ফুটো হয়ে যাওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিপুল পরিমাণ তেল ওমানের উপকূলের দিকে আসতে শুরু করেছে বলে দেশটির পরিবেশ সংস্থা নিশ্চিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ তেলদূষণের ঘটনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পরিবেশ সংস্থাটি জানিয়েছে, তেলটি রাস মাদরাকা এলাকার প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) উপকূল এবং মাসিরাহ দ্বীপে প্রভাব ফেলতে পারে।
রয়টার্সের সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে তেল ছড়িয়ে পড়া বিশেষজ্ঞ জন আমোস বলেছেন, বর্তমানে তেলের আস্তরণটি ২ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে।
সামুদ্রিক প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হুমকির মুখে
‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের তেলবাহী ট্যাংকারটি আনুমানিক ৮ লাখ ব্যারেল রাশিয়ান তেল বহন করছিল এবং এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। জাহাজটি ৩০ জুন একটি এলাকায় আটকে যায়।
এটি এমন একটি দ্বীপের কাছে তেল ছড়াচ্ছে, যা ওমানের একটি সামুদ্রিক প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকার অংশ। সেখানে আরব সাগরের কুঁজওয়ালা তিমি এবং সোকোত্রা করমোর্যান্টসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে।
৮ জুন ইয়েমেনের উপকূলের কাছে জাহাজটি প্রথম সমস্যায় পড়ার কথা জানায়। সামুদ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল।
কোনো পক্ষই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে রাশিয়া থেকে ভারতে যাওয়ার পথে জাহাজটি দুটি আলাদা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
এপ্রিল মাসে এটি কৃষ্ণ সাগরের রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলটি একটি উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার তেল বহনকারী কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজগুলোর ওপর ইউক্রেন হামলা চালিয়ে আসছে, আর ক্যারোলিন বেজেঙ্গিও ওই বহরের অংশ।
এরপর জাহাজটি মে মাসের শেষদিকে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে। জাহাজটির গতিবিধির তথ্য অনুযায়ী, পরে এটি ইয়েমেনের পাশ দিয়ে যায়, যেখানে ইরানপন্থী হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
বীমাকারী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, জাহাজ চলাচল ও তেল ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত জটিল নিয়মকানুন ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে আসন্ন বিপর্যয় ঠেকানোর কাজও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।