যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানি জাহাজগুলোকে তাদের বন্দরে অবরুদ্ধ করে রাখলেও হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। শত শত জাহাজে থাকা হাজার হাজার নাবিক সেখানে আটকা পড়েছেন।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করেছে। এগুলোর কোনোটিই বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ছিল না।
তবে বাগদাদের বারবার অনুরোধের পর ইরান বেশ কয়েকটি ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে বলে গতকাল শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে।
আইআরএনএ জানায়, ইরাকি ট্যাংকারগুলোকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া ছিল ইরাক সফরকালে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের কাছে বাগদাদের অন্যতম প্রধান দাবি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে দেশটির সামরিক বাহিনী সহায়তা করেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ২ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে যেত। অর্থাৎ বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত প্রতি পাঁচ ব্যারেল তেলের প্রায় এক ব্যারেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনীও ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। তবে তেহরানের হাতে এখনো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা চালানো সম্ভব।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফ বলেন, আঞ্চলিক নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে তেহরান “অসংখ্য বার্তা” পেয়েছে।
কোন কোন দেশের কথা তিনি বলছেন, তা উল্লেখ না করে গালিবাফ অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার মিত্রদের নিরাপত্তা বিপন্ন করছে। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও “নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে ওঠা” আঞ্চলিক ব্যবস্থা শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে ইরান এখনো অনড় অবস্থানে থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, “আজই যুদ্ধ শেষ করা ভালো হবে—যখন আমরা শক্তিশালী এবং মর্যাদার সঙ্গে আছি, আর পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে যে আমেরিকা সব নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোতে হামলা করেছে এবং বিশ্বে ঘৃণিত হয়েছে।”
যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই ইরানি। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের ১৬৮ জন স্কুলশিশু নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ৭৫০ জনের বেশি সামরিক সদস্য আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়েছে।