গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগে সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ক্ষমতায় বসে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরবর্তীতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথম ছয় মাস পার করেছে। এই দুই বছরে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাত টানা এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ, সবার মধ্যে একটা আশা তৈরি হয়েছিল। সবাই ভেবেছিলেন, এবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সব বাধা কেটে যাবে। তবে দেশের রপ্তানি খাত, শিল্প কারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ এবং মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। দীর্ঘদিনের জমানো সংকটগুলো না কেটে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অন্তর্বর্তীকালের অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়টা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ছিল স্থবির। এ সময় ব্যাংক খাত পুনর্গঠন শুরু হয়। এতে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের তথ্য বেরিয়ে আসে এবং আর্থিক খাতে বড় ধাক্কা লাগে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ মোট বিতরণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করে। এর প্রভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকে ঋণের সুদ হার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ওঠে।
পরিসংখ্যান বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ২৩ থেকে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে আসে, যা ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন। একই সময়ে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। কারখানা ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা মালিকদের বিপাকে ফেলে। গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের অভাবও যোগ হয়। এতে শিল্পোৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাহত হয়। এমন অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে নতুন বিনিয়োগ থমকে যায় এবং উদ্যোক্তারা পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য নির্বাচিত সরকারের পথ চেয়ে থাকেন। তবে নির্বাচিত সরকার এলেও সেই সমস্যা কাটেনি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন চরচাকে বলেন, “এই ছয় মাসে পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দেশে আসেন তখনই তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। আশা করি, যেসব সমস্যা আছে সব কেটে যাবে।”
বিএনপির ৩১ দফা অনুযায়ী সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে দলটির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আমরা জনগণকে যে ৩১ দফা দিয়েছি সেই দফা অনুযায়ী কাজ করব। আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রধানমন্ত্রী সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি যেকোনো সংকট মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখেন। আশা করি, যেকোনো সংকট বিএনপি সমাধান করবে।”
বিএনপির সরকারের ছয় মাসে নতুন চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা আশা জাগে। কিন্তু বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দার কারণে গত ছয় মাসেও প্রত্যাশিত গতি মেলেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চ সরকারি ঋণের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কিছুটা কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে আনলেও বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়ে গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এটা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।
এ ছাড়া গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের (৩২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া সংকট বিএনপি সরকারও সমাধান করতে না পারায় বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক ধারা রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান চরচাকে বলেন, “রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় বড় সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সংকট কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ওই সংকট যদি সেই সরকার কাটিয়ে উঠত তাহলে আজ এত বড় সংকট হতো না। এখন সংকট আরও গভীর হয়েছে। তবে আমরা বর্তমান সরকারকে নিয়ে আশাবাদী। আশা করছি, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠব।”
পোশাক খাতে উৎপাদন ও ক্রয়াদেশ কমছে
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত দুই সরকারের আমলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিল্পাঞ্চলগুলোতে টানা কর্মবিরতি ও কারখানা বন্ধের কারণে পোশাক খাতের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। তাই অনেক কারখানার মালিক নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট করতে না পেরে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে (এয়ার ফ্রেইট) বাধ্য হন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যায় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর থেকে পিছিয়ে পড়েন।
নতুন সরকারের আমলেও পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে স্বস্তি ফেরেনি। পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় এসেছে ২৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন সব খাতেই প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী ছিল।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় যেসব আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রয়াদেশের একটি অংশ অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছিল, সেই অর্ডারগুলো এখনো ফেরেনি। আন্তর্জাতিক বাজারের এই মন্দাভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধি যা এই শিল্পকে গভীর প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও উৎপাদন ব্যাহত
সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট। বিজিএমইএর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার গ্যাস না থাকায় টেক্সটাইল, ডাইং এবং প্রসেসিং কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর কারণে কারখানার ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে টেক্সটাইল কারখানাগুলোতে পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণে পুরো সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ছে ধীরে ধীরে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে এখনো কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসায়ীরা এতটা সমস্যায় পড়েছেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।
চিঠিতে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম লিখেছেন, “জুলাই ও আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের নিটওয়্যার শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানাই উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ কারখানার পক্ষে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ করা কঠিন হবে। এ কারণে বিল পরিশোধে ১২ মাসের কিস্তি সুবিধা দেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সক্ষম হবে।”
আর এই সংকট যে আগামীতে আরও বড় আকার ধারণ করতে যাচ্ছে তা আঁচ করা যায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যে। গত ১৬ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সবাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কথা বলছেন। আমরা এক ধরনের সমস্যার মধ্যে আছি। আমাকে স্বীকার করতেই হবে, এটা অতীত থেকে পাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিষয়ে কোনো কিছুই ছয় মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। এক বছরের মধ্যেও কোনো সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সর্বনিম্ন ২ বছর সময় লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই সমস্যা নিয়ে লড়াই করছি।”
এই প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান চরচাকে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর এই সরকারের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা বলার সুযোগ ছিল না। কোনো সমস্যায় পড়লে সরকারের কারো সঙ্গে মিটিং করার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। আর বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমরা যেকোনো সময় যোগাযোগ করতে পারি। এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। আমরা আমাদের সমস্যার কথাটা জানাতে পারছি।”
জ্বালানি সংকটও দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার আমাদের আশা দিয়েছে, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে। আমরা সেই আশায় আছি।”
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজার মন্দা
ব্যবসা-বাণিজ্যের এই নিম্নমুখী ধারার পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। আর এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মূল্যস্ফীতি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। জুলাই মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের মাস জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে থাকার কারণে স্থানীয় বাজারে কাপড়ে-চোপড়, ইলেকট্রনিক্স ও প্রসাধনসামগ্রীসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় চাপ তৈরি করেছে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির ব্যবধান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে দেখা যায়, দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে ৮ থেকে ১০ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে। অথচ একই সময়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার গড়ে মাত্র ৭ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। তাই প্রকৃত মজুরি বা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নেতিবাচক রয়েছে। নিত্যপণ্যের চড়া দামের বিপরীতে আয়ের এই কম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। খাবার ও জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল
তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ব্যবসায়ীরা আশা করেছিল নির্বাচিত সরকার এলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং কিছু কিছু জায়গায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার এই সংকট কাটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা সংকট কাটাতে কিছু চেষ্টাও দেখা গেছে।
তবে বাস্তবে অর্থনীতির মূল কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখনো দূর হয়নি। ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যা এখনো রয়েছে। সেই সাথে জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতা শিল্পকারখানাগুলোকে বিপদে ফেলছে। যদি সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাহলে বর্তমান সরকারের পক্ষে এই সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে টেনে তোলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, প্রথমত, শিল্প খাতে প্রাণ ফেরাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য দ্রুত গ্যাস আমদানি এবং দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ভারসাম্য আনতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। তা না হলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।
তৃতীয়ত, পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাজার ফেরাতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশ্ববাজারে নতুন ক্রেতা ধরে রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে বন্দরে পণ্য খালাস সহজ করা এবং প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের জটিলতা দূর করা দরকার। অর্থনৈতিক সংস্কারের এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সংকট কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উত্তরণ সম্ভব হবে।