গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সামনে আসে রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার, নির্বাচন ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের নানা প্রতিশ্রুতি।
ওই সময়ে মব সহিংসতা, মাজারে হামলা-ভাঙচুর এবং ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভেঙে ফেলার মতো ঘটনাগুলো জনমনে হতাশা তৈরি করেছিল। পাশাপাশি নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও কাটছিল না। রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই তীব্র হয়, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, ভোট পড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন এবং মিত্রদের নিয়ে ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর একটি নির্বাচিত সরকার ফিরে আসায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে?
নির্বাচনের পর ‘স্থিতিশীলতার সূচনা’
বিএনপির জোটসঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, নির্বাচিত সরকার গঠনের পর আগের তুলনায় দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে।
তার মতে, প্রায় ১৭ বছর পর ভোটের মধ্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একটি নির্বাচিত সরকার তার রাজনৈতিক ও নৈতিক শক্তি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে- এটাই স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
চরচাকে সাইফুল হক বলেন, “রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদের ব্যাপক গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিরোধী দলের সমাবেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। গণমাধ্যমও তুলনামূলক স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে।”
সাইফুল হক মনে করেন, ‘কিছু দুর্বলতা’ থাকলেও নির্বাচিত সরকারের প্রতি দেশের ভেতরে-বাইরে বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে আস্থার জায়গা তৈরি হচ্ছে।
তবে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের চরমপন্থী তৎপরতার আশঙ্কা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত এবং বাইরের নানা চাপ মোকাবিলার ওপর ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে বলে তিনি মনে করেন।
‘নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি’
তবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তার মতে, নির্বাচন, সংসদ ও নির্বাচিত সরকার থাকা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি অংশ মাত্র। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন এবং গণভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন করাই সরকারের বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “সেই জায়গায় সরকার এখনো সফল হয়নি।”
জুবায়েরের অভিযোগ, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বদলে সরকার দলীয়করণ এবং নিজেদের নেতা-কর্মীদের আখের গোঁছানোয় বেশি ব্যস্ত। ফলে নির্বাচিত সরকার এলেও মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও হতাশা রয়ে গেছে।”
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের বিপরীতে বাস্তবে ‘সবার আগে বিএনপি’- এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ এই জামায়াত নেতার।
রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে?
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা। এ ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান পুরোপুরি স্বস্তির ছবি দেখাচ্ছে না।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-জুন ২০২৬- এর হিসাব অনুযায়ী, এই ছয় মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ৮৩০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৬ জন নিহত এবং পাঁচ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন।
গত বছরের একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৫২৯টি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতেই ২৭৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ২৯০টি, বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে ৩৩টি এবং বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে আরও ৯৭টি সংঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ, জাতীয় পর্যায়ে সরকার পরিবর্তন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার বৈধতা প্রতিষ্ঠা হলেও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
নির্বাচন ঘিরেও সহিংসতা
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতিও সবসময় শান্ত ছিল না।
এইচআরএসএসের হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচন সামনে রেখে এবং নির্বাচনের পর মিলিয়ে ৩৯৬টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩ জন নিহত এবং দুই হাজার ৫৭৮ জন আহত হয়েছেন। ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট বা অগ্নিসংযোগের ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি।
তবে জাতীয় নির্বাচনটির সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়নও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং জামায়াত পায় ৬৮টি আসন।
ফলে নির্বাচন নিয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের একটি নিষ্পত্তি হলেও নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।
স্থানীয় সরকারে দলীয় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
সরকারের ছয় মাসে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বড় জায়গা স্থানীয় সরকার। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকাসহ ছয় সিটি করপোরেশনে বিএনপির নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে ৪২টি জেলা পরিষদেও বিএনপি নেতাদের প্রশাসক পদে বসানো হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক করলে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমবে এবং সেবা আরও কার্যকর হবে।
কিন্তু এ সিদ্ধান্তে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। জামায়াত ও এনসিপি এর বিরোধিতা করে। জামায়াতের অভিযোগ ছিল, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে যে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এমনকি জুলাইয়ের শেষ দিকে ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন মহল। এসব নিয়োগ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ না করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের অভিযোগের মূল জায়গাটিও এখানেই- সরকার জনগণের প্রত্যাশার চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচন এখনো বড় প্রশ্ন
নির্বাচিত সরকার আসার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সেটিও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- এমনটিই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরও সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি ফেরানোর বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
জামায়াতের বক্তব্য, প্রশাসক নিয়োগের পরিবর্তে দ্রুত গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক অনাস্থার জায়গা তৈরি হচ্ছে।
জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন, কিন্তু কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এটা অস্থিরতার একটা কারণ। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, জ্বালানির ভয়াবহ সংকট, হামে আক্রান্ত হয়ে সাত শ’র ওপর শিশুর মৃত্যু, সবকিছুই জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, এদিকে স্বাভাবতই মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য এ সকল কিছু দায়ী বলে আমরা মনে করি।”
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “তারা নিজেদের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নে ব্যস্ত আছেন। জনগণের প্রতি তাদের কোনো সম্মান আছে বলে মনে হচ্ছে না। স্থিতিশীলতা না আসার এটা প্রধান কারণ।’’
বাজারে স্বস্তি কতটা?
