
চীনের ছুটে যাওয়া পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশ কেন পাচ্ছে না?
এসব সমস্যার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বিশ্ব পোশাক বাজারে এখন দ্রুত বাড়ছে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার ও ফ্যাশন পণ্যের চাহিদা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত ১০ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মানলে, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অর্ধ-ট্রিলিয়ন (৫০১ বিলিয়ন বা ৫০১০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ৮ বছরের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে চায়।
বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের এই রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়েছে নতুন সরকার। এর জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের পরিকল্পনা ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা দেশি-বিদেশি সব ফোরামে গুরুত্বের সঙ্গে এই বার্তা তুলে ধরছেন যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন আগের চেয়ে নিরাপদ ও আকর্ষণীয়।
এই যখন অবস্থা, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) নেতৃত্বে ২৫টি মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঢাকা ঘুরে গেলেন। ২৫টি কোম্পানির মধ্যে ছিল শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি, মেটা, ভিসা, মাস্টারকার্ড, বোয়িং, উবার, অ্যাপল, পাঠাও, মেটলাইফ, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল, ভিএফ করপোরেশন, এশিয়া গ্রুপ, ড্রিংকইট ও উলকাসেমির মতো কোম্পানি। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ইউএসবিবিসি সভাপতি অতুল কেশাপ এবং এক্সিলারেট এনার্জির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অলিভার সিম্পসন।
রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশে চলছে চরম বিনিয়োগ খরা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে আস্থাহীনতা জেঁকে বসেছে শিল্পোদ্যোক্তাদের মনে। রপ্তানি কমছে। অন্যদিকে আছে ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নের দায়। এমন প্রেক্ষাপটে দেশে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ঢাকা আগমণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা ঘুরে যাওয়া মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
কিন্তু বাস্তব চিত্রটা কী? এই প্রতিনিধি দল যেদিন ঢাকা নামেন, সেদিন; অর্থাৎ, ১১ আগস্টই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির একটি এফএসআরইউতে দুর্ঘটনা ঘটে, যে কারণে এরপর থেকেই সারা দেশ তীব্র গ্যাস সংকটে ধুঁকছে। গ্যাসের অভাবে লোডশেডিং সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। বিদ্যুতের দাবিতে সাবস্টেশনে হামলার ঘটনাও ঘটে।
চাপের মুখে লোডশেডিং-এর জন্য দেশের মানুষের কাছে বারবার ক্ষমা চাইছে সরকার। এই চাপ আরও বাড়ে, যখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে অর্থনীতির লাইফলাইন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এমন দুর্বলতা দেখা দেয়।
মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ-সম্ভাবনা কোথায়
এবারের মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির ফলে কিছু কোম্পানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই চুক্তির বাধ্যবাধকতায়ই হোক বা সরকারের পরিকল্পনায়, এবারের বাজেটে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শুল্ক কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে কিছু কিছু কোম্পানির নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সফররত মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রোফাইল ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক্সিলারেট এনার্জি ও শেভরনের বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র ছাড়াও শেভরনের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সম্পর্ক বেশ পুরনো। এক্সিলারেট এনার্জি মহেশখালীর এফএসআরইউ পরিচালনা করছে এবং এবারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিল এই কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট অলিভার সিম্পসন।
এবারের (২০২৬-২৭) বাজেটে আইসিটি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ আছে মেটা, অ্যাপল, উলকাসেমির।
ব্যাংকিং খাতে নিয়মকানুন সহজ করা এবং ফ্রিল্যান্সার-আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজতর ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে সুবিধার প্রতিশ্রুতি আছে নতুন সরকারের। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যাগ নিচ্ছে। পরিবর্তন করা হচ্ছে বিধিমালার। ফলে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ আছে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের। আর্থিক প্রযুক্তি ও পেমেন্ট সিস্টেম প্রোভাইডার এই দুই কোম্পানি বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই কাজ করছে।
সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কৃষিপণ্য আমদানি প্রতিশ্রুতির কারণে সুযোগ তৈরি হয়েছে ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের।
উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে বোয়িং-এর সঙ্গে এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। লিজিংয়ের মাধ্যমে ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত করার ঘোষণা আছে ইউএস-বাংলার।
পরিবহনে উবার ও পাঠাওয়ের আছে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ।
