ব্যাংকের ভল্টে রাখা এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ওপর ও নিচে ঠিক রেখে ভেতরে কৌশলে রাখা হতো ১০০ টাকার নোট। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে ভেতরে জালিয়াত চক্র ঢুকিয়ে রেখেছে কম মূল্যের নোট। অভিনব এই উপায়ে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রামের লালদীঘি (পূর্ব) কর্পোরেট শাখায় লুট হয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের শাখাটিতে সংঘটিত এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক কর্মকর্তা ও তার এক ব্যবসায়ী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ওই শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং তার পরিচিত ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)। কামরুলের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে এবং তানভীরের বাড়ি কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা এলাকায়।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা ভল্টের হিসেব মেলাতে গিয়ে বড় ধরনের গড়মিল পান এবং ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম দেখতে পান। ভল্টের দায়িত্বে থাকা ক্যাশ ইনচার্জ কামরুলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরবর্তীকালে একই শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় কামরুল ও তানভীরকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ জুন থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে তারা যোগসাজশ করে দফায় দফায় টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তারা হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান জানান, ভল্টের দায়িত্ব পালনকালে কামরুল একা সেখানে যেতেন এবং টাকা আনা-নেওয়া করতেন। ১ হাজার টাকার বান্ডিলের ভেতরের নোট বদলে ১০০ টাকার নোট রেখে দিতেন তিনি। ফলে গণনার সময় বান্ডিল সংখ্যা সঠিক থাকলেও ভেতরের মূল টাকার পরিমাণে ঘাটতি থেকে যেত।
তিনি আরও জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তীতে আদালতে আসামিরা ভল্ট থেকে টাকা সরানোর কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ জালিয়াতি ও চুরির ঘটনার সাথে ব্যাংকের অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকটির মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।