ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ এবার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সামনে এনেছে। তবে এবারের কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। লক্ষ্য শুধু ইরান নয়; তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়া তৃতীয় দেশ, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক নেটওয়ার্ককেও চাপের আওতায় আনা।
গত সোমবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই নতুন অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ঘোষণা করেন। তার ভাষায়, এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি আর্থিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করা। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে প্রায় ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও জাহাজ চলাচলের মতো খাতও এবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
বেসেন্ট এই অভিযানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নরম্যান্ডি অবতরণের সঙ্গে তুলনা করে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই তুলনার মধ্যেই কৌশলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা লুকিয়ে আছে। নরম্যান্ডির সামরিক অভিযানের সাফল্যের জন্য চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু ইরানের অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ওয়াশিংটনের নেই। কারণ ইরানের তেল রপ্তানির বিপুল অংশের প্রধান ক্রেতা চীন। ফলে বেইজিংকে পাশ কাটিয়ে তেহরানের রাজস্বের প্রধান উৎস বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন।
ডেভিড ই. স্যাঙ্গারের লেখা নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণের মূল প্রশ্নটিও এখানেই—ইরানের অর্থনীতিকে সত্যিকার অর্থে বিচ্ছিন্ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করতে প্রস্তুত? আর চীনই বা কতটা সেই চাপ মেনে নেবে?
সামরিক ব্যর্থতার পর অর্থনৈতিক পথে প্রত্যাবর্তন
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতিকে বুঝতে হলে সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকাতে হবে। ওয়াশিংটন প্রথমে সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়নি। হরমুজ প্রণালির সংকটও পুরোপুরি মেটেনি। ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি এখন আবার অর্থনৈতিক চাপকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। এখানেই ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য দেখা যায়। নিষেধাজ্ঞা সাধারণত সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক চাপের পর আবার নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ ওয়াশিংটন এখন একই সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে, অথচ কোনো একটি পথই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফল এনে দিতে পারেনি।
ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো, সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোকে দুর্বল করেছে এবং এখন অর্থনৈতিক চাপ সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগাবে। বেসেন্টও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক, তেল বিক্রির পথ এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থাগুলো চিহ্নিত করেছে। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়: সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যদি কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে?
পুরনো অস্ত্র, নতুন মাত্রা
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপের ইতিহাস দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার হতে থাকে। পরে বারাক ওবামা প্রশাসন বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞাকে কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে। সেই চাপের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো, রাশিয়া ও চীনসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছায়।
চুক্তিটির মূল কাঠামো ছিল পরিষ্কার-ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে, বিনিময়ে তার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে।
কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি চালু করেন। লক্ষ্য ছিল ইরানের অর্থনীতিকে এতটা দুর্বল করা, যাতে তেহরান নতুন ও আরও বিস্তৃত চুক্তিতে যেতে বাধ্য হয়।
সেই নীতি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমাধান আনতে পারেনি। বরং ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করে, তেল বিক্রির নতুন পথ খুঁজে নেয় এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করে। ফলে বর্তমান উদ্যোগ একই পুরোনো কৌশলের আরও কঠোর সংস্করণ হলেও তার সামনে একই প্রশ্ন—নিষেধাজ্ঞা কি রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ ঘটাতে পারে?
চীনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
এবারের পরিস্থিতিকে আলাদা করে তুলেছে চীনের ভূমিকা। ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি চীনে যাওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে। কিছু বিশ্লেষণে এই অনুপাত ৯০ শতাংশের কাছাকাছি বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ইরানের তেল বিক্রির প্রধান বাজার যদি কার্যত চালু থাকে, তাহলে শুধু ব্যাংক, জাহাজ, মধ্যস্থতাকারী কিংবা ছোট দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেহরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন পুরোপুরি কেটে দেওয়া কঠিন।
এই জায়গায় এসে দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হলো—যে দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ ওয়াশিংটন সরাসরি শুধু ইরানকে নয়, ইরানের সঙ্গে যুক্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করছে।
বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। চীনা ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সতর্কবার্তার বাইরে নয়। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়নি। ২৪ আগস্টের নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চীনা ও হংকংভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও চীনের বড় রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক আঘাত হানা হয়নি।
এখানেই ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত দ্বিধা।
চীনকে চাপ দিলে উল্টো বিপদ
ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক এমনিতেই বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, শিল্প উৎপাদন ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতায় পূর্ণ।
এই অবস্থায় চীনের বড় ব্যাংক বা জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ইরানের ওপর চাপ বাড়তে পারে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে মার্কিন-চীন সম্পর্কও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। এমনকি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব লক্ষ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই ওয়াশিংটনের সামনে এক ধরনের কৌশলগত ফাঁদ তৈরি হয়েছে। ইরানকে দুর্বল করতে চীনের ওপর চাপ দিতে হবে; কিন্তু চীনের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণেই বেসেন্টের বক্তব্যে একদিকে ‘কেউ নিষেধাজ্ঞার ঊর্ধ্বে নয়’ ধরনের কঠোর বার্তা থাকলেও অন্যদিকে চীনকে সরাসরি লক্ষ্য করে কোনো সর্বাত্মক পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি।
নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন
ইরানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিনিয়োগ কমিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
চীন, রাশিয়া ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা, ছায়া-বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং তেল পরিবহনের বিভিন্ন কৌশল ইরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে দেয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু দুর্বল অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ-এই দুটি বিষয় এক নয়।
এখানে আরও একটি ঝুঁকি আছে। তেলের সরবরাহ কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু ইরানের ওপর পড়ে না; বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরও তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচু অবস্থানে রয়েছে।
অর্থাৎ ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
‘রেজিম চেঞ্জ’ কি আবার লক্ষ্য?
ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান বক্তব্যে সরাসরি সরকার পরিবর্তনকে আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে ঘোষণা করা না হলেও, অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ অতীতে সর্বোচ্চ চাপ নীতির সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক আচরণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা যুক্ত ছিল।
বর্তমান কৌশলেও একই ধরনের ধারণা রয়েছে—অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়বে, তত ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
কিন্তু ইতিহাস এখানে সতর্ক করে দেয়। অর্থনৈতিক দুর্দশা সবসময় সরকার পতন ঘটায় না। অনেক ক্ষেত্রে তা জাতীয়তাবাদকে আরও শক্তিশালী করে এবং জনগণের মধ্যে বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মনোভাব তৈরি করে। ইরানের মতো দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা-অভিজ্ঞ একটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি চীনকে ঘিরেই
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ আসলে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান নয়। এটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আর্থিক ক্ষমতার একটি পরীক্ষা। মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞার ক্ষমতা ব্যবহার করে ওয়াশিংটন কতটা দূর পর্যন্ত অন্য দেশগুলোকে নিজের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে বাধ্য করতে পারে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
আর সেই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চীন।
বেইজিং যদি ইরানের তেল কেনা, আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, তাহলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু চীন যদি বিকল্প পদ্ধতিতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক অবরোধে বড় ফাঁক থেকে যাবে।
চীন ইতিমধ্যেই একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে বেইজিং যে সহজে ওয়াশিংটনের দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে, এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো নেই। বরং ইরানের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অভিযানকে ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখলে বিষয়টির গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি আসলে তিনটি শক্তির মধ্যে এক জটিল কৌশলগত পরীক্ষার সূচনা—ওয়াশিংটন, তেহরান ও বেইজিং।
ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার মতো ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। কিন্তু ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। সেখানে চীনের ভূমিকা অপরিহার্য। আর চীন যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হয়তো ইরানের জন্য অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর করবে, কিন্তু তেহরানকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক আত্মসমর্পণে বাধ্য করার মতো নির্ণায়ক অস্ত্র হয়ে উঠবে না।
এ কারণেই ট্রাম্পের নতুন কৌশলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ইরান নয়—চীন। ওয়াশিংটন কতটা বেইজিংকে চাপ দিতে পারে এবং বেইজিং কতটা সেই চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত-তার ওপরই নির্ভর করবে এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিণতি।