ads

হরমুজ, বাব আল-মান্দাব এবং নতুন করিডোর যুদ্ধ

ড. উমুত শোকরি
ড. উমুত শোকরি
হরমুজ, বাব আল-মান্দাব এবং নতুন করিডোর যুদ্ধ
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, জ্বালানি ও ট্রানজিট রুট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রধান পরাশক্তিগুলোর মধ্যে এক তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একে ‘করিডোর যুদ্ধ’ বলা যেতে পারে।

প্রথাগত আঞ্চলিক সীমানা বা ভূখণ্ড দখলের লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে বর্তমান যুগের এই দ্বন্দ্বগুলো মূলত বিশ্বের প্রধান প্রধান চোকপয়েন্ট বা কৌশলগত সংকীর্ণ জলপথ ও স্থলপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিকল্প পথ তৈরি কিংবা বিঘ্ন ঘটানোর ওপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

Advertisement

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এর সাথে সংযুক্ত সুয়েজ খালের মতো সামুদ্রিক পথগুলো এখন বড় শক্তির দ্বন্দ্বে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

চলতি জুলাই মাসের পরিস্থিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থা এই জলপথগুলোর দুর্বলতাকে ব্যাপকভাবে উন্মোচিত করেছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। এর ক্ষতিকর প্রভাব ও হুমকি এখন বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকেও এগোচ্ছে। একটি কৌশলগত চোকপয়েন্টে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা কীভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বাণিজ্য রুটের একটি বড় নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, তা এই পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চোকপয়েন্ট হিসেবে পরিচিত, যেখান দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বা বৈশ্বিক সমুদ্রবাহিত তেলের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পরিবহণ করা হয়। একইসাথে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এই পথ দিয়েই যায়। এ বছরের শুরুর দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরানের খনি স্থাপন ও জাহাজ হামলার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে হরমুজ প্রণালির সিংহভাগ পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এই অবরোধের ফলে সমুদ্রে অসংখ্য বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে, শিপিং কার্যক্রমে তীব্র বিঘ্ন ঘটে, অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং চরম উত্তেজনার সময়ে তা ১২৬ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। এই সংকটে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মতো বিকল্প পথগুলো হরমুজ প্রণালিকে আংশিকভাবে এড়াতে পারলেও, তাদের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে সেখানে নিয়মিত যাতায়াতকারী তেলের বিশাল পরিমাণের বিকল্প হয়ে উঠতে পারছে না। যার ফলে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক সরবরাহ, শিপিংয়ের প্রাপ্যতা, মালবাহী খরচ, বীমা প্রিমিয়াম এবং ক্রেতাদের আস্থার ওপর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগর ভারত মহাসাগরকে সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এ চোকপয়েন্ট দিয়ে বৈশ্বিক কন্টেইনার বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল তেল যাতায়াত করে।

২০২৩ সাল থেকে শুরু এবং এ বছর নতুন করে জোরালো হওয়া ইরানের স্বার্থের সাথে যুক্ত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এই রুটে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তাদের পথ পরিবর্তন করে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে। এতে পরিবহণ সময়, জ্বালানি খরচ, শিপিং ভাড়া, বীমা প্রিমিয়াম এবং কার্বন নির্গমন বহুগুণ বেড়ে গেছে।

হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির একযোগে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর। কারণ এই দুটি চোকপয়েন্ট একে অপরের সাথে সংযুক্ত ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করে। যেখানে হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র, সেখানে বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগর এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য। এই দুটি পথে যাতায়াত একসাথে ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে এবং তার বহুমাত্রিক প্রভাব সরাসরি উৎপাদন শিল্প, শিপিং, ভোক্তা মূল্য এবং সামগ্রিক সরবরাহ চেইনের ওপর গিয়ে পড়বে।

এই চোকপয়েন্টগুলোর গুরুত্বের কারণে বিভিন্ন পরাশক্তিগুলো নিজেদের বাণিজ্য বহুমুখী করতে এবং দুর্বল রুটগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন করিডোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ যেমন বহুমুখী স্থল-সমুদ্র সংযোগ খোঁজার চেষ্টা করছে, তেমনি ‘ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর’-এর মতো প্রতিদ্বন্দী প্রকল্পগুলো বিকল্প পথ দেওয়ার লক্ষ্য রাখলেও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে তা দেরি হচ্ছে।

রানের স্বার্থের সাথে যুক্ত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা বাব আল-মান্দাবে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ছবি: রয়টার্স
রানের স্বার্থের সাথে যুক্ত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা বাব আল-মান্দাবে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ছবি: রয়টার্স

পাশাপাশি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে মধ্য এশিয়া ও ককেশাসের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত ‘মিডল করিডোর’ বা ট্রান্স-কাস্পিয়ান রুট গতি পেলেও তা রাশিয়া ও ইরানের তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। স্থলপথের এই বিকল্পগুলো সামুদ্রিক চোকপয়েন্টগুলোর ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাতে পারে। তবে এগুলো আবার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামোগত মান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর নতুন ধরণের নির্ভরতা তৈরি করে, যা মূলত দুর্বলতার সামগ্রিক চরিত্রকে নির্মূল না করে কেবল তার ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করে।

জাপানি ও এশীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বিশ্লেষক আনাস আলহাজ্জির গত মার্চের একটি বিশ্লেষণমূলক বক্তব্য মূল্যায়ন করে দেখা যায়, এই ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ মূলত বিশ্বমঞ্চে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ।

