Advertisement Banner

যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন কৌশলের কথা ভাবছে ইউরোপ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন কৌশলের কথা ভাবছে ইউরোপ
ছবি: রয়টার্স

নতুন যুগের যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে তাদের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ওই অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে তারা রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

লন্ডনে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ইউরোপে ন্যাটোর ডেপুটি সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার এয়ার চিফ মার্শাল স্যার জনি স্ট্রিঙ্গার জানান, অত্যন্ত ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন ড্রোন ও প্রতিরোধকারী ব্যবস্থার মতো ব্যাপক উৎপাদনযোগ্য ও কম খরচের সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকতে হবে।

পাশাপাশি দূরপাল্লার নিখুঁত হামলা, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক যুদ্ধ এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। হুমকির ব্যাপ্তি উল্লেখ করে স্ট্রিঙ্গার জানান, রাশিয়ার দীর্ঘপাল্লার বিমান এবং শক্তিশালী স্থল ও বিশেষ করে নর্দার্ন ফ্লিটসহ পানির নিচের হুমকি মোকাবিলার জন্য এখন আরও উত্তরের দিকেও নজর দিতে হবে।

ইউরোপের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটো ভূখণ্ডের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার মতো সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপের অপর্যাপ্ত সামরিক বিনিয়োগের সমালোচনা করে মে মাসে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন।

জার্মান সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান ফ্রয়ডিং জানান, বর্তমান সংঘাতগুলো দেখাচ্ছে যে স্থল যুদ্ধ মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা না করে জার্মান সেনাবাহিনী এখন দ্রুত পাওয়া যায় এমন অস্থায়ী সমাধান দিয়ে সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার রলি ওয়াকার। তার মতে, এআই-এর ব্যবহারে একটি সামরিক কোরের যে পরিকল্পনা প্রক্রিয়া আগে ৭২ ঘণ্টা সময় নিত, এখন তা মাত্র এক ঘণ্টায় করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া গতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি কোর আগে দিনে যেখানে ২৪টি লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারত, এখন তা ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পর্কিত