গ্যাস সংকটের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষকে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুধবারও দেশের অন্তত ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ছিল। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর অধিকাংশও চলছে সক্ষমতার অনেক নিচে। এর সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, আর গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার কোথাও একবার গেলে ফিরতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল বুধবার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নতির কথা বলেছিলেন। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য বলছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের মাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, যা রাত ১টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৭ জুন রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
সর্বশেষ ১১ ও ১২ আগস্টের হালনাগাদ তথ্যেও সংকটের একই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ১১ আগস্ট রাত ৯টায় সান্ধ্য পিক আওয়ারে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয় মাত্র ১৫ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭ মেগাওয়াট। রাত ১২টায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াটে।
পরদিন অর্থাৎ ১২ আগস্ট দুপুর ১২টার পিক আওয়ারে ১৬ হাজার ৫৯৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট, যা বেলা ৩টা নাগাদ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ পরপর দুদিন ধরে সন্ধ্যা ও দুপুরের পিক আওয়ারে ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।
সংকটের মূলে গ্যাসের তীব্র ঘাটতি
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক চাহিদা প্রায় ২৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলেও অন্তত ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট, যা চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম। ফলে যেখানে একসময় গ্যাস দিয়ে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো, তা এখন কমে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
সর্বশেষ হিসাব বলছে, শুধু গ্যাস স্বল্পতার কারণেই জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৫ হাজার ৩০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা প্রায় ২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রগুলো।
গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কাটি আসে গত ২১ জুলাই, যখন কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায় এবং মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে। ১৫ দিন পর আংশিক মেরামতের মাধ্যমে ২৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ ফিরলেও টার্মিনালটি এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব চরচাকে জানিয়েছেন, মেরামত শেষ হতে আরও দুই-তিন দিন লাগতে পারে। টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী ১২ আগস্ট দুপুরের গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মেঘনাঘাট এলাকার বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। ৫৮৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার ইউনিক মেঘনাঘাট এবং ৭১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার মেঘনাঘাট সামিট জেরা কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। এছাড়া সামিট মেঘনাঘাট ও ঘোড়াশালের বিভিন্ন ইউনিটও একই কারণে ধুঁকছে।
গ্যাসের পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটিও সংকট বাড়িয়েছে। দেশের অন্যতম বড় কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি সমস্যায় পড়েছে, যার ফলে এর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মেঘনাঘাট অঞ্চলের বড় কেন্দ্রগুলো গ্যাস না পাওয়ায় রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
কয়লা সরবরাহে জটিলতা
কয়লা সরবরাহের জটিলতা সংকটকে আরও গভীর করেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় কয়লা খালাসে বিলম্ব হওয়ায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলেও তা এখন নেমে এসেছে ৮০০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াটে। মূলত ঝাড়খণ্ডে বন্যায় কয়লা ভিজে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আদানি ও ত্রিপুরা মিলিয়ে ভারত থেকে বর্তমানে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমদানি সচল থাকলেও তা দেশের বিশাল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
দেশের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হলেও রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের দুটিই কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও খাতভিত্তিক প্রভাব
গ্যাস ও কয়লার এই দ্বিমুখী সংকটের মাশুল গুনতে হচ্ছে সারা দেশের সাধারণ মানুষকে। অনেক এলাকায় দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে ফ্যান, এসি বা পানির পাম্প চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসাপাতি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইনভিত্তিক কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গ্রামে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমন ধান ও রবি শস্যের সেচ কাজে। পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পেরে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এছাড়া তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
টাঙ্গাইলের পরিস্থিতি আরও করুণ। সেখানে শহর এলাকায় ১০-১২ ঘণ্টা এবং গ্রামগুলোতে ১৫-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপাদন যেমন থমকে গেছে, তেমনি রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে গ্রাহকেরা মিটার রিডিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি 'ভূতুড়ে বিল' আসার অভিযোগও করছেন।
নেসকোর তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরেও চাহিদার তুলনায় মাত্র অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের অভাবে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ কোথাও কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও বেড়েছে। এমনকি কুমিল্লার হাসপাতালগুলোতেও লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সিলেটে গত সোমবার ২৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২০২ মেগাওয়াট—অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট, যা আগের দিনের ৫৬ মেগাওয়াট ঘাটতির কাছাকাছি। তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রোববার রাতে সিলেটের টুকের বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বগুড়ার সান্তাহারেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগে থেকেই থাকা গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি যুক্ত হয়ে দ্বিমুখী চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে কারখানার উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর বিদ্যুৎ ফিরলে মেশিন স্বাভাবিক করতে সময় লাগছে। ফলে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও পণ্য উৎপাদন ব্যয়।
সঞ্চালন দুর্বলতা ও সরকারি উদ্যোগ
জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ভোগান্তি বাড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৪০ মেগাওয়াট, ঘাটতি থাকছে ৬০ মেগাওয়াট। আড়াইহাজারে ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালে চালুর কথা থাকা সত্ত্বেও তা এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। কোরিয়া থেকে বিশেষায়িত প্রকৌশলী দল এলে অবশিষ্ট কাজ শেষ হতে ৭ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন পিজিসিবির এক কর্মকর্তা। এই উপকেন্দ্র চালু হলে ভুলতা গ্রিডের চাপ কমবে এবং বিকল্প সঞ্চালন পথ তৈরি হবে। তবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি অব্যাহত থাকলে শুধু স্থানীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করে লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
পরিস্থিতি সামলাতে তৎপর সরকার
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে ফোন করে কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। যেসব কেন্দ্র দ্রুত গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে পারবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। তাছাড়া বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল অপরিশোধিত থাকায় জ্বালানি তেল আমদানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় তেলভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভর করা ব্যয়বহুল; তাই গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম চরচার কাছে আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এক-দুই দিনের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। পটুয়াখালী কেন্দ্র ও আদানি পাওয়ারের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে।’’
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারাও বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ে, জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে এই সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
বাস্তবেও ১১-১২ আগস্টের তথ্য এই আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করছে। পায়রার মতো বড় কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে না ফেরা এবং গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংকট আকস্মিক নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির চাপের পুঞ্জীভূত পরিণতি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম চরচাকে বলেন, ‘‘দেশের জ্বালানি সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা এবং দ্রুত এ থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত সচল রাখতে প্রয়োজনে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।’’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘‘সাময়িকভাবে কিছু কেন্দ্রে বাড়তি গ্যাস দিয়ে লোডশেডিং কমানো গেলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘ মেয়াদে অযৌক্তিক ব্যয় কমানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়া ছাড়া এই চক্র থেকে বেরোনো কঠিন।’’