Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

প্রবাসী শ্রমিকদের টাকার খবর রাখে সবাই, মনের খবর রাখে কে?

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪৪
প্রবাসী শ্রমিকদের টাকার খবর রাখে সবাই, মনের খবর রাখে কে?
প্রবাসী শ্রমিক। ছবি: ফেসবুক

মুন্সীগঞ্জের রুমা আক্তার ২০১৮ সালে হাসপাতালে আয়ার কাজ করতে সৌদি আরব যান। কিন্তু যাওয়ার পর তাকে সৌদি আরবের একজন চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে যুক্ত করা হয়। টানা দুই বছর সেখানে তাকে অকথ্য নির্যাতনের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। রাতে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হতো মাত্র দুই ঘণ্টা। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে রুমা আক্তারকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুই বছরের বেতনের কানাকড়িও তাকে পরিশোধ করা হয়নি। দেশে ফিরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন রুমা।

Advertisement

২০২৩ সালে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়া যান নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ সেলিম। যাওয়ার পর তাকে দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ করানো শুরু করে তার নিয়োগকারী। পাইলিংয়ের কাজ জানতেন না সেলিম। কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করার পরও তাকে জোর করে পাইলিংয়ের কাজই করানো হয়। একদিন পাইলিংয়ের ১২ মিটার গভীর গর্তে পড়ে যান তিনি। শারীরিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন সেলিম। মনে ঢুকে পড়ে মৃত্যুভয়। সাত মাস পর দেশে ফেরার পরও সুস্থ হতে পারছিলেন না তিনি। চিকিৎসকরা তাকে প্যানিক অ্যাটাকের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রুমা ও সেলিম- দুজনই সরকারি ও বৈধভাবে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দিয়েছিলেন বিদেশে। কিন্তু দেশে ফেরার পর তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা কেউই বিবেচনা করেনি। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) সহায়তায় তারা এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

রুমা আর সেলিমের মতো এমন অসংখ্য প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফেরেন মানসিক স্বাস্থ্যের দুরাবস্থা নিয়ে। আহত, মৃত কিংবা জেল খেটে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা থাকলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের’ জন্য সরকারের কোনো দপ্তর থেকে সেবা দেওয়া হয় না।

শাহজালালে থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরafroza

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে বিদেশে গিয়েছেন। এই পাঁচ বছরে তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রায় ১৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈধ পথে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে সরকারের অন্যতম আয়ের উৎস হলো এই রেমিট্যান্স। অথচ প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮৮০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র শুন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরের গেটের বাইরে প্রবাসী কর্মীদের ভিড়। ছবি: চরচা
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরের গেটের বাইরে প্রবাসী কর্মীদের ভিড়। ছবি: চরচা

এত কম বরাদ্দ রাখার পরও আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করে ফিরে আসা বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকার থেকে সহায়তা পান। কিন্তু মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীরা কোনো ধরনের সহায়তা পান না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানসিকভাবে আহত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তা পেতে ‘অনেক সময় লাগবে’।

নারীরা বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার

২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার নারী শ্রমিক বৈধ পথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। ২০২৫ সালে ওকাপ অভিবাসী শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একটি গবেষণা করে। ২৫০ জন প্রবাস ফেরত কর্মীর ওপর করা এ গবেষণার ফলাফল উদ্বেগজনক।

গবেষণায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসইউ) কর্তৃক যাচাইকৃত ডিএএসএস (ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি অ্যান্ড স্ট্রেস) স্কেল ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা এই স্কেলের মাধ্যমে দেখা গেছে, প্রবাস ফেরত নারীদের মধ্যে বিষণ্নতার হার ৫৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, উদ্বেগের হার ৬৮ শতাংশ, আর তীব্র মানসিক চাপের হার ৩৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

ওকাপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী গৃহকর্মী নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। শারীরিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে চড়, ঘুষি, লাথি ছাড়াও গরম পানি বা ফুটন্ত তেল দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা সিঁড়ি থেকে ফেলে হাড় ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনাও আছে।

৮২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাদের ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত (গড়ে ১৮ ঘণ্টা) বিরতিহীনভাবে কাজ করতে হয়। প্রায় ৯৭ শতাংশ নারী প্রবাস জীবনে কোনো সাপ্তাহিক ছুটি বা বিশ্রামের সুযোগ পান না। এই বিরামহীন পরিশ্রম একজন মানুষকে কেবল শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও অসুস্থ করে তোলে।