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শুধু সংসদ বা রাজপথের বিষয় নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতিও সরাসরি যুক্ত।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাদের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার কথা ছিল। কিন্তু ছয় মাস পরও মূল্যস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। মে মাসে এটি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছুটা কমলেও টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল।
অর্থবছর ২০২৫-২৬ শেষে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে নেমেছে। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী হিসাবে কিছুটা উন্নতি হলেও সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি এখনো বড় চাপ হিসেবেই রয়ে গেছে।
শপথ নিচ্ছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ছবি: স্ক্রিনশট
জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট
জ্বালানি সরবরাহও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। আগস্টে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
কিন্তু শুধু দাম অপরিবর্তিত থাকাই পরিস্থিতির পুরো চিত্র নয়। আগস্টে গ্যাসের ঘাটতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপের কারণে সরকারকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে। ফলে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল্যায়নে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও বড় সূচক হয়ে উঠেছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে চাপে থাকা সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘অগ্রগতির’ কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন সরকারপ্রধান।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ চরচাকে বলেন, “যে অবস্থায় দেশের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার, তা সম্পর্কে সবাই অবগত, সেখানে সরকার জনগণের স্বার্থে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে…নিচ্ছেও।”
বর্তমান সংকটের জন্য ‘সরকার দায়ী নয়’ দাবি করে তিনি বলেন, “এখন যে সংকট চলছে, তার জন্য এই সরকার দায়ী নয়। আমরা দ্রুত এর সমাধানের উপায় খুঁজছি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছি।”
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, পরিশোধন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং নীতি সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার আওতায় নতুন গ্যাসকূপ খনন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড কোম্পানির (বাপেক্স) সক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সংস্থার পুনর্গঠন, পরিশোধন ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) চূড়ান্ত করার পরিকল্পনাও ছিল।
এরই মধ্যে পিএসসি চূড়ান্ত করে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এসব পরিকল্পনার অগ্রগতি জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এসব পরিকল্পনার কাজ আমরা শুরু করেছি। কিছুদিন পর এ বিষয়ে আমরা বসব, তখন বিস্তারিত জানাব।”
জনস্বাস্থ্যেও চাপ
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি নাগরিকদের জীবনযাত্রায় সরকারের সক্ষমতার আরেকটি পরীক্ষা ছিল স্বাস্থ্য খাত। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার নেয়। জুনের শেষ দিকে হামে ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু ৭০০ ছাড়ানোর খবর আসে। গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি মোট মৃত্যু ৭৮৪-তে পৌঁছেছে।
এ ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট সরাসরি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি না করলেও সরকারের সক্ষমতা ও জনআস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষ একই সময়ে দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে থাকে।
আইনশৃঙ্খলায় বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি মব সহিংসতাও সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে চিঠিও দিয়েছে দলটি।
এদিকে, সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘পাইপ বোমা’, ‘প্রেশার কুকার বোমা’, হাতবোমা ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী তৎপরতার আশঙ্কায় সতর্ক করেছে পুলিশ।
চলতি মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার একটি সেল গঠনের চেষ্টার তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগও জানিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও এই প্রতিবেদনকে সরকার আমলে নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর পাশাপাশি খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায়ও সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি নিয়ে গত জুনে জাতীয় সংসদেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে মব সহিংসতায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪১ জন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মতে, মব সহিংসতার পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার ঘাটতিও ভূমিকা রাখছে।
অর্থাৎ, নির্বাচিত সরকার আসার পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
চেয়ারম্যান-কমিশনার শূন্য দুদক
দুর্নীতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ নেতৃত্বশূন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন কমিশন গঠনের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদগুলো শূন্য থাকায় দুর্নীতি দমন কার্যক্রমের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ছয় মাসে সরকারের বড় সাফল্য কী?
সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বলা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর দীর্ঘ অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ধারাবাহিকতা ফিরেছে।
সাইফুল হকের মতো রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এটিই স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
নির্বাচনের পর নতুন সংসদ বসেছে এবং সরকার ও বিরোধী দল সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে রাজপথনির্ভর রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে অন্তত জাতীয় পর্যায়ে বিরোধিতা ও বিতর্কের একটি প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ।
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোট আয়োজনও সরকারের একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি সংস্কার-প্রস্তাবগুলোকে নির্বাচনী ও গণভোটের প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসে।
অর্থনীতিতে পরিস্থিতি এখনো কঠিন হলেও কিছু সূচকে উন্নতির দাবি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিও ২০২৫ সালের একপর্যায়ে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছিল। একই সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বাড়ে এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বর্তমান সরকার সেই অর্থনৈতিক সংস্কারের কিছু ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব, ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণের নিয়ম কঠোর করা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এবং আর্থিক খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো উদ্যোগ নেয়।
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারের আলোচিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড। এর মধ্যে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ এগিয়েছে।
গত জুনে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পে ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কৃষক কার্ড। এর মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার ও কৃষি উপকরণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গত ১০ জুন সংসদে জানান, প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে আট বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে।
কৃষক কার্ডের পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে সরকার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রথম ছয় মাসে অন্তত সাত লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন চরচাকে বলেন, “কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রতি মাসে কোনো না কোনো উপজেলায় কার্ড দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে বাকি কার্ডও বিতরণ করা হবে।”
এদিকে, স্বাস্থ্য খাতে চলতি অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ জুন সংসদে জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় পাঁচ জেলা- খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ছয় মাসেও এর বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সরকার।
নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির সরকার।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার পরিকল্পনার কথা বলেছে সরকার। অর্থাৎ, প্রতি বছর পাঁচ কোটি, পুরো প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে চার কোটি চারা রোপণের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
বিএনপির ইশতেহারের ভিত্তিতে সরকারের অগ্রাধিকারে ছিল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও উপাসনালয়ের পুরোহিতদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বলছে, ভাতা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখের বেশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভাতা এবং বার্ষিক উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি এই টাকা দিচ্ছে সরকার।
গেল মার্চ মাসে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এ কার্ডের আওতায় মাসিক এক লাখ টাকা পাবেন ক্রীড়াবিদরা। প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী চরচাকে জানান, ছয় মাসের মূল্যায়নে সরকার অনেকটাই ‘সন্তুষ্ট’।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান চরচাকে বলেন, “মনিটরিংয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অনেক সিরিয়াস। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সবার সবকিছু দেখছেন। সেটার মূল্যায়নও সেভাবেই করবেন।”
বর্তমান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এসব উদ্যোগকে বাস্তব ফলাফলে নিয়ে যাওয়া।
তাহলে স্থিতিশীলতা কোথায়?
ছয় মাসের হিসাব করলে দুটি বিপরীত ছবি দেখা যায়।
একদিকে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসেছে। সংসদ কার্যকর হয়েছে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে এবং সরকারের হাতে শক্তিশালী সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় সংঘাত, স্থানীয় সরকারে দলীয় নিয়োগ, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এ কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর মূল্যায়নও দুই মেরুতে বিভক্ত। সাইফুল হকের মতো কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচিত সরকার এবং নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, এখন মূল কাজ হচ্ছে সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা।
অন্যদিকে জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মনে করেন, নির্বাচন ও সরকার গঠনই স্থিতিশীলতার শেষ কথা নয়। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা, গণভোটের রায় এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকেই যাবে।
সামনে যে প্রশ্নগুলো
সরকারের ছয় মাসে সবচেয়ে বড় অর্জন- দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো চালু হওয়া। কিন্তু সেই স্থিতিশীলতা কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কত দ্রুত ও কতটা গ্রহণযোগ্যভাবে করা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাত কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট কতটা কমানো যায় এবং আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কতটা ফিরিয়ে আনা যায়- এসবই হবে পরবর্তী পরীক্ষার জায়গা।
অর্থাৎ, ছয় মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে- এ কথা বলা যায়। কিন্তু মাঠের রাজনীতি, জনজীবন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই স্থিতিশীলতা কতটা গভীর হয়েছে, তা নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।