সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। গণনা শেষে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ ১৯টি দেশের মুদ্রা, সোনা এবং রুপা পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত এ গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্সের সিলগালা খোলা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ ১ মাস ৪ দিন পর মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হলো।
সিসিক প্রশাসক জানান, নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্সে ২ ভরি ১ রতি সোনা এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নজরানা হিসেবে ভক্তদের দেওয়া গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিও জমা পড়েছে।
মাজারের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘‘মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খুব শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে সেই নীতিমালার আলোকেই মাজারের অর্থ গণনা ও সার্বিক পরিচালনা সম্পন্ন হবে।’’
টাকা গণনাকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশে ১৮ জুন দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে পরবর্তীতে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়, যদিও প্রশাসন এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর গত ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।