চরচা ডেস্ক

রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের অঞ্চলে সোমবার ভোরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাতভর চালানো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভের একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগের দিন এ হামলা চালানো হয়। ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও ভূপাতিত করতে পারেনি দেশটির সেনাবাহিনী। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় মস্কোর হামলার মুখে ইউক্রেন ক্রমেই আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কারণ ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়টই একমাত্র ব্যবস্থা, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যন্ত উচ্চ গতি ও খাড়া গতিপথের কারণে এগুলো ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।
রাতের ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “এটা সত্যিই অযৌক্তিক যে, আধুনিক বিশ্বেও মানুষের জীবনকে ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় এখনো অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো হয়নি।”
তিনি বলেন, ইউক্রেনের কাছে এসব অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়, তাহলে ইউক্রেন শুধু নিজের প্রতিরক্ষার জন্যই নয়, প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোকেও সহায়তা করার মতো উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

এর আগে জেলেনস্কি মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া তুরস্কের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ‘দৃঢ় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাশিয়া নিক্ষেপ করা ৪৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “যতক্ষণ আমাদের মিত্রদের গুদামে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকবে, ততক্ষণ রাশিয়া আরও বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংস করতে উৎসাহিত হবে। এই সন্ত্রাস থামানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রয়েছে।”
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, সোমবারের হামলায় রাশিয়া ব্যবহার করা আরও ৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোনের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
রাশিয়া আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া, ইউক্রেনের আরও কয়েকটি অঞ্চলের সামরিক বিমানঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর রাশিয়া আকাশপথে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এর পেছনে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৬ মাইল) দীর্ঘ যুদ্ধরেখার কয়েকটি এলাকায় ইউক্রেন পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে। যদিও রুশ বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর কস্তিয়ান্তিনিভকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে মস্কো বলেছিল তারা কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সোমবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার তিনটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার ওমস্ক রিফাইনারি, যা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার (১ হাজার ৫০০ মাইল) দূরে অবস্থিত। এ ছাড়া, আজভ সাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর দুটি জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ।

রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের অঞ্চলে সোমবার ভোরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাতভর চালানো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভের একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগের দিন এ হামলা চালানো হয়। ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও ভূপাতিত করতে পারেনি দেশটির সেনাবাহিনী। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় মস্কোর হামলার মুখে ইউক্রেন ক্রমেই আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কারণ ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়টই একমাত্র ব্যবস্থা, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যন্ত উচ্চ গতি ও খাড়া গতিপথের কারণে এগুলো ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।
রাতের ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “এটা সত্যিই অযৌক্তিক যে, আধুনিক বিশ্বেও মানুষের জীবনকে ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় এখনো অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো হয়নি।”
তিনি বলেন, ইউক্রেনের কাছে এসব অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়, তাহলে ইউক্রেন শুধু নিজের প্রতিরক্ষার জন্যই নয়, প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোকেও সহায়তা করার মতো উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

এর আগে জেলেনস্কি মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া তুরস্কের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ‘দৃঢ় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাশিয়া নিক্ষেপ করা ৪৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “যতক্ষণ আমাদের মিত্রদের গুদামে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকবে, ততক্ষণ রাশিয়া আরও বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংস করতে উৎসাহিত হবে। এই সন্ত্রাস থামানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রয়েছে।”
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, সোমবারের হামলায় রাশিয়া ব্যবহার করা আরও ৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোনের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
রাশিয়া আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া, ইউক্রেনের আরও কয়েকটি অঞ্চলের সামরিক বিমানঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর রাশিয়া আকাশপথে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এর পেছনে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৬ মাইল) দীর্ঘ যুদ্ধরেখার কয়েকটি এলাকায় ইউক্রেন পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে। যদিও রুশ বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর কস্তিয়ান্তিনিভকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে মস্কো বলেছিল তারা কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সোমবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার তিনটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার ওমস্ক রিফাইনারি, যা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার (১ হাজার ৫০০ মাইল) দূরে অবস্থিত। এ ছাড়া, আজভ সাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর দুটি জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ।