রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার জন্য আগামী গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত একটি সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে এক পৃষ্ঠার একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যা মস্কোর কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আগে আলোচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব রয়েছে। ওই অর্থনৈতিক অঞ্চল তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সাপ্তাহিক এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, “এতে যুদ্ধবিরতির একটি ধারণা রয়েছে—এটাই মূল বিষয়। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আমেরিকানদের প্রস্তাব।”
জেলেনস্কি বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে চলতি বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলন থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত একটি সুযোগ তিনি দেখতে পাচ্ছেন। এর একটি কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযান ঘনিয়ে আসছে।
চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি বলেছিলেন, যুদ্ধ অবসানের পরিকল্পনা নিয়ে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি তখন বিস্তারিত কিছু জানাননি।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল, রাশিয়ার আরও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি ইউক্রেন প্রত্যাখ্যান করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ক্রমশ বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছিলেন। এরপর তারা এখনো কিয়েভ সফর করেননি।
মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা নিয়ে প্রশ্ন ক্রেমলিনের
এদিকে আজ মঙ্গলবার ক্রেমলিন দনবাসে মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে, ওই ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ এবং সে কারণে তৃতীয় কোনো পক্ষের পক্ষে এটি পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।
রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে, যদিও এসব অঞ্চলের পুরোটা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। মস্কো বারবার বলেছে, যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে ওই চারটি অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের কথিত “মূল কারণগুলো”ও সমাধান করতে হবে।
ইইউ ও ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েও প্রস্তাব
জেলেনস্কি বলেন, খসড়া প্রস্তাবের তৃতীয় বিষয়টি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর ভূমিকা এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য “ইউক্রেন কী করতে প্রস্তুত”। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি যে তিনটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো শুধু ইউক্রেনের নিজস্ব ধারণা নয়।” তিনি জানান, এসব প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর কিছু অংশ এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে এসেছে।