আলহাজ্জির মতে, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো আমেরিকার ভেতরে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা, ভারতসহ এশিয়ার বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য ও এলএনজি রপ্তানি বৃদ্ধি করা এবং দেশীয় এআই কোম্পানিগুলোর জন্য সস্তা জ্বালানি নিশ্চিত করে বিদেশি প্রতিযোগীদের উচ্চ খরচের মুখে ফেলা; আর এই উদ্দেশ্য সফল করতে ওয়াশিংটন যদি পানামা খাল, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জলপথগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে তারা পুরো পৃথিবীর জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারের দাম সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে।

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হিলিয়াম, সার এবং মিথানল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে আলহাজ্জি তার দাবির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন। যেখানে হিলিয়ামের সরবরাহ হ্রাস এশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে, সারের সংকট ভারতের কৃষিকে এবং মিথানলের ঘাটতি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের উৎপাদন শিল্পকে চাপে ফেলছে। তিনি আরও মনে করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা এবং বীমা ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন তার পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে যা এশীয় ক্রেতাদের মার্কিন জ্বালানি কিনতে বাধ্য করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ভেনিজুয়েলার তেল মজুত করার মাধ্যমে ইরানি তেলের সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলহাজ্জির উপসংহার হলো, ট্রাম্প ইরানের সংকটকে কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তার মূল লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছেন এবং ইরান সরকারের টিকে থাকাকেই প্রত্যাশা করছেন।

আলহাজ্জির এই তত্ত্বটি জ্বালানি ও সামুদ্রিক নীতির পেছনে লুকিয়ে থাকা ভূ-অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যগুলোকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে এবং এটি স্পষ্ট করে যে জ্বালানি কীভাবে মার্কিন পেট্রোডলারের প্রভাব, শিল্প প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত আধিপত্যকে শক্তিশালী করতে পারে। চোকপয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ ও এআই আধিপত্যের মধ্যকার যোগসূত্রটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। কারণ আধুনিক ডেটা সেন্টার ও উন্নত প্রযুক্তির জন্য বিপুল ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের প্রয়োজন।

তা সত্ত্বেও, আলহাজ্জির এই যুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দেখিয়েছে এবং এর ফলে মিত্র দেশ ও মার্কিন ভোক্তাদের ওপর উচ্চ জ্বালানি মূল্যের নেতিবাচক প্রভাব এবং বহুমুখী বৈশ্বিক বাস্তবতাকে কিছুটা অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। নৌবাহিনীর পাহারা কিংবা বীমা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ মার্কিন আধিপত্যের দাবি মূলত সামরিক সীমাবদ্ধতা, কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং ইরান ও হুথিদের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যায়। তাছাড়া, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক দেখায় যে বিকল্প নেটওয়ার্কগুলো মার্কিন একাধিপত্যের বাইরেও টিকে থাকতে পারে।

এই করিডোর যুদ্ধগুলো শেষ পর্যন্ত সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতা বাড়াতে বৈশ্বিক তৎপরতাকে ত্বরান্বিত করছে। ভারত তার এলপিজি ও এলএনজি আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল থাকায় রুশ তেল ও কৌশলগত মজুত বাড়িয়েও পুরোপুরি ঝুঁকি এড়াতে পারছে না। অন্যদিকে চীন তার জ্বালানি সুরক্ষায় ‘পোলার সিল্ক রোড’ ও স্থলপথের বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে, যদিও আর্কটিক রুটের জন্য গ্রিনল্যান্ডের কাছাকাছি প্রবেশাধিকারের প্রয়োজন পড়ে।

ইউরোপ তার এলএনজি অবকাঠামো এবং মিডল করিডোরের সাথে যুক্ততা বাড়াচ্ছে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চোকপয়েন্টগুলো ইরান বা হুথিদের মতো অসম শক্তির পক্ষে কাজ করে, যারা ড্রোন ও মাইনের মাধ্যমে পরাশক্তিদের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের ফলে বৈশ্বিক পরিবহণ খরচ বাড়ার পাশাপাশি সার সংকটের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে, যা বিশ্বায়নের ভঙ্গুরতাকে উন্মোচিত করে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা চলমান চরম অনিশ্চয়তারই ইঙ্গিত দেয়।

করিডোর যুদ্ধগুলো মূলত লজিস্টিকস, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং জ্বালানি প্রবাহের মাধ্যমে ‘ভিন্ন উপায়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার’ একটি নতুন কৌশলকে নির্দেশ করে। হরমুজ এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির মতো সংকীর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করতে পারে, তা এখন প্রমাণিত।

আলহাজ্জির বিশ্লেষণ মার্কিন কৌশলগত সুযোগসন্ধানী নীতি এবং প্রযুক্তিগত ও জ্বালানি প্রতিযোগিতার সম্পর্ককে চমৎকারভাবে তুলে ধরলেও বৈশ্বিক অর্থনীতির সামগ্রিক খরচ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিকল্প নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা সামরিক শক্তির চেয়ে বহুমুখী বিকল্প পথ এবং কার্যকর কূটনীতির ওপর বেশি নির্ভর করবে, যা ছাড়া এই চোকপয়েন্টগুলোই একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার গতিশীলতাকে নির্ধারণ করতে থাকবে।

সম্পর্কিত