
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সিরে দিয়ালো নামে এক নারী জানান, তার পাঁচ সন্তানই নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। এখন আমি শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করতে পারি।”

সি চিনপিং দুর্যোগ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্যোগের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানের কাছে টাইফুন ডলফিন স্থলভাগে আঘাত হানে।

প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস পেংহুই কাউন্টিতে। ভূমিধসের পর এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উজিয়ান নদীর তীরঘেঁষা খাড়া পাহাড়ে গড়ে ওঠা বহু বসতি এই দুর্যোগে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

প্রবল বৃষ্টির কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাজৌরির নতুন বাসস্ট্যান্ডের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র স্রোতে কয়েক ডজন যানবাহন ভেসে গেছে এবং আরও অনেক যান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তার আশপাশের এলাকায় সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও খাড়া চাপ পার্থক্যের প্রভাবে গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত চলছে।

রোহিঙ্গা কোঅর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে কক্সবাজারের গুলোতে আবহাওয়া-জনিত কারণে ২৮৬টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৬ হাজার ১১৯ জন শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনায় ৪ হাজার ৩০৭ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

চট্টগ্রামে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছু সময় থেমে থেমে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছূটি ঘোষণা করা হয়। তবে অফিসগামী মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ও যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় থানচির দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটনকেন্দ্রে এখনো শতাধিক পর্যটক আটকা রয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যেকোনো সময় ঝুঁকির শঙ্কা বেড়েছে। এই অবস্থায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের বান্দরবানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

সোমবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৮ ঘণ্টার এক বুলেটিনে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকার একটি বস্তিতে দুই থেকে তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। এতে পাঁচ শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক ধসের ঘটনা ঘটেছে। সড়কের একাংশ একটি দোকানসহ ধসে পড়ে যায়। ২১ জুন (২০২৬) রাতে মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ৫ নম্বর রোডে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিও: মাহিন আরাফাত

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল ভূমিধস জয় পেয়েছে। এর ফলে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। খবর আল জাজিরার।

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত ও ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। টানা ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ব্যাপক ভূমিধসের পর শ্রীলঙ্কায় চলমান যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়জনিত ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে, নিখোঁজ শতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

কলম্বো ও আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিতে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।