
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেটে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অধিকাংশ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও, নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এরইমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী ৩টি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও ওই এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে, দেশজুড়ে যে বৃষ্টি ঝরছে, তা সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় দেশের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে (মেঘালয়) ১০৯ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে (২০৩ মিমি)।

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে ফের বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। নীলফামারীর ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফুলগাজীর বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, সবচেয়ে ভয় লাগে গভীর রাত নিয়ে। কখন যে বাঁধ ভেঙে ঘরের ভেতর পানি চলে আসে, সেই আতঙ্কে চোখের পাতা এক করতে পারছি না।

এফএফডব্লিউসি জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সিলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন সব জেলার আজ বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, ‘‘জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’’

তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ করে পানি বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের জীবনরেখা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই নদীই হয়ে উঠেছে ভাঙন, বন্যা আর পানিসংকটের প্রতীক। আর সেই সংকট থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ কারণে ৫ জেলায় বন্যা নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ কারণে ৫ জেলায় বন্যা নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।