নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পাহাড়ি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ন্যূনতম ৪০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, উত্তর নেপালের পাহাড়ি ভোতেকোশি নদীতে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তিব্বত সীমান্ত থেকে তীব্র গতিতে পানি নেমে এলে এই প্লাবনের সৃষ্টি হয়। বন্যার প্রভাবে সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চলায় প্রাণহানি ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ এ পর্যন্ত ৯৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকার দুই পাশেই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ২৯১ জন বিদেশি পর্যটক এবং গাইডসহ ৯৩ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের তালিকায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিকরা রয়েছেন।
দুর্যোগের ফলে রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সব ধরনের যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
গত বছরও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ গলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় রাসুয়া এলাকায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবারের এই দুর্যোগ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।