এছাড়া ৮০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাদেরকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না। এমনকি অনেক সময় ফ্রিজ লক করে রাখা হতো। গৃহকর্তার বাড়ির সদস্যদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে বাধ্য করা হতো। ১৫ শতাংশ নারীকে ছোট ঘরে বা বাথরুমে দিনের পর দিন বন্দি করে রাখা হতো। এছাড়া, পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ফলে প্রবাস জীবনের একাকিত্ব তাদের ট্রমার দিকে ঠেলে দেয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৭ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে সরাসরি যৌন নিপীড়ন বা শোষণের শিকার হন। সামাজিক লজ্জা ও ‘স্টিগমা’র ভয়ে অনেকে এটি প্রকাশ করেন না। ফলে অনেকের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদী ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বা তীব্র ভীতি তৈরি হয়।

পুরুষরা ‘টাকা ছাপার মেশিন’

ওকাপের গবেষণা বলছে, কমপক্ষে ২৯ শতাংশ পুরুষ কর্মীর বিদেশ যেতে ৬ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। গন্তব্যে পৌঁছে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি কর্মী অনৈতিক নিয়োগের শিকার হন। এছাড়া, নানা ধরনের নির্যাতন বা বৈষম্যের শিকার হয়ে অনেকে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। অনেকে আবার ফিরে আসেন শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা ও পঙ্গুত্ব বরণ করে।

দেশে আসার পর বেশিরভাগ পুরুষ কর্মী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নিজের পরিবারের কারণে। বিদেশে পাঠানোর জন্য পরিবার যে টাকা বা সম্পদ ব্যয় করেছে, তা আর ফেরত পাবে না–এই আশঙ্কায় আর উদ্বেগে ভেঙে পড়েন প্রবাস-ফেরত পুরুষ শ্রমিকরা।

ওকাপের পরিচালক শাকিরুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “একটা গরিব ফ্যামিলি তাদের সর্বস্ব বিক্রি করে ঘরের পুরুষকে প্রবাসে পাঠায়। সে যখন অসুস্থ হয়ে ফিরে আসে- পরিবারই তাকে আরও মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। তাদের টাকা ছাপানোর মেশিন বন্ধ হয়ে গেল যে।”

ওকাপের গবেষণা ও ডিএএসএস স্কেলের উপাত্ত অনুযায়ী, মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে আসা প্রবাসীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই পুরুষ এবং তাদের অর্ধেকেরও বেশি (৫১ দশমিক ২৫ শতাংশ) মৃদু থেকে অতি তীব্র পর্যায়ের মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য সরকারের কার্যক্রম অপ্রতুল

প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চালু আছে। এর মধ্যে প্রধান হলো ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। তারা প্রবাসীদের মৃত্যু ও জটিল অসুস্থতায় আর্থিক সহায়তা দেয়। ২০১৯ সাল থেকে প্রবাসীদের জন্য বীমা ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা কিংবা বীমার টাকা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্তের মধ্যে পড়তে হয় প্রবাসীদের। শারীরিক অসুস্থতা, পঙ্গুত্ব, অঙ্গহানি, মৃত্যু হলে প্রবাসী বা প্রবাসীর পরিবার সহায়তা পায়। কিন্তু সরকারি এসব শর্তের কোনোটিতেই নেই মানসিক স্বাস্থ্যের কথা। মানসিকভাবে নির্যাতিত ও বিপর্যস্ত প্রবাসীরা দেশে ফিরে সরকারি সহায়তার আওতায় পড়েন না।

প্রবাস ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইস) প্রকল্প। এ প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে ৩৫টি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে কর্মীদের মানসিক অবস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য ‘সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিং’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু এখানে কোনো পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। সাধারণ মনোসামাজিক সেবা দেওয়া হয় প্রশিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সহায়তার জন্য ঢাকার নিউরোসায়েন্সে রেফার করে দেওয়া হয় প্রবাসী রোগীদের। এখানে এসে নিজ খরচেই চিকিৎসা নিতে হয়।

এছাড়া, বিশ্বের ২৮টি দেশে ৩১টি শ্রম কল্যাণ উইং আছে। যেসব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বেশি আছেন, সেসব দেশেই আছে এই উইং। কয়েকজন প্রবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব শ্রম কল্যাণ উইং কার্যত কোনো ধরনের সহায়তা করতে পারে না। প্রবাসী শ্রমিকদের সংখ্যার তুলনায় শ্রম কল্যাণ উইং ও এদের কর্মীদের সংখ্যা খুবই কম।

ছবি: বাসস
ছবি: বাসস

এ ব্যাপারে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ভূঞা চরচাকে বলেন, “বৈধভাবে যারা বিদেশে যায়, আমাদের সংস্থা তাদের যাবতীয় বিপদ-আপদে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে, যদি শর্ত মেলে। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক আছে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য। অসুস্থতা, অঙ্গহানি- ইত্যাদির জন্য দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। মারা গেলে আমরা তিন লাখ টাকা দিই, আর বীমার ১০ লাখ টাকা পায়। তবে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কোনো পেশাদার সেবা এখনো আমরা দিতে পারিনি। আমাদের এখানে ডাক্তার থাকে। তারা মানসিক রোগী পেলে ভালো জায়গায় রেফার করে দেয়।”

