রাশিয়ার নিঝনেকাম শহরে শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়ায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের দিক থেকে এটি অন্যতম ভয়াবহ হামলা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে তাতারস্তান অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় একটি বড় তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুশ তদন্তকারীরা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে একটি ফৌজদারি মামলা শুরু করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ইউক্রেন আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের তেল শোধনাগারটিও হামলার শিকার হয়েছে। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শোধনাগারগুলোর একটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা ভিডিওতে একটি তেল শোধনাগারের মতো স্থাপনার ওপর ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। রয়টার্স ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাতনেফটের টানেকো শোধনাগারটিতেও এর আগে জুনের শুরুতে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল। ২০২৪ সালে শোধনাগারটি ১ কোটি ৭০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে ২৭ লাখ টন পেট্রোল ও ৮৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করেছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রাথমিক পর্যায়ের বেশির ভাগ সমস্যা পরে সমাধান করা হয়েছে।
ইউক্রেন বলেছে, তারা রাশিয়ার যুদ্ধের মূল্য সাধারণ রুশ নাগরিকদেরও অনুভব করাতে চায়। জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে মস্কো বিদেশ থেকেও জ্বালানি আমদানি করেছে।
এদিকে গতকাল রোববার উভয় পক্ষই প্রাণঘাতী হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ শহরে রুশ হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়। সেখানে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার বেলগোরোদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই দেশই বারবার বলে আসছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।