
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকেও লক্ষ্য করা হবে। জবাবে ইরান হুমকি দিয়েছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নেবে, তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন যেসব প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করেছিল—যেমন ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, দেশটির দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা—তার একটিও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

সামরিক ইতিহাসে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যেখানে রণাঙ্গনে অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের পরও কৌশলগত ভুলের কারণে চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ইতিহাসবিদ ব্রেট ডেভোরো, যিনি রোমান অর্থনীতি ও সামরিক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ, ফরেইন পলিসি পত্রিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকেও লক্ষ্য করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র একে ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।

পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্রও রয়টার্সকে আসিম মুনিরের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রথম সূত্রটি জানায়, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করেছে। এগুলোর কোনোটিই বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ছিল না।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, ইরান তাদের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

গত কয়েক দিন ধরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন কিছু বিলবোর্ড দেখা গেছে। এসব বিলবোর্ডে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের দায়িত্ব নেওয়া সাত নেতার ছবি রয়েছে। তবে বিলবোর্ডে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো–নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কোনো ছবি নেই।

ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ছাড় আদায় করতে চাইছে। লক্ষ্য একটাই—যুক্তরাষ্ট্রকে আবার জুনের সেই সমঝোতার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের বিশ্লেষণ।

১৯৫৩ সালে ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছিল। সেই ঘটনার সাত দশকেরও বেশি সময় পর আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্র

যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত বৃদ্ধি করে তবে ইরান ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছে। তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের সূত্রের বরাত দিয়ে লন্ডনের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত বৃদ্ধি করে তবে ইরান ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছে। তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের সূত্রের বরাত দিয়ে লন্ডনের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের ফলে মার্কিন মজুত প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নতুন কোনো বিষয় নয়। এই পরিস্থিতি মূলত একটি পূর্ব বিদ্যমান সংকটকে কেবল উন্মোচিত ও ত্বরান্বিত করেছে। লন্ডনের দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত ক্যাটো ইনস্টিটিউটের

ট্রাম্প লিখেছেন, “কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তার পথ করে দেওয়ার অনুমতি দিলে, সেই দেশ নিজেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়বে।”

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন দুটি দেশের মধ্যকার মুখোমুখি সংঘাত কেবল সেই নির্দিষ্ট দ্বন্দ্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থার এক গভীর রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নেয়। মিডল ইস্ট মনিটর-এ প্রকাশিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক রঞ্জন সলোমনের এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান উত্তেজ

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বিষয়। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।

গত রোববার ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা “উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর” নির্দেশ দেওয়ার পরই এই পরিবর্তন আনা হলো। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার “খুব ভালো সম্পর্কের” কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে, তখন আর্কটিক দিয়ে চীন-রাশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়তে থাকলে ওয়াশিংটনও বিষয়টির দিকে আরও নজর দেবে। এখানে ইউরোপ ও ন্যাটোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্কটিক কাউন্সিলের আট সদস্য দেশের মধ্যে সাতটিই ন্যাটোর সদস্য।

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখন্ড হিসেবে দাবি করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর, দুই পক্ষের কেউই এখন এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।