
এই ফল কি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা?
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তাদের প্রত্যেকের পেছনে আছে একটি মুখ, একটি পরিবার এবং অনেক স্বপ্ন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির গৃহীত সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উৎকর্ষতার পরিচয় বহন করে না। রাষ্ট্রপতির মতো একটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দলের প্রার্থী নির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব একক নেতৃত্বের হাতে ন্যস্ত করা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নয়; এর শক্তি নিহিত থাকে প্রতিষ্ঠান, মতের বহুত্ব এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতিতে।
প্রজাতন্ত্রের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একই ধরনের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। দলীয় পর্যায়ে কার্যকর পরামর্শ ছাড়াই এককভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমনকি যিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তার মতামতও পূর্বে গ্রহণ করা হয়নি। দেশবাসী বিস্মিত হয়েছিল, দলও দেখেছিল অবাক চোখে।
এই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি মূলত রাষ্ট্রকে ব্যক্তি-ইচ্ছার সম্প্রসারণ হিসেবে দেখার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। অথচ প্রজাতন্ত্রের মৌলিক দর্শন হলো—রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; রাষ্ট্র জনগণের সম্মিলিত সার্বভৌম ইচ্ছার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। যখন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে যায়, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে স্বাধীন সত্তা হারিয়ে ব্যক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে আরও একটি গভীর নৈতিক বিষয় রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ কেবল একটি সাংবিধানিক পদ নয়; এটি প্রজাতন্ত্রের নৈতিক চেতনা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক। তাই যিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তার নিজেরও একটি আত্মজিজ্ঞাসা থাকা অপরিহার্য—তিনি কি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব বহনের জন্য নৈতিকভাবে প্রস্তুত? তার মধ্যে কি রয়েছে সততা, প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, দৃঢ়তা, অবিচল সাহস এবং সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রচিন্তা? তিনি কি সংবিধানকে কেবল একটি আইনি দলিল হিসেবে দেখবেন, নাকি জনগণের সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অঙ্গীকার হিসেবে উপলব্ধি করবেন—এই প্রশ্নের উত্তর তাকে নিজের বিবেকের কাছেই খুঁজতে হবে।
আর যদি কোনো ব্যক্তিকে এই মহান দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তার নিজস্ব মতামত, প্রস্তুতি ও নৈতিক সম্মতি ছাড়াই মনোনীত করা হয়, তাহলে তা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নয়; রাষ্ট্রের জন্যও গভীর ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ রাষ্ট্রপতির শক্তি কেবল সাংবিধানিক ক্ষমতায় নয়; তার প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে স্বাধীন বিবেচনাশক্তি, নৈতিক সাহস এবং সংবিধানের অন্তর্নিহিত দর্শনের প্রতি অবিচল আনুগত্যে।
অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দেয়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদগুলোতে ব্যক্তির মর্যাদা নয়, বরং তার নৈতিক প্রস্তুতি, সাংবিধানিক চেতনা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি হওয়া কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি একটি জাতির আস্থা, বিবেক ও ভবিষ্যতের কাছে সর্বোচ্চ জবাবদিহিতার অঙ্গীকার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো অতীতের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রাতিষ্ঠানিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রচলিত সংস্কৃতি পুনর্বিবেচনার এক ঐতিহাসিক আহ্বান। এর অন্তর্নিহিত দর্শন ছিল—ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কর্তৃত্ব নয়; ক্ষমতা জনগণের এবং তার প্রয়োগ হতে হবে জনগণের অংশগ্রহণ, মতের বহুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে।
এই নতুন রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ছিল, সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং সমষ্টিগত। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান হবে সিদ্ধান্তের কেন্দ্র; আনুগত্য নয়, যুক্তি, পরামর্শ ও সমষ্টিগত প্রজ্ঞা হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি।
কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নেতৃত্বের প্রকৃত মহত্ত্ব প্রকাশ পায় নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে ধারণ করে, পরামর্শকে মূল্য দিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শিক্ষা ছিল—শুধু শাসকের পরিবর্তন নয়, শাসনের দর্শনের পরিবর্তন।
কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নকে কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই নির্বাচন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় সাংবিধানিক প্রশ্ন। তাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রাজনৈতিক শক্তি, অংশীজন এবং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রত্যাশিত ছিল।
