নতুন করে তিনটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের ঘোষণাকে ‘আত্মহননকারী সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলছেন, শুধু আমদানির দরজা আরও বড় করলেই গ্যাস সংকট মিটবে না। বরং এতে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গ্যাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাতে দৃশ্যমান বিকল্প দুটি। এক মাটির নিচ থেকে তোলা দেশীয় গ্যাস। আর দু্ই, জাহাজে করে বিদেশ থেকে আনা এলএনজি। গত অর্থবছরে দেশের মোট গ্যাসের ৭০ শতাংশ এসেছে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে, যার পেছনে খরচ হয়েছে ৫৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বাকি মাত্র ৩০ শতাংশ এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে। অথচ তার পেছনে খরচ হয়েছে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অর্থাৎ কম পরিমাণ গ্যাসের জন্য প্রায় আট গুণ বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।
এফএসআরইউ বিশেষভাবে তৈরি বা রূপান্তরিত জলযান, যা সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) গ্রহণ করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
২০১৮-১৯ অর্থবছরে যখন প্রথম এলএনজি আমদানি শুরু হয়, তখন খরচ হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। আট বছরের ব্যবধানে সেই খরচ এখন বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট এলএনজি আমদানিতে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ভর্তুকির বোঝা ও মানুষের ওপর চাপ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা দাম বাড়িয়ে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনে সরকার। এরপর তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মাঝেই বাংলাদেশের ইতিহাসে শতকরা হিসাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো। এবার, গ্যাস সংকটে ত্রাহি অবস্থা সারা দেশে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রান্নাঘর থেকে শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সব ক্ষেত্রে।
গ্যাস সংকট মেটাতে অবশ্য সরকার এবার দাম বাড়াচ্ছে না। তবে, সংকট সমাধানে চীনের কাছ থেকে একটিসহ মোট চারটি ভাসমান এলএনজি টার্মিটাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শেষ বিচারে উচ্চ মূল্যের এই আমদানি করা গ্যাসের দাম শেষ পর্যন্ত ভোক্তা কাঁধেই পড়বে।
সরকার এই বাড়তি খরচের পুরোটা সরাসরি জনগণের কাছ থেকে আদায় করতে পারে না। ভর্তুকি দিয়ে এই চাপ সামাল দেয়। গত আট বছরে গ্যাস খাতে সরকারকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি গুনতে হয়েছে। ভর্তুকির টাকা জোগাড় করতে সরকার দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে—আট বছরে সাতবার। শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৪১৫ শতাংশ, আর ২০২৩ সালে এক লাফে বেড়েছিল ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত। তবু সংকট কাটেনি। কারখানায় গ্যাসের চাপ কম, বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চলতে পারছে না, সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ থমকে যাচ্ছে, ঘরে ঘরে মানুষ বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগা এবং বৈরি আবহাওয়ার কারণে দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় তীব্র গ্যাস সংকট চলেছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক—সব খাতেই। এই ঘটনা প্রমাণ করে, একটিমাত্র স্থাপনায় সমস্যা হলেই পুরো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা নাজুক হয়ে পড়তে পারে।
দেশে বর্তমানে মাত্র দুটি এলএনজি টার্মিনাল আছে, যাদের দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া বাবদ প্রায় ৩ লাখ ডলার খরচ হয় বলে জানা গেছে। গ্যাস আসুক বা না আসুক, এই ভাড়া দিতেই হয়।
তবুও নতুন টার্মিনাল
বর্তমানে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি টার্মিনালের বাইরে আরও একটি টার্মিনাল স্থাপনে সামিটের সাথে চুক্তি করেছিল দুই বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থাপন করতে যাওয়া ওই টার্মিনালের চু্ক্তি বাতিল করে দেয় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে, এখন মহেশখালীতে তৃতীয় একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে বিএনপি সরকার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পটুয়াখালীর পায়রা, বাগেরহাটের মোংলা ও খুলনার হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সেমিনারে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কিন্তু জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। নতুন এই টার্মিনালগুলো নির্মাণ ও চালু হলে সরকারের গ্যাস আমদানি ব্যয় বেড়ে এখনকার দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। অথচ বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের কারণে যে বড় ব্যয়ের বোঝা তৈরি হয়েছে তা অর্থনীতিতে চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তা প্রকটভাবে দেখিয়ে দিয়েছে এবারের সংকট।
অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কী বলছে
বাংলাদেশ একা নয়, একই পথে হেঁটে বিপদে পড়েছে আরও কয়েকটি দেশ। পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছিল বিদেশি টার্মিনাল অপারেটরদের সঙ্গে, যেখানে শর্ত ছিল, গ্যাস আসুক বা না আসুক, ভাড়া বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ প্রতিদিন দিতেই হবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে যখন কাতার থেকে জাহাজ আসা বন্ধ হয়ে যায়, তখনও পাকিস্তানকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ডলার গুনতে হয়েছে, যদিও একদিনও গ্যাস আসেনি।
