ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে এবং চীনসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার নিন্দা করেছে ইরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে “ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা” আরোপের হুমকি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের আগামীকাল সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কেনে চীন। বেসেন্ট চীনের কাছেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বেইজিং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গতকাল শনিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা “জাতিসংঘের প্রতিটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর নিজস্ব ভূখণ্ডের বাইরে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি”।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এ ধরনের গৌণ নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই।”
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, ইরান তাদের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
রেজায়ি বলেন, “আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে বলছি, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেয়। অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব দেশ ইরানকে “যেকোনো ধরনের লাইফলাইন” দেবে, তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সংঘাতের “কী হয়, তা পর্যবেক্ষণ করছে”।
ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়।”
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর প্রায় ছয় মাস ধরে যুদ্ধ চলার পর এখন দুই পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছে না, তবে শান্তি আলোচনা শুরু করারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা যেকোনো অনুমোদনহীন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি এমনিতেই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।