
চীনের ছুটে যাওয়া পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশ কেন পাচ্ছে না?
এসব সমস্যার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বিশ্ব পোশাক বাজারে এখন দ্রুত বাড়ছে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার ও ফ্যাশন পণ্যের চাহিদা।

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে ১৬ আগস্ট। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ছয় মাসে নানা অগ্রগতির দাবি সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লেখা হয়-
“জনগণের সরকারের ১৮০ দিন।
বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার। সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সেই জানার আগ্রহ পূরণের উদ্দেশ্য থেকেই সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সাফল্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে এই ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ই-বুকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ, সংস্কার ও অর্জনের একটি তথ্যনির্ভর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধু ছয় মাসের বিবরণ নয়; বরং ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি এবং পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটি প্রামাণ্য দলিল।”
এই ১৮০ দিনে সরকারের সাফল্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে তুলে ধরা হয়েছে এই ই-বুকে। এই সাফল্য গুলো আসলে কী কী?
তথ্যভিত্তিক অর্জনচিত্র
এই বিভাগে সরকারের যে সাফল্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা হলো-
- ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, ১৫ টাকা কেজি দরে খাদ্যসহায়তা, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
- সরকারি গুদামে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রায় ২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।
- ১৩তম জাতীয় সংসদ ৪২টি কার্যদিবসে মোট ১০৫টি বিল পাস করেছে।
এখানে আরও বলা হয়েছে
“১৮০ দিনের উদ্যোগগুলো কেবল তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবিলার সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণে একটি সুসংহত কর্মপরিকল্পনার সূচনা করেছে।”
জনকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচর্চা
এই বিভাগে সরকারের মিতব্যয়ী নীতি অনুসরণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করা, বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য ঋণ, শিক্ষার্থী ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ড ও বিভিন্ন ভাতাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী যে তার মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন, তা তুলে ধরা হয়েছে।
জীবনবান্ধব বাজেট
এই বিভাগে সাফল্য হিসেবে সরকারের বাজেট সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার এবং পাচার করা সম্পদ শনাক্ত করা ও ফেরত আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো যে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ৩০টির বেশি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে, সে কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার ‘থ্রি আর কৌশল’ ঘোষণার কথাও জানানো হয়েছে ই-বুকে।
স্বরাষ্ট্র
এই বিভাগে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির মাধ্যমে এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে ই-বুকে।
কুড়িগ্রাম, কুমিল্লা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির মাধ্যমে একাধিক পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান এবং সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, কারাগার ও অন্যান্য আটককেন্দ্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি তদারকিতে ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম (এনপিএম) বিভাগ’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় এ বিভাগের কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
শহীদ জিয়া হত্যা মামলার আসামি, ৪৫ বছর ধরে পলাতক মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার ও সেনা হেফাজতে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
বৈদেশিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্র
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়ে অগ্রগতি; চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ২০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার কথা তুলে ধরা হয়েছে এই বিভাগে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের নিয়োগ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার উল্লেখও আছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কূটনীতি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জাতিসংঘে সক্রিয় ভূমিকা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকে সামনে আনার কথাও তুলে ধরা হয়।
শিক্ষা
এই অংশে সরকারের সাফল্য হিসেবে বলা হয়েছে, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ৫৬.৬% বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে– যা শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আছে বিএনপির, সে যাত্রায় অগ্রগতি।
শিক্ষাখাতে বৈষম্য কমাতে পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস, পাহাড়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণের বাজেট অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে এ বিভাগে।
