ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা থেমে যাওয়ায় তেহরান আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, জুনে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরান ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশকে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়। ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধের’ কথা বলা হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে।
সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জুনের অস্থায়ী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
এদিকে রয়টার্স জানায়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ এক ইরাকি কুর্দি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার মাধ্যমে আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পও ওই যোগাযোগের খবর নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার বলেছেন, ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি সক্রিয়।