝোতা সফল হবে, এমন প্রত্যাশার প্রতিফলন। গত সপ্তাহের নতুন উত্তেজনা দেখিয়ে দিয়েছে, সেই ধারণা কতটা ভঙ্গুর ছিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। সোমবার সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশের বেশি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৫ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানে কয়েক ডজন হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর আগে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সিতে ইরানি হামলার অভিযোগ তুলে প্রথম দফার অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টকম বলেছে, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এদিকে, ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা থাকবে না এবং এর দায় জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও অধিনায়ককে বহন করতে হবে।

নতুন করে সংঘাত শুরুর পর হরমুজে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে চারটি ছিল ইরানের পতাকাবাহী। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২২টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করলেও যুদ্ধ শুরুর আগে গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত।

শান্তিকালে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। নতুন সংঘাতের জেরে তেলের দামও আবার বেড়েছে। বর্তমানে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম হামলার আগের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

সম্পর্কিত