নির্মাণশ্রমিকের কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশি তরুণ রাজন হোসেন অবশেষে দেশে ফিরেছেন।
আজ রোববার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে তাকে উদ্ধার করে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গত ২৪ এপ্রিল জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে জাবাল-ই-নূরসহ তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আরও ২৯ জন তরুণের সঙ্গে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন রাজন। প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের ভাগ্য বদলে যায়।
রাজন জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও সিম কার্ড কেড়ে নেওয়া হয় এবং রুশ ভাষায় লেখা কিছু দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
যুদ্ধের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে রাজন বলেন, “আমাদেরকে বলা হয়েছিল কনস্ট্রাকশনের কাজ, কিন্তু নিয়ে যাওয়া হলো যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে। মাথার ওপর সারাক্ষণ ড্রোন উড়ত আর চারদিকে ছিল শুধু মাইন আর লাশ।”
রাজনের দাবি, তাদের ৩০ জনের দলের মধ্যে অন্তত ১৭ জন এরই মধ্যে মারা গেছেন। যদিও সরকারিভাবে চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজন আরও জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো এবং ঠিকমতো খাবার বা ঘুম নিশ্চিত করা হতো না। একপর্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় পায়ে গুরুতর আঘাত পেলে রাজনকে চিকিৎসার জন্য রাশিয়ার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে এক নারী চিকিৎসক ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রাজনের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হওয়ার পরই দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে তার প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়।
এই ভয়াবহ প্রতারণার দায়ে ইতিমধ্যে আর এস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড নামের তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
যুদ্ধে পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা রাজন এই প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ইউক্রেনে আটকে পড়া বাকি তরুণদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।