
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গভীর ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এতে তার ক্ষমতায় থাকার নিয়ন্ত্রণকে শিথিল হচ্ছে। বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা

রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএসের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

রোববার ভোরে ইউক্রেনীয় ড্রোন মস্কো অঞ্চলে হামলা চালায়। আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, এটি ওই অঞ্চলে চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি এবং এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছে।

দানিউব নদীর তীরে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শস্য রপ্তানি বন্দরে বৃহস্পতিবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বন্দরটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন ধরে যায় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়া এখন ইউক্রেনের বন্দরগুলো অকেজো করে দিতে চায়। এতে দেশটির অস্ত্র আমদানি ও পণ্য রপ্তানি দুটোই বন্ধ হতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্যাট্রিয়ট মজুতের ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।

ইজমাইল আঞ্চলিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

রুশ সেনারা শহরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা হামলা চালিয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে ভবন ও যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

রুশ তদন্তকারীরা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে একটি ফৌজদারি মামলা শুরু করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ইউক্রেন আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্র সৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪০ জন আহত হন। রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্র দিয়ে মিছিল করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র খ্রেশচাতিক সড়কে জড়ো হয়।

একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। পোলতাভা অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিলেও দেশটির দূরপাল্লার হামলায় সক্ষম ড্রোন উৎপাদন রাশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বৈঠকে ইরান সংঘাত ছাড়াও ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করবেন। গত সপ্তাহেই তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী তাদের রোববার সকালের বিবৃতিতে জানায়, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা দাবি করেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো অবকাশকেন্দ্রে ‘ঘুমন্ত মানুষের’ ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘অমানবিক অপরাধ’ বলে নিন্দা জানান।

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তেহরানে নিযুক্ত এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কূটনীতিককে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জেলেনস্কি পরে সিরস্কির পরিবর্তে সম্মানিত সামরিক কমান্ডার মিখাইলো দ্রাপাতিকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিলেও গতকাল শুক্রবার শত শত মানুষ আবারও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা বন্দরের কৃষ্ণসাগর উপকূলে একটি পণ্যবাহী জাহাজে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে চার ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক ভারতীয় গুরুতর আহত হয়েছেন।