নারীদের জন্য বিনা টিউশন ফি-র সুবিধাস স্নাতক (সম্মান) পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর্পোরেট কর প্রত্যাহার, সারাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ৬০০টি সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা, প্রতি আসনে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য দুটি আলাদা আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনায় অনুমোদনের উল্লেখ আছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও শিক্ষার সংস্কার করে ৮২% ক্লাসরুম সচল করা হয়েছে বলে তুলে ধরা হয়। এছাড়াও শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যবই, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস-ব্যাগ ও উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট, ওয়াই-ফাই ও ডিজিটাল ক্লাসরুম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিদেশি ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা, বৃক্ষরোপণ এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। মাদ্রাসা ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে গণশিক্ষা ও সহায়তামূলক কর্মসূচিও চালু রয়েছে।
স্বাস্থ্য
ডিজিটাল স্বাস্থ্য অবকাঠামোর নকশা তৈরির উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে প্রাথমিক হেলথ ডেটা আর্কিটেকচার তৈরি করা হয়েছে। এর অংশ হিসাবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ডের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে এই অংশে বলা হয়েছে, এবার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ।
সারা দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানানো হয়েছে, এই নিয়োগের ৮০ শতাংশই হবেন নারী স্বাস্থ্যসেবাকর্মী।
ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট ও ভালভ, পেসমেকার, লেন্স, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কাঁচামালসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সামগ্রীর ভ্যাট-কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ৫১ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা, বরিশাল ও রাজশাহীতে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল নির্মাণসহ মোট ৫টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ, ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরুসহ নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে এই অংশে।
অর্থনীতি
এই অংশে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগও বেড়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করা, সবুজ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে আগামী অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটির পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও নতুন স্টার্টআপের জন্য আলাদা ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, পুঁজিবাজার সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, গ্যাস অনুসন্ধান এবং করব্যবস্থা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ আছে ই-বুকে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি
এই অংশে বলা হয়, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর অধীন সংস্থাসমূহের একীভূতকরণ ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও রপ্তানি সেবা সহজ করা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় শুল্কমুক্ত সিইপিএ বাণিজ্য চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন মিলেছে এবং ২০২৬–২৭ বাজেটে বিডার ৮২% নীতিগত সুপারিশ এবং ব্যবসা সহজীকরণে ৬৩% নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
খাদ্য খাতে নতুন মাইলফলক
এই অংশে বলা হয়, সরকারি গুদামে রেকর্ড ২৪ লাখ টনেরও বেশি খাদ্যশস্য (নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১৩.৫ লাখ টনের চেয়ে অনেক বেশি) মজুদ রয়েছে– যার মধ্যে ১৯.৬১ লাখ টন চাল, ২.৯৬ লাখ টন গম এবং ১.৬৯ লাখ টন ধান অন্তর্ভুক্ত। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ১,০১১টি কেন্দ্রে ওএমএস এবং ৮০৩টি বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন ১,১৯৫ টন চাল ও ১,৪৪৩ টন আটা ভর্তুকিমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সাথে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩৩,৮৩৩ টন চাল প্রায় ৬৭ লাখ পরিবারের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া, ‘বোরো সংগ্রহ অভিযান ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২৮ জুন পর্যন্ত ২.৭১ লাখ টন ধান ও ৭.৯৯ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং খাদ্য পরীক্ষা ও নজরদারি শক্তিশালী করতে আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।
ফ্যামিলি কার্ড - নারীর হাতে পরিবারের নিরাপত্তা
এই অংশে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়াও বলা হয়, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে অন্তত ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
কৃষক কার্ড
কৃষকদের জন্য সর্বজনীন ও প্রযুক্তিভিত্তিক ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য– সার, বীজ, সেচ, কৃষিযন্ত্র ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি এই কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষিঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি, বাজারসংক্রান্ত তথ্য ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৮৩ জন কৃষককে মোট ৫.১২ কোটি টাকা সরাসরি কৃষি প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
আইনি বিষয়
আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যর্পণের উদ্যোগ, তনু হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া, জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস এবং রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান রেখে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়েছে। এই সংশোধিত আইনের আলোকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিবেশ
এই অংশে বলা হয়েছে, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাজেটে ৫১,৭৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রথম ১৮০ দিনে ২ কোটি ২২ লাখের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণের কথা বলা আছে।
পাহাড় কাটা রোধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া, নগর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আরও ৩৩৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
বাণিজ্য ও শিল্পখাত
বাণিজ্য ও শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে ১৪ দিনে ব্যবসা শুরু, ১৫তম দিনে এলসি খোলার সুযোগ, ১২ মাসের প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলডিসি উত্তরণে ৩ বছরের সময় বাড়ানোর অনুরোধসহ বেশকিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সম্প্রসারণ, সুগন্ধি চাল রপ্তানি পুনরায় চালু করা এবং বস্ত্রশিল্পের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পাটশিল্পের উন্নয়নে বিজেএমসির ১৪টি বন্ধ পাটকল বেসরকারি খাতে ইজারা দিয়ে ৭,৫০০-এর বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচারসহ পাটপণ্য রপ্তানি ৫–৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান
এ অংশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু, মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে জাপানি কোম্পানিসহ অন্যান্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে– এ দুটি মিলে ১৫-১৬ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল পুরোদমে উৎপাদনে গেলে আরও ১ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
এ ছাড়া, রাষ্ট্রায়ত্ত ৩টি বন্ধ পাটকল আবার চালুর জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৬–২০৩১ মেয়াদে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ৪% সুদে ৫০০ কোটি টাকার জামানতবিহীন ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ চালু করা এবং ৯ হাজার ৪৫০ জন প্রশিক্ষিত যুবককে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ
এ অংশে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগস্ট থেকে প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও সহজীকরণে জোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের সময়সীমা ১০ দিন থেকে কমিয়ে ৭ কার্যদিবসে নামিয়ে আনা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান
মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন আইন পাস করা হয়েছে, যার আওতায় শহীদ পরিবারগুলোকে সঞ্চয়পত্র, এককালীন ও মাসিক ভাতা এবং চাকরি প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের গেজেটভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়ায় অগ্রগতি
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরীকে খেলার জন্য নিবন্ধন করানো হয়েছে, বাছাইকৃত প্রতিভাবান শিশুদের সরকারি খরচে বিকেএসপিতে অধ্যয়ন ও নিবিড় প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন, ৩০০ জনকে বিশেষ ক্রীড়া ভাতা ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলায় সমন্বিত স্পোর্টস ভিলেজ, সিটি করপোরেশনে ২-৩টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে ১টি করে খেলার মাঠ, প্রতি ওয়ার্ডে ফুটসাল মাঠ ও প্রতি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমিতে খেলার মাঠ নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকা ও অন্যান্য নগরে অবৈধ দখলমুক্ত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
নগর ব্যবস্থাপনা
‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা’ গঠনে ১২ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা এবং পূর্বাচল নিউ টাউনকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ডিএমপির অধীনে এনে সমন্বিত নগরায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ক্লিন কেয়ার’ চালু করা হয়েছে– যা এআইভিত্তিক এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নাগরিকদের সেবা ও পর্যবেক্ষণ সহজ করবে।
ভূমিসেবা সংস্কার
ভূমিসেবাকে ডিজিটাল ও সহজ করতে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ আয়োজন, ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার স্থাপন এবং বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি বজায় রাখতে জিওফেন্সিং প্রযুক্তিভিত্তিক ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ চালু, দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা নিরসন এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে বরখাস্তসহ কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে ই-বুকে।
ধর্ম ও সম্প্রীতি
প্রকাশিত ই-বুকে বলা হয়েছে, সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতাভিত্তিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধর্মের মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় নেতাকে ভাতা প্রদান করেছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আড়াই লাখেরও বেশি ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে এ আওতায় আনার লক্ষ্যে বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ট্রাস্টের মাধ্যমে ৬০০ জনকে অনুদান, ঋণ ও শিক্ষা সহায়তা হিসাবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে ধর্মীয় প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ ও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও বিমানভাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা
জাতীয় সংসদে পুঁজিবাজারের আস্থা ফেরানোর জন্য ১৭ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষাখাতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। কৃষিতে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, রিমোট সেন্সিং, ড্রোন, বিগ ডেটাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ৩৫০০টি বায়ুপ্রবাহ সংরক্ষণযন্ত্র বিতরণ ও ৯০০ মডেল সংরক্ষণাগার নির্মাণের কথা বলেছেন।
মেয়েদের ডিগ্রি ও অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পোশাক ও ব্যাগ প্রদান এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ২% এ উন্নীত করার কথা বলেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা; সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে নতুন গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করা; ঢাকা শহরের যানজট কমাতে চার আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের কথাও বলেছেন।