মিশরও নিজস্ব উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রতি বছর শত শত কোটি ডলারের এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে, যা দেশটির আগে থেকেই সংকটাপন্ন অর্থনীতিতে আরও চাপ ফেলছে। আবার ভিয়েতনাম বড় বড় এলএনজি টার্মিনাল বানিয়েছিল এই ভেবে যে, চাহিদা দ্রুত বাড়বে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সময়মতো না হওয়ায় সেসব টার্মিনাল এখন প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
এই তিন দেশের অভিজ্ঞতা একটি বিষয়ই বারবার সামনে আনে, শুধু আমদানির অবকাঠামো বাড়ালে সংকট মেটে না, বরং সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া তা দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় বোঝা যোগ করে।
সমাধান দেশের গ্যাসে
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিম চরচাকে বলেন, “দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকটের বাস্তবতায় শুধু এলএনজি আমদানি কিংবা টার্মিনাল নির্মাণ করলেই হবে না। পাশাপাশি গ্যাস খাতে অনুসন্ধানে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। স্থল ও সাগরে আরও বেশি গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা দেখাতে হবে।”
দেশে গ্যাস খাতে এখন চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। ছবি: ইউএনবি
দেশে গ্যাস খাতে এখন চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। সামনের বছরগুলোতে এই ঘাটতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কথার ফুলঝুরিতে সমস্যার সমাধান হবে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করতে হবে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, “স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকেই দ্বায়িত্ব দিতে হবে। তারা প্রয়োজনে বাইরে থেকে এক্সপার্ট আনবে, রিগ ভাড়া করবে বা কিনবে; যা তাদের দরকার। তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। তারপর দেখবে বাপেক্স কেন পারল না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন জটিল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আমদানির পথে হাঁটার নীতি যে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করে তা এখন দৃশ্যমান।
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ। গত দুই যুগে সরকার গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করেছে ৮ হাজার কোটি টাকা। যেখানে শুধু গত আট বছরে এলএনজি আমদানিতেই খরচ হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। তুলনা করলে বোঝা যায়, আমদানিতে যে টাকা খরচ হচ্ছে তার একটি ছোট অংশ যদি নিজস্ব অনুসন্ধানে ঢালা হতো, তাহলে হয়তো এত বড় আমদানি-নির্ভরতা তৈরিই হতো না।
টুডি জরিপ দরকার নাকি থ্রিডি?
পেট্রোবাংলার চলমান ৫০ কূপ খনন প্রকল্প থেকেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক কূপ খনন করে গ্যাস পাওয়া যায়নি, আবার কিছু কূপে শুরুতে ভালো উৎপাদন থাকলেও এখন তা কমে যাচ্ছে। এর একটি বড় কারণ পুরনো পদ্ধতিতে করা জরিপ।
গ্যাস অনুসন্ধানে দুই ধরনের ভূকম্পন জরিপ ব্যবহার হয়—দ্বিমাত্রিক (টুডি) ও ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি)। টুডি জরিপ মাটির নিচের গঠন সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দেয়, কিন্তু গ্যাসের সুনির্দিষ্ট মজুত নিশ্চিত হতে থ্রিডি জরিপ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। দেশে এখন পর্যন্ত দ্বিমাত্রিক জরিপ হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৪৩ লাইন কিলোমিটার এলাকায়, আর ত্রিমাত্রিক জরিপ হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায়—অর্থাৎ থ্রিডি জরিপ এখনো অনেক পিছিয়ে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব চরচা’কে বলেন, “থ্রিডি সার্ভে বেশি করা গেলে আমাদের কূপগুলোয় কী পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি গ্যাসের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুর্তজা আহমদ ফারুক বলেন, “স্থানীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ডিপ ড্রিলিং অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা—যেখানে পুরনো তথ্য-উপাত্তে গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে, সেগুলোয় অনুসন্ধান শুরু করতে হবে।”
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, “কূপ খনন এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি। এখন যদি কূপ খনন করে গ্যাস না পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে ডেটা-সংক্রান্ত বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে।”
সমস্যা আরও গভীর হয় যখন দেখা যায়, কূপ খননের জন্য পর্যাপ্ত রিগও নেই। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি রিগ কূপ খননের কাজ করছে, আরও দুটি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মাত্র।
সমাধানে কী প্রয়োজন
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি অবধারিতভাবেই সার্বিক অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, অস্থির না হয়ে অর্থনীতি ও ভবিষ্যত বিবেচনায় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গ্যাস প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে, ক্রমবর্ধমান এলএনজি আমদানি খরচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশ্বব্যাংকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান, মিশর ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা এবং দেশের নিজস্ব আট বছরের হিসাব মিলিয়ে দেখলে একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শুধু আমদানি বাড়িয়ে সাময়িক সংকট মেটানো যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা দেশকে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি আর ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।
নতুন তিন-চারটি টার্মিনালের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাই নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ ও বিকল্প জ্বালানি উৎস বাড়ানোর দিকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা—না হলে জ্বালানি নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।