ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলা এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতও কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ৪৫ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ১৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৬৯ ডলার বা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছায়।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথা ইরানি কর্মকর্তাদের পুনর্ব্যক্ত করার কারণেই তেলের দাম আবার বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আগেই কমে যাওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।”
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালায়। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ওই গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে তারা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা এ অঞ্চলে অবস্থানরত আমেরিকান সেনাদের ওপর ইরানের আকস্মিক হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে। একই সময়ে ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার রয়টার্সকে জানান, হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এর ফলে কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় বাণিজ্য ব্যাহত করে রাখা অচলাবস্থা নিরসনের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব থেকে এশিয়ায় তেল পরিবহনের বিকল্প পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বুধবার পাঁচটি এবং মঙ্গলবার ৩৯টি জাহাজ চলাচল করেছে। ১৯ জুলাই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর মঙ্গলবারের সংখ্যাই ছিল সর্বোচ্চ।
মঙ্গলবার বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে।