দেশের বড় ঋণখেলাপি ও আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড’-কে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বুধবার ব্যাংক কোম্পানি আইনের সাধারণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন এলসি খোলার বিশেষ অনুমতি এবং বকেয়া বৈদেশিক ঋণ ছাড় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ২৭কক (৩) ধারা অনুযায়ী, দেশের কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান বা তার সহযোগী অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ সুবিধা কিংবা পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার সুযোগ পায় না। তবে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার স্বার্থে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রে এই আইনি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য শতভাগ নগদ মার্জিনের বিপরীতে কাঁচামাল বা কয়লা আমদানির এলসি খুলতে পারবে।
এছাড়াও নতুন এলসি খোলার পাশাপাশি, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য পূর্ব-অনুমোদিত একটি ফরেন কারেন্সি সিন্ডিকেটেড ঋণের বাকি থাকা অংশ ছাড় করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রূপালী ব্যাংকের অংশে বকেয়া থাকা প্রায় ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৫১ মার্কিন ডলার এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে অবমুক্ত বা রিলিজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনে একটি বড় সুরক্ষামূলক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই বিশেষ ঋণ ও এলসি সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক বা আইনি দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে এই লেনদেনের কারণে কোনো খেলাপি বা লোকসান হলে, রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না। অর্থাৎ, এই সিদ্ধান্তের সমস্ত আর্থিক ঝুঁকি রূপালী ব্যাংককে এককভাবে বহন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার সিংহভাগই খেলাপি। এই বিশাল ব্যাংক জালিয়াতি ও তদন্তের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখার জন্য এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।