দানিউব নদীর তীরে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শস্য রপ্তানি বন্দরে আজ বৃহস্পতিবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বন্দরটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন ধরে যায় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, শীতকাল পার করতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের আরও প্রয়োজন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে রোমানিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইজমাইল বন্দর দিয়ে শস্য ও অন্য পণ্য রপ্তানি করা হয়। ইজমাইল আঞ্চলিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়া বৃহস্পতিবার দুটি যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক্স-এ জানায়, একটি ‘আকাশযান’ প্রায় দুই মিনিট রোমানিয়ার আকাশসীমায় অবস্থান করার পর ইউক্রেনের দিকে চলে যায়। ইউক্রেনের দিকে যাওয়ার পর সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইজমাইল বন্দরে হামলা এবং দানিউব নদীর পানির রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে নদীপথে ইউরোপে শস্য পাঠানোর ইউক্রেনের পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক বিভাগের উপপ্রধান ভ্যালেরি তাকাচেভ বলেন, রাশিয়ার নৌ অবরোধের কারণে আগস্টে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলোর শস্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ কমে গেছে।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনকারী দেশ। এসব কৃষিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি কৃষ্ণ সাগর দিয়ে হয়।
বিশ্বের মোট গমের প্রায় ৬ শতাংশ এবং ভুট্টার প্রায় ১১ শতাংশ সরবরাহ করে ইউক্রেন। ফলে রাশিয়ার অবরোধ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ ইউক্রেনের রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। রুশ কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি অবকাঠামো ও জাহাজে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার শিকাগোর গমের ফিউচার মূল্য মোটামুটি অপরিবর্তিত ছিল। এর আগের দিন ইউক্রেন রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত প্রধান শস্য পরিবহন কেন্দ্র নভোরোসিস্কে হামলা চালানোর পর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। এতে শস্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রে একটি তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিকেল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার (৮০০ মাইল) দূরের ওই স্থাপনায় হামলার পর আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে কয়েক মাস ধরে চলা ইউক্রেনের হামলা অভিযানের এটিই সর্বশেষ ঘটনা।