
ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাওয়া ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে করে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে উড়াল দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পর গোপনে খাবারের ট্রাকের মাধ্যমে সেটি থেকে বের হয়ে অন্য একটি বিমানে ওঠেন এবং সেই বিমানেই যুক্তরাজ্যে যান।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ শুক্রবার জেদ্দায় সৌদি আরবের যুবরাজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এর আগে ইউক্রেন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে এ ধরনের একাধিক চুক্তি করেছে। তবে বুধবারের চুক্তিটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ও তাদের কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে করা প্রথম সমঝোতা।

তুরস্কের আঙ্কারায় হয়ে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনটি বেশ সফল হয়েছে। প্রথমত, ইউরোপের নেতারা নিজেদের সামরিক খরচ বাড়ানোর প্রমাণ দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্ত রাখতে পেরেছেন। ফলে বড় কোনো ঝামেলার সৃষ্টি হয়নি।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সাময়িকী দ্য ক্র্যাডল-এ প্রকাশিত প্রখ্যাত বিশ্লেষক মেহমেত আলি গুলারের একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ অনুসারে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাটো আঙ্কারা শীর্ষ সম্মেলনের ছয় দফার সংক্ষিপ্ত ঘোষণাটি বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে গভীর ফাটল ও তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। সাম

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল তৈরি করছে। ওয়াশিংটন মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক ফ্রন্টসমূহ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর জোট গঠনকে একটি একক কৌশলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য। সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারায়

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাশিয়া নিক্ষেপ করা ৪৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

ইউরোপের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটো ভূখণ্ডের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার মতো সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে পারে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই সংঘাত শুরুর পর থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ট্রাম্পের বুড়ো আঙুল দেখানো আসলে ১৯ শতকের মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট রিচার্ড ওলনির সেই ঘোষণার এক ২১ শতকীয় প্রতিধ্বনি, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ওয়াশিংটন ‘এই মহাদেশে কার্যত সার্বভৌম।’

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জানুয়ারিতে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ন্যাটোর কিছু সদস্য আশঙ্কা করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তারা পাশে না-ও পেতে পারে, পাশাপাশি ন্যাটোর পদক্ষেপেও বাধা দিতে পারে দেশটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। তিনি ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে জার্মানিতে অবস্থানরত সেনা কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।

সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে, স্লোভেনিয়ার এই গণভোটের ঘোষণা শুধু একটি ছোট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়। এটি একটি বৃহত্তর ও গভীরতর পরিবর্তনের লক্ষণ।

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন করে উত্থাপিত পরিকল্পনা ন্যাটো জোটের ৭৭ বছরের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক এমন এক ভাঙনের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ইউরোপীয়

ইরান যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি পশ্চিমা জোটব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে। ন্যাটোর সামনে এখন যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়ত তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় জোট টিকে থাকবে, নাকি ভেঙে পড়বে– তার উত্তর নির্ভর করছে মূলত ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত এবং ইউরোপের প্রস্তুতির ওপর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে। ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। সবাই চাইছে দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ হোক। বিস্তারিত শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের আলোচনায়।

সামরিক জোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুতরভাবে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

আমেরিকার বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যক্তিবর্গ কি আসলেই হুমকির মুখে? ইরান যুদ্ধ কোনদিকে যাচ্ছে? ইউরোপ, জাপান কি জড়িয়ে পড়বে? আরব ন্যাটোর কথা শোনা যাচ্ছে, কিন্তু কতটা বাস্তব? যুদ্ধ ও আলোচনা কি একসঙ্গে চলতে পারে? ইসরায়েল কি শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহার করে বসবে?

এই কারণে ইউরোপের প্রত্যাখ্যান এত স্পষ্ট। তারা শুধু যুদ্ধ এড়াতে চায় না, বরং নিজেদের ক্ষতি থেকেও বাঁচতে চায়। এখানে একটি ঐতিহাসিক বিদ্রূপ রয়েছে। ন্যাটো জোটকে নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক বলা হতো।

বর্তমানে ইউরোপের আর কোনো নেতা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বাধানো ‘অন্যায় যুদ্ধে’র বিরুদ্ধে সানচেজের মতো সোচ্চায় নন। তার কণ্ঠস্বর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অন্তত আপাতত তিনি একা।