নবম পে স্কেল
১ম-২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০% বাড়ানোর সুপারিশসহ নবম পে স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা (পেনশনসহ) বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থায় সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তরে গতি
৪৬ লাখ মামলার জট কমাতে ই-জুডিশিয়ারি, ই-বেইলি, ই-মেইলে সমন জারি, লিগ্যাল এইড সংশোধন (হেল্পলাইন ১৬৯৬৯) এবং বিচারক নিয়োগে স্থায়ী আইন প্রণয়নসহ ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা
১-১৫ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ২,১৬৫ কিমি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার খালের জিআইএস ভিত্তিক ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়)’ অনুমোদন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’কে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা, ৫০০ কিমি নদী তীরে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ এবং বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার ১৯টি খালের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটিপি মনিটরিং ও ক্যামেরা নজরদারি চালু করা হয়েছে।
যোগাযোগ
দেশব্যাপী সড়ক, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, টানেলের আলাদা আলাদা টোল ব্যবস্থা না রেখে একটি সমন্বিত টোল পরিশোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ (৬৫+) ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য মেট্রো ও রেলে ২৫% ভাড়া ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু হয়েছে। এছাড়া ৫ বছরে রেলের অব্যবহৃত জমিতে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা, ২ হাজার কোটি টাকায় পশ্চিমাঞ্চল রেলপথ সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করা ও বেসরকারি ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি শিমুলিয়া ও বসিলায় নতুন লঞ্চ ও ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু করা হয়েছে এবং বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল আংশিক চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ঢাকা-জাপান রুটসহ প্রবাসী রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব এবং ৩০টিরও বেশি জেলায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের কমিটি কাজ করছে।
পর্যটন উন্নয়ন
উপকূলীয় পর্যটন, স্থানীয় ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০টিরও বেশি জেলায় ঐতিহ্যভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে ১৭ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপপ্রচার প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা ও ৪০ লাখ টাকার জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন, চীনের সাথে ৪টি সমঝোতা স্মারক, বিটিভিতে বিনামূল্যে বিশ্বকাপ সম্প্রচার এবং পিআইবির ‘বাংলাফ্যাক্ট’ দ্বারা ৩৬০টি ফ্যাক্ট-চেকিং সম্পন্ন হয়েছে।
প্রযুক্তিখাত
৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৬৭০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ১৫টি উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ৪টি আন্তঃনগর ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট স্থাপন, ১৭টি ভেন্যুতে সাইবার অলিম্পিয়াড এবং ৬৭টি গণগ্রন্থাগারে ইনক্লুসিভ কর্নার চালু হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ও সমবায়
বিরোধীদলীয় এমপিদের নির্বাচনী এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৮২ কোটি টাকায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিমি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০০৯-২০২৬ সময়ের দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলেটে বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
নাইজেরিয়ায় প্রথমবারের মতো ১০ হাজার ৪৪০টি হ্যাচিং ডিম রপ্তানি, মুক্ত জলাশয়ে ২ দশমিক ৭৫ টন রেণুপোনা অবমুক্ত করা এবং গোটপক্স ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।
গণপূর্ত
রাজউকের নকশা অনুমোদন শতভাগ অনলাইনে আনা হয়েছে, যেখানে ৩০ দিনে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। আবাসন প্রকল্প সংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ও নবায়ন সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ভূমিকম্প নিরাপত্তা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট গঠন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন
জ্যেষ্ঠ সচিবদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ২৫ হাজারে নামানো, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও রাজনৈতিক জমি বরাদ্দ বাতিল এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবসান ঘটানো হয়েছে।

এসব সমস্যার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বিশ্ব পোশাক বাজারে এখন দ্রুত বাড়ছে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার ও ফ্যাশন পণ্যের চাহিদা।

চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক সংস্কারক ঝু রংজির মৃত্যুর খবরে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তবে কেউ কেউ তার মৃত্যুতে স্বস্তিও প্রকাশ করেছে।

গণঅভ্যূত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল। জনমনে আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার এলে আইনশৃঙ্খলার অবস্থার উন্নতি ঘটবে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান সরকারের ছয় মাসেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তেমন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশ আর ভিন্নমত চর্চার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিভাজনকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, ‘ভয় দেখানোর সংস্কৃতি’ এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘নিউ নরমাল’ হয়ে উঠেছে।