চরচা ডেস্ক

কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানি কর্মকর্তাদের আজ বুধবার দোহায় আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা সেখানে পৌঁছেছেন।
এরই মধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা চলছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরায় ১ জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ মতপার্থক্য নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
তবে গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে বিমান হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটন বলছে, দোহায় তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র কী বলছে?
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, আলোচনা সফল হোক বা না হোক, ট্রাম্প প্রশাসন ‘খুব শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই চায় আলোচনা সফল হোক। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।

ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো ধরনের হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দেবে—এ কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা সফল হলে ইরান ‘স্থায়ীভাবে বদলে যাবে’।
ভ্যান্স জানান, সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিভিন্ন বিকল্প ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি তার উপদেষ্টাদের বলেন, তিনি কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান। প্রয়োজনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিও বাড়াতে তিনি প্রস্তুত।
ইরান কী বলছে?
দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে—তেহরান এ দাবি নাকচ করেছে। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাও সেখানে উপস্থিত নন।
ইরান জানিয়েছে, তারা কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা করবে।
চলতি সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল মুক্তির প্রত্যাশা করছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার জানান, বুধবার ইরানি প্রতিনিধিদল দোহায় কাতারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই তহবিল এবং সমঝোতা স্মারকের অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে।
অন্যদিকে ভ্যান্স ইরানের সরাসরি কারিগরি আলোচনা অস্বীকার করাকে ‘পারস্যের আলোচনার কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
'দ্য মাইকেল নোলস শো' পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগেই নির্ধারিত কারিগরি আলোচনা রয়েছে, যা ইতিমধ্যে হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতা। সেগুলো আগামীকাল অবশ্যই হবে।”
তিনি বলেন, ইরানের প্রকাশ্য বক্তব্য তার কাছে ‘আকর্ষণীয়, আবার হতাশাজনকও’। কারণ একদিকে তারা শান্তি আলোচনা অস্বীকার করছে, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার কথা স্বীকার করছে।
ভ্যান্সের ভাষায়, “তারা বলে, ‘না, শান্তি আলোচনা হচ্ছে না। তবে শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি আলোচনা চলছে।’ এটি পারস্যের একটি আলোচনার কৌশল এবং অলঙ্কারিক পদ্ধতি, যা আমি বুঝি না।”
সরাসরি আলোচনায় ফিরতে কেন ইরানের অনীহা?
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মনে করেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে বাড়তে থাকা সংশয়ই তেহরানের এই অনীহার অন্যতম কারণ।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “গত দুই সপ্তাহে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে আরও বেশি প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ‘কাগজে-কলমে সমঝোতা স্মারকটি ভালো শোনায়, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি কোথায়?’”

তিনি বলেন, “যে জব্দ সম্পদ ছাড় করার কথা ছিল, তা কোথায়? হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কোথায়? ইসরায়েল এখনো কেন লেবাননে অবস্থান করছে?”
ভাতাঙ্কার মতে, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তাই তার ভাষায়, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বা পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা দোহায় এসে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অনাগ্রহী—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ দেশে ফিরে এটি তাদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।”
এই আলোচনার গুরুত্ব কী?
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্কট উয়েলিঙ্গার বলেন, সরাসরি আলোচনা না হলেও দোহায় কারিগরি পর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, “আমার ধারণা, আমেরিকান আলোচকদের প্রধান লক্ষ্য হলো আগে থেকে নির্ধারিত কারিগরি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন সমস্যাগুলো এড়ানোর চেষ্টা করা।”
তিনি বলেন, এসব সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইরানের কূটনৈতিক কৌশল।
উয়েলিঙ্গার আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রকৃত ভূমিকা কী হবে, তা স্পষ্ট করতে এবং ভবিষ্যৎ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এমন আরও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে।”

কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানি কর্মকর্তাদের আজ বুধবার দোহায় আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা সেখানে পৌঁছেছেন।
এরই মধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা চলছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরায় ১ জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ মতপার্থক্য নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
তবে গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে বিমান হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটন বলছে, দোহায় তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র কী বলছে?
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, আলোচনা সফল হোক বা না হোক, ট্রাম্প প্রশাসন ‘খুব শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই চায় আলোচনা সফল হোক। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।

ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো ধরনের হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দেবে—এ কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা সফল হলে ইরান ‘স্থায়ীভাবে বদলে যাবে’।
ভ্যান্স জানান, সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিভিন্ন বিকল্প ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি তার উপদেষ্টাদের বলেন, তিনি কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান। প্রয়োজনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিও বাড়াতে তিনি প্রস্তুত।
ইরান কী বলছে?
দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে—তেহরান এ দাবি নাকচ করেছে। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাও সেখানে উপস্থিত নন।
ইরান জানিয়েছে, তারা কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা করবে।
চলতি সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল মুক্তির প্রত্যাশা করছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার জানান, বুধবার ইরানি প্রতিনিধিদল দোহায় কাতারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই তহবিল এবং সমঝোতা স্মারকের অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে।
অন্যদিকে ভ্যান্স ইরানের সরাসরি কারিগরি আলোচনা অস্বীকার করাকে ‘পারস্যের আলোচনার কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
'দ্য মাইকেল নোলস শো' পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগেই নির্ধারিত কারিগরি আলোচনা রয়েছে, যা ইতিমধ্যে হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতা। সেগুলো আগামীকাল অবশ্যই হবে।”
তিনি বলেন, ইরানের প্রকাশ্য বক্তব্য তার কাছে ‘আকর্ষণীয়, আবার হতাশাজনকও’। কারণ একদিকে তারা শান্তি আলোচনা অস্বীকার করছে, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার কথা স্বীকার করছে।
ভ্যান্সের ভাষায়, “তারা বলে, ‘না, শান্তি আলোচনা হচ্ছে না। তবে শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি আলোচনা চলছে।’ এটি পারস্যের একটি আলোচনার কৌশল এবং অলঙ্কারিক পদ্ধতি, যা আমি বুঝি না।”
সরাসরি আলোচনায় ফিরতে কেন ইরানের অনীহা?
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মনে করেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে বাড়তে থাকা সংশয়ই তেহরানের এই অনীহার অন্যতম কারণ।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “গত দুই সপ্তাহে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে আরও বেশি প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ‘কাগজে-কলমে সমঝোতা স্মারকটি ভালো শোনায়, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি কোথায়?’”

তিনি বলেন, “যে জব্দ সম্পদ ছাড় করার কথা ছিল, তা কোথায়? হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কোথায়? ইসরায়েল এখনো কেন লেবাননে অবস্থান করছে?”
ভাতাঙ্কার মতে, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তাই তার ভাষায়, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বা পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা দোহায় এসে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অনাগ্রহী—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ দেশে ফিরে এটি তাদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।”
এই আলোচনার গুরুত্ব কী?
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্কট উয়েলিঙ্গার বলেন, সরাসরি আলোচনা না হলেও দোহায় কারিগরি পর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, “আমার ধারণা, আমেরিকান আলোচকদের প্রধান লক্ষ্য হলো আগে থেকে নির্ধারিত কারিগরি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন সমস্যাগুলো এড়ানোর চেষ্টা করা।”
তিনি বলেন, এসব সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইরানের কূটনৈতিক কৌশল।
উয়েলিঙ্গার আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রকৃত ভূমিকা কী হবে, তা স্পষ্ট করতে এবং ভবিষ্যৎ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এমন আরও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে।”