
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গভীর ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এতে তার ক্ষমতায় থাকার নিয়ন্ত্রণকে শিথিল হচ্ছে। বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা

রোববার ভোরে ইউক্রেনীয় ড্রোন মস্কো অঞ্চলে হামলা চালায়। আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, এটি ওই অঞ্চলে চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি এবং এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্যাট্রিয়ট মজুতের ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।

ইজমাইল আঞ্চলিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

রুশ সেনারা শহরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা হামলা চালিয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে ভবন ও যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার এ হামলার ঘটনা ঘটে।

রুশ তদন্তকারীরা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে একটি ফৌজদারি মামলা শুরু করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ইউক্রেন আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্র দিয়ে মিছিল করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র খ্রেশচাতিক সড়কে জড়ো হয়।

একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। পোলতাভা অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বৈঠকে ইরান সংঘাত ছাড়াও ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করবেন। গত সপ্তাহেই তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী তাদের রোববার সকালের বিবৃতিতে জানায়, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা দাবি করেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো অবকাশকেন্দ্রে ‘ঘুমন্ত মানুষের’ ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘অমানবিক অপরাধ’ বলে নিন্দা জানান।

জেলেনস্কি পরে সিরস্কির পরিবর্তে সম্মানিত সামরিক কমান্ডার মিখাইলো দ্রাপাতিকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিলেও গতকাল শুক্রবার শত শত মানুষ আবারও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা বন্দরের কৃষ্ণসাগর উপকূলে একটি পণ্যবাহী জাহাজে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে চার ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক ভারতীয় গুরুতর আহত হয়েছেন।

ফেদোরভকে পদে পুনর্বহাল করার দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন বিক্ষোভকারীরা।

এর আগে ইউক্রেন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে এ ধরনের একাধিক চুক্তি করেছে। তবে বুধবারের চুক্তিটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ও তাদের কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে করা প্রথম সমঝোতা।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের অন্তত দুটি জেলায় আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং দুজন নিহত হয়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাশিয়া নিক্ষেপ করা ৪৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

ইউরোপের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটো ভূখণ্ডের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার মতো সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে পারে।