ইরান তার অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে। দেশটি বলেছে, বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা এই চাপের প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে, এমন আত্মবিশ্বাস তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন আলোচনার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “শত্রুদের একটি হামলার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, চীন বা রাশিয়া কেউই যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো “গ্রহণ” করেনি এবং অন্য দেশগুলোও এগুলো প্রতিহত করবে বলে তিনি আশা করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গতকাল সোমবার নতুন পদক্ষেপগুলো ঘোষণা করেন। তবে তিনি সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা থেকে বিরত থাকেন।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তবে কোন কোন দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বা এর জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। তিনি বলেন, নতুন নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান আব্বাস গোলরু বলেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “মনে হচ্ছে, মূল লক্ষ্য ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি পুনরুজ্জীবিত করা।” হোয়াইট হাউস বা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সোমবার ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকে ইরান শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে সাধারণভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তারা উদ্বেগও জানিয়েছে বলে পাকিস্তানি সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে।
ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “পাকিস্তান তাদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার একটি পর্ব শুরুর আগে অথবা আলোচনার সময় ওই সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তবে ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগে সন্দেহভাজন কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় রাখা হয়নি।
চীন কয়েক বছর ধরে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ পুনর্বহাল করার পর চীনে ইরানি তেল সরবরাহ কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী মাসে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে স্বাগত জানানোর আশা করছেন। ওয়াশিংটন চীনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ এড়াতে আগ্রহী।
চীন আজ মঙ্গলবার বলেছে, ইরানের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয় এবং এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়।