থাইল্যান্ডে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যায় ৩৩ জনের মৃত্যু

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
থাইল্যান্ডে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যায় ৩৩ জনের মৃত্যু
বন্যায় প্লাবিত থাইল্যান্ডের হাত ইয়াই শহর। ছবি: রয়টার্স

টানা ‍বৃষ্টিপাতের কারণে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক বছরের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারের মুখপাত্র সিরিপং অ্যাংকাসাকুলকি।

তিনি জানিয়েছেন, ভূমিধস ও বিদ্যুতায়িত হয়ে এসব প্রাণহানি ঘটেছে।

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ৯টি প্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী মালয়েশিয়ার ৮টি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এবারের বন্যায় ভুগছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশে অবস্থিত হাত ইয়াই শহরে শুক্রবার একদিনেই ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণে ত্রাণসামগ্রীবোঝাই ১৪টি জাহাজ ও একটি বিমানবাহী জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এর সঙ্গে হেলিকপ্টার, চিকিৎসক, ত্রাণসামগ্রীও যাবে। একটি ফিল্ড কিচেনও থাকছে, যা দিনে তিন হাজার মিল সরবরাহ করতে পারবে।

থাইল্যান্ডে ইতোমধ্যে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র ১৩ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না ।

সংখলা প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, নৌকা, উচ্চ চাকার যানবাহন এবং জেটস্কি দিয়ে মানুষজনকে উদ্ধার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সংখলাকে দুর্যোগ অঞ্চল ঘোষণা করেছে সরকার, যাতে দ্রুত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া যায়।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাত ইয়াই শহরের মাচিমা উদ্ধারকেন্দ্রে কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “গত তিন দিন ধরে হাজার হাজার মানুষ একের পর এক ফোন দিয়ে যাচ্ছে, অনেকে চাইছে যেন তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়, কেউ কেউ চাইছে খাবার।”

এলাকাগুলোর অনেক বাসিন্দা ফেসবুকেও সাহায্যের আবেদন করছেন। একজন লিখেছেন, “এখন প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। দয়া করে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমার ফোনে মাত্র ৪০% চার্জ আছে। সবাইকে ধন্যবাদ।’’

টানা বৃষ্টিপাত থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তাণ্ডব চালিয়েছে। ভিয়েতনামে গত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের, আর মালয়েশিয়ায় ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সম্পর্কিত