
ফুটো হয়ে যাওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিপুল পরিমাণ তেল ওমানের উপকূলের দিকে আসতে শুরু করেছে বলে দেশটির পরিবেশ সংস্থা নিশ্চিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ তেলদূষণের ঘটনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে

বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চার দশকের বেশি সময় ধরে আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিতরণে প্রধান নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসির পাশাপাশি এবার সরাসরি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া মানে শুধু তেল পরিবহনে সমস্যা নয়—এর প্রভাব পড়ে পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিল্প, সার উৎপাদন এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। কিন্তু বিশ্ব বসে থাকেনি। সংকট শুরু হওয়ার পর একে একে কয়েকটি বিকল্প সামনে আনা হয়েছে।

দেশের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে চাইছে সরকার। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ খাতের বেসরকারিকরণে তড়িঘড়ি করে নীতিমালা তৈরির এ উদ্যোগ নিয়ে

বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুক্তাঙ্গনে পূর্ব ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

বেশ কয়েক বছর ধরে একটা কথা শোনা গিয়েছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু গত পাঁচ মাসের যুদ্ধ দেশটির শাসকদের বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের হাতে এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী অস্ত্র আছে। সেটি হলো ভৌগোলিক অবস্থান। ইরানের অবস্থান ও সামরিক শক্তির কারণে দেশটি হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই জোট? কেন লোহিত সাগর এখন বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে মাসজুড়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পথেই রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

আগস্ট মাসের জন্য ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের খুচরা বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ৩১ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়

গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ৪৫ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ১৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়ায়।

গত সপ্তাহে হুতিরা লোহিত সাগর ছেড়ে যাওয়া অন্তত দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ সপ্তাহে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাতেও হামলা করেছে। ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ইরানের দাবি, জাহাজগুলোকে কেবল হরমুজ প্রণালির সেই নৌপথ দিয়েই চলাচল করতে হবে, যা তাদের উপকূলের কাছাকাছি এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে তারা ট্রানজিট ফিও আদায় করতে চায়।

হুতি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার জাহাজ মালিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সৌদি তেল বোঝাই বা খালাস করে, এমন যেকোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে।

সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহযোগ্য উত্তর সাগরের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়, যা এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরে দাম কিছুটা কমে ৯০ দশমিক ২০ ডলার প্রতি ব্যারেলে লেনদেন হয়।

পেট্রোবাংলার অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানি তেল বর্তমানে দেশের পেট্রোলের ৩০-৩৫ শতাংশ, অকটেনের ১২-১৫ শতাংশ, ডিজেলের প্রায় ৯ শতাংশ এবং কেরোসিনের প্রায় ২ শতাংশ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।

হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির একযোগে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর। কারণ এই দুটি চোকপয়েন্ট একে অপরের সাথে সংযুক্ত ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে জ্বালানি বাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে তেল ও গ্যাসের চালান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জ্বালানির দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।

ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গতকাল সোমবার জানান, ৬০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ সোমবার ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে। ফলে এই তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৩ ডলার ৭৫ সেন্টে।