যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে “অত্যন্ত খারাপ” আখ্যায়িত করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের আরও কিছুদিন জ্বালানির বেশি দাম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত থাকায় ট্রাম্প আমেরিকানদের কিছুটা বেশি দামে পেট্রল কিনতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “পেট্রলের জন্য সামান্য একটু বেশি দাম দেওয়া”, একটি দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য মূল্য দেওয়ার মতো বিষয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে তার উল্লেখ করা কারণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে এবং ভোটারদের হতাশ করে এমন পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি বলে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে।
রিপাবলিকান ট্রাম্প পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় জ্বালানি খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আজ শনিবার ভোরে এক্সে লিখেছেন, “এই প্রণালি কেবল ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং কল্পনায় ডুবে থাকা বন্ধ করছেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ কার্যকর করতে থাকবে।”
ঘারিবাবাদি বলেন, “একটি টুইট বা বিমানবাহী রণতরী দিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না।”
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত তেহরান এখনো নেয়নি। আজ শনিবার প্রকাশিত ইরানি সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে হলে ওয়াশিংটনকে প্রণালিটি নিয়ে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নিতে হবে।
এদিকে ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতিতেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমেরিকান অবরোধ এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।