যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় আমেরিকার অংশগ্রহণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেওয়ার পর দেশ দুটি তাদের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার সময় ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন এবং কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও সীমিত করেছে। মিত্র দেশ দুটি আজ বুধবার এ কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
১৭ আগস্ট শুরু হওয়া উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়া এখন ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এবং পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর আগে মহড়াটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন জিউ-ব্যাক বলেছেন, মিত্র দেশ দুটি মহড়ার দ্বিতীয় ধাপ বাতিলের দিকে এগোচ্ছে। গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই ধাপে প্রাথমিক প্রতিরক্ষামূলক পর্যায়ের পর পাল্টা আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা ছিল।
জেসিএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে দুই দেশ মহড়ার সময়কাল ও পরিধিতে আংশিক পরিবর্তনে সম্মত হয়েছে। কিছু যৌথ মাঠপর্যায়ের সামরিক কৌশলগত প্রশিক্ষণও কমানো হবে। তবে এর বিস্তারিত এখনো আলোচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মহড়া এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরাসরি অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। কিছু প্রশিক্ষণ বাতিল করা হয়েছে, আবার কিছু প্রশিক্ষণ সিমুলেশনের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্য বজায় থাকবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত উদ্দেশ্যগুলোর কোনো অবনতি হবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
গত রোববার ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা “উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর” নির্দেশ দেওয়ার পরই এই পরিবর্তন আনা হলো। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার “খুব ভালো সম্পর্কের” কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের এই নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিশ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাস্তবায়নের গতি নিয়ে সিউলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ থেকে মনোযোগ সরানো এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করা।
কোরিয়া ইকোনমিক ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ ফেলো এলেন কিম বলেন, “এখানে ট্রাম্প এক ঢিলে তিন পাখি মারার চেষ্টা করছেন।”
এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছেন। তার সফরের সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিও উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।