শ্রম উইং নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সৌদিতে ২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করে। শ্রম উইং আছে দুইটা। এত মানুষের সেবা দিতে হলে দুইটা শ্রম উইং তো যথেষ্ট না। তারা প্রবাসীদের সাহায্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।”

পুনর্বাসনের কাজে এগিয়ে আসছে এনজিও

দেশের বেশ কয়েকটি এনজিও কাজ করে প্রবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য। এর মধ্যে একটি ওকাপ। ওকাপের পরিচালক শাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শ্রম উইংগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক পয়সাও বাজেট থাকে না। এটা পুরোটাই চালিত হয় প্রবাসীদের টাকায়। বৈধভাবে যারা যায়, তাদের থেকে ওয়েলফেয়ারের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা রাখা হয়। এই টাকা দিয়েই ২৮টি দেশে শ্রম উইং পরিচালিত হয়। আর এই ৩ হাজার ৫০০ টাকা এখন থেকে না। সেই আশির দশক থেকে রাখা হয়। এবার আশির দশক থেকে এখন পর্যন্ত হিসাব করে দেখুন, কত প্রবাসী এই টাকা দিয়েছে। কত হাজার কোটি টাকা হয়েছে! আর বিনিময়ে প্রবাসীরা কী পেয়েছে?”

তিনি বলেন, “আমরা শত শত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ভিকটিম নিয়ে কাজ করেছি। তাদের একজনও বলেনি যে, শ্রম উইং তাদের কোনো ধরনের সাহায্য করতে পেরেছে। বরং শ্রম উইংয়ের নজরে যে রিক্রুটিং এজেন্সি থাকার কথা- সেই এজেন্সির প্রতিনিধির কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে আরও নির্যাতিত হওয়ার নজিরও আছে।”

প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওকাপ ছাড়াও ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইওএম বাংলাদেশ, বিসিএসএমের মতো কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট বিধান না থাকার কারণে লাখো প্রবাসী দেশে ফিরে বরণ করে নিচ্ছে মানসিক পঙ্গুত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান চরচাকে বলেন, “প্রবাস ফেরত কর্মীদের এই গভীর মানসিক সংকট নিরসনে আমি মনে করি সরকারের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন করা। শুধু রেমিট্যান্সের দিকে না তাকিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ট্রমার শিকার কর্মীদের সুরক্ষায় আমাদের আইওএমের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে একটি টেকসই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”

সরকারকে প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়ে এই মনোবিদ বলেন, “প্রাক-অভিবাসন পর্যায়ে দালালদের অসাধু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি দেশে ফিরে আসা নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দসহ শেল্টার হোম নির্মাণ এবং দক্ষ সাইকিয়াট্রিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের মাধ্যমে নিবিড় ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। বর্তমানে এনজিওগুলোর সীমিত পরিসরের সেবার ওপর নির্ভর না করে একটি শক্তিশালী সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এই জাতীয় মানসিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিষয়: নির্যাতনপ্রবাসীহাসপাতালগৃহকর্মীশ্রমিক
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

  • ২

    ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

  • ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

  • ৪

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

  • ৫

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

সম্পর্কিত
  • দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের এই অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে বাড়বে দক্ষতা, কমবে জাহাজের অবস্থানকাল এবং আয় বাড়বে বন্দরের।

  • বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    রাজধানীর দোকানে দোকানে ঘুরে এলপি গ্যাস পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কোনো দোকানে পাওয়া গেলে তার জন্য গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা। অভিযোগ ছিল, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হয় এলপি গ্যাস। যদিও তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স

  • গবেষণার নতুন নিয়মে আপত্তি কেন শিক্ষকদের?

    গবেষণার নতুন নিয়মে আপত্তি কেন শিক্ষকদের?

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলতি অর্থ-বছরের বাজেটে গবেষণায় কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গবেষণায় বরাদ্দে নতুন নিয়ম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এখন থেকে ইউজিসি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে তহবিল দেবে।

  • ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাভ আসলে কেমন? নিয়ন্ত্রণ কার?

    ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাভ আসলে কেমন? নিয়ন্ত্রণ কার?

    রাজধানীর গলি থেকে আবাসিক সড়ক, বাজার, এমনকি প্রধান সড়কও এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে। ‘অটোরিকশা’ নামেই বেশি পরিচিত এই রিকশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।