
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি

গ্যাস সংকটের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষকে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুধবারও দেশের অন্তত ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ছিল। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর অধিকাংশও চলছে সক্ষমতার অনেক নিচে। এর সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছ

তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাজশাহীর ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গতকাল বুধবার প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিন ও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানবেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিলবোর্ডের আলো বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। চলতি বছরের ২০ মে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।

“আমি বরং আপনাদের অনুরোধ করব আপাতত এগুলো নিয়ে রিপোর্ট না করার জন্য। এমনিতেই পাবলিক আমাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে।" কথাটি সিলেট জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামানের। সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এতটাই বাজে রূপ নিয়েছে যে, এ অনেকটা অসহায়ের মতোই তিনি

পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বাধা অর্থ সংকট। পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বিল পাওনা ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পাবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তীব্র গরম আর লোডশেডিং বাড়ছে, তাই বাজারে বৈদ্যুতিক ফ্যানের কাটতিও বেড়েছে। রাজধানীর নবাবপুর এলাকা থেকে ভিডিও করেছেন তারিক সজীব।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের সবাইকে নিতে হচ্ছে। বর্তমানে কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার গড়মিল রয়েছে।”

জ্বালানি সংকট ‘অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার সাশ্রয়ের নীতি নিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের আটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের ফলে একদিকে যেমন পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুম বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে জেনারেটর চালাতে গিয়ে হাসপাতালগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে। ঢাকার গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এ অবস্থায় বাড়তি দামে গ্রাহক বিদ্যুৎ নাকি লোডশেডিং কিনবে–সে প্

ভূমিকম্পের পরপরই বেশ কিছু কেন্দ্র বাধাগ্রস্থ হয়। তবে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুতই পুনরায় চালু করা হয়েছে।