কারণ এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গতানুগতিক সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার একটি সাধারণ ঘটনা নয়; এটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি অংশ। এই বাস্তবতার পেছনে রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ, আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্নির্মাণের প্রত্যাশা। ফলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও সেই নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি।
গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা ছিল, রাষ্ট্র পরিচালনার বৈধতা কেবল প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামো থেকে আসে না; তা আসে জনগণের অংশগ্রহণ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের স্বীকৃতি এবং নতুন রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তি থেকে। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পুরোনো একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতির পরিবর্তে নতুন অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশই হওয়া উচিত ছিল।
রাষ্ট্রপতির মতো একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক পদে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমষ্টিগত সিদ্ধান্তই অধিকতর গণতান্ত্রিক, বিচক্ষণ এবং রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল পদ্ধতি। কারণ একটি সমষ্টিগত সিদ্ধান্তে কেবল ক্ষমতার ব্যবহার নয়, সেই সিদ্ধান্তের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়ও সম্মিলিতভাবে বহন করা হয়।
অন্যদিকে, যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব একজন ব্যক্তির ওপর কেন্দ্রীভূত করা হয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা, বিতর্ক বা সমালোচনার সমগ্র ভারও মূলত সেই ব্যক্তির ওপর এসে পড়ে। এতে দলের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয় এবং নেতৃত্বকে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে একা দাঁড়াতে হয়।
এটি প্রকৃত সমষ্টিগত নেতৃত্বের চর্চা নয়; বরং নেতৃত্বের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্ত রাখার একটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী প্রবণতা। একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতা কখনো একা সিদ্ধান্তের বোঝা বহন করেন না; প্রতিষ্ঠান তার পাশে দাঁড়ায়, সিদ্ধান্তের অংশীদার হয় এবং সাফল্য-ব্যর্থতার নৈতিক দায় যৌথভাবে গ্রহণ করে।
অতীতের সেই রাজনৈতিক কৌশল—যেখানে নেতাকে একক ক্ষমতার প্রতীকে পরিণত করে একই সঙ্গে তাকে বিতর্কিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, তা থেকে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ শক্তিশালী নেতা মানেই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতা নয়; বরং যে নেতা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন, ভিন্নমতকে ধারণ করতে পারেন এবং সিদ্ধান্তের দায়িত্বকে সমষ্টির মধ্যে বণ্টন করতে পারেন, তিনিই প্রকৃত গণতান্তিক নেতা।
রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে গণতন্ত্রের পরিপক্বতা কোনো একক শক্তিশালী নেতার ওপর নির্ভর করে না; এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মধ্যে। ব্যক্তি সাময়িক; প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে, তার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও সেই দর্শনের প্রতিফলন থাকা অপরিহার্য।
পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সিদ্ধান্তে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নতুন মূল্যবোধ এবং নতুন রাজনৈতিক দর্শনের প্রত্যাশিত প্রতিফলন দৃশ্যমান হয়নি। কারণ গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শিক্ষা ছিল কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়; বরং ক্ষমতা চর্চার পদ্ধতির পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের মূল শর্ত হলো—ব্যক্তির ইচ্ছার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের শক্তি, আনুগত্যের পরিবর্তে যুক্তি, এবং একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সমষ্টিগত প্রজ্ঞার প্রতিষ্ঠা।
শহীদুল্লাহ ফরায়জী: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তাদের প্রত্যেকের পেছনে আছে একটি মুখ, একটি পরিবার এবং অনেক স্বপ্ন।

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপিতে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতা আছেন, তাদের মধ্য থেকে

বেলুচদের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিণতি না পাওয়ার অন্যতম কারণ, তারা বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত। একসঙ্গে সব উপজাতি জনগোষ্ঠী লড়াই-সংগ্রাম চালাতে পারেনি। কোনো না কোনো উপজাতি জনগোষ্ঠী পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আপস করেছে।

যেন পুরোনো মন্দিরের ঋষির মতো লাগে সুলতানকে! জরাজীর্ণ ভবনে যেন এক বর্ণিল প্রাণ! কি এক অদ্ভুত পরস্পরবিরোধী সহাবস্থান! বলছি তারেক মাসুদের প্রথম চলচ্চিত্রের কথা। এই সেই ‘আদম সুরত’ যার জন্য তারেক মাসুদ বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পায়ে ঠেলেছিলেন। শুধু তাই নয়—জীবনের সাতটি বছর তিনি লেগে রইলেন শুধু ‘আদম সুরত’ ক