তবে ২৫ মার্কিন কোম্পানির এই বিনিয়োগ আগ্রহ ও ঢাকা সফর নিয়ে নানা মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যখন ধুঁকছে, তখন এই মার্কিন কোম্পানিগুলোর ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সমালোচকরা বলছেন, এই কোম্পানিগুলোর অধিকাংশেরই প্রোফাইল বলছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতেই তারা বিনিয়োগ করবে। কিন্তু এ বিনিয়োগ সরকারের লক্ষ্যের তালিকায় থাকা কর্মসংস্থান বা উৎপাদন খাতে কতটা প্রভাব ফেলবে? দ্বিতীয়ত, জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছিল। এবার তারা এলে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি কতটা ন্যায্য হবে–তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
ঢাকা ছাড়ার আগে কোনো কোম্পানিই অবশ্য বিনিয়োগের কোনো ঘোষণা দেয়নি, কিংবা সুনির্দিষ্টভাবে আগ্রহের কথা জানায়নি। তবে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “বিনিয়োগ আসবে। সরকারের বাকি সাড়ে চার বছরে আমরা কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমেরিকান কোম্পানিগুলো এনার্জি সেক্টরসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক।”
অ্যামচেম সভাপতি চরচাকে বলেন, “বিনিয়োগের জন্য বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। অনেক ঘোষণা হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখন সরাসরি অ্যাকশন দেখতে চাই, যা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে আমরা একটি ‘পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’ করার প্রস্তাব দিয়েছি। যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা থাকবে এবং তারা পলিসি তৈরি থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব পর্যায়ে সরকারের আমলাতন্ত্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।”
বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশিদের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়; সব ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ধারাবাহিক নীতি কাঠামো। বর্তমান জ্বালানি সংকট ও নীতি-অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই লক্ষ্যমাত্রা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ঋণমান সংস্থাগুলোর কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে যেসব খাতে (জ্বালানি, প্রযুক্তি, খাদ্য উৎপাদন) আগ্রহ দেখাচ্ছে, ঠিক সেই খাতগুলোই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। এক্সিলারেট এনার্জি নিজেই এফএসআরইউ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান হয়েও প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিল। অর্থাৎ, বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামোর দুর্বলতার সরাসরি সাক্ষী। এ অবস্থায় বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে বা বিলম্বিত হলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ-রেটিং; অর্থাৎ, ‘বাংলাদেশ কতটা বিনিয়োগবান্ধব’–এ প্রশ্নে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ফেব্রুয়ারিতে হওয়া মার্কিন চুক্তির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, “গম, সয়াবিন, তুলা মিলিয়ে বার্ষিক প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি ডলার ও জ্বালানিতে ১৫ বছরে দেড় হাজার কোটি ডলারের ক্রয়-প্রতিশ্রুতি আছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ তৈরি করতে পারে।”
বিদ্যুৎ সংকটে গ্রামীণ এলাকায় জনরোষ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের ওপর হামলা এবং থানায় নিরাপত্তা চাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে। ছয় মাস বয়সী সরকারের জন্য এটি কূটনৈতিকভাবে বিব্রতকর। বিনিয়োগ আমন্ত্রণের বার্তার উল্টো দিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার এই বিপরীতমুখী চিত্র বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি-মূল্যায়ন ইনডেক্সে যুক্ত হয়ে যায়।
মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের সময়ই তীব্র জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং-এর মতো গুরুতর দুর্বলতা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে এসেছে অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভও। মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকা থাকার সময়েই এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (বেজিয়া) চেয়ারম্যান এম এ জব্বার বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও শিল্প পানির অভাবে পাঁচটি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বরাদ্দকৃত জমির মাত্র ৩৭ শতাংশ চালু আছে, উৎপাদনে গেছে মাত্র ২৭টি কোম্পানি।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও স্বীকার করেছেন, নীতি ধারাবাহিকতার অভাব ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার পথে তারেক সরকারের নেতৃত্বে ৬ মাস বয়সী সরকার সামনের দিনে বিদেশি বিনিয়োগ কতটা আকৃষ্ট করতে পারে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে।

এসব সমস্যার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বিশ্ব পোশাক বাজারে এখন দ্রুত বাড়ছে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার ও ফ্যাশন পণ্যের চাহিদা।

চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক সংস্কারক ঝু রংজির মৃত্যুর খবরে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তবে কেউ কেউ তার মৃত্যুতে স্বস্তিও প্রকাশ করেছে।

গণঅভ্যূত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল। জনমনে আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার এলে আইনশৃঙ্খলার অবস্থার উন্নতি ঘটবে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান সরকারের ছয় মাসেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তেমন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশ আর ভিন্নমত চর্চার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিভাজনকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, ‘ভয় দেখানোর সংস্কৃতি’ এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘নিউ নরমাল’ হয়ে উঠেছে।