বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নাম। সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী কিংবা বেসিক ব্যাংক- এদের বিস্তার দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ পুনর্গঠন থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষের হাতে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বটা এসব সরকারি ব্যাংকেরই। অথচ আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ক্যাটাগরিতে এই ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট রেটিং বা ক্যামেলস রেটিং তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নীতিমালা অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক শক্তির বিচারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালীসহ আরও কয়েকটি সরকারি ব্যাংক। তবে সরকারি এসব ব্যাংকের পেছনে সরকারের গ্যারান্টি থাকায় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা রাখে গ্রাহকরা।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি সহায়তার সুবিধাকে বিবেচনায় না ধরলে দেশের চার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটিও সর্বোচ্চ ‘ট্রিপল এ’ রেটিং অর্জন করতে পারেনি। ক্রেডিট রেটিং সংস্থা সিআরআইএসএলের মূল্যায়নে সোনালী ব্যাংক ‘ডাবল এ’ মাইনাস রেটিং পেয়েছে। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে এটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও বেসরকারি খাতের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দেশের অন্যতম প্রধান এই অর্থনৈতিক স্তম্ভের এমন শোচনীয় অবস্থা কেন? দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা কাঠামোগত দুর্বলতা, মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই আজকের এই সংকট।
পরিচালনা পর্ষদে কারা বসছেন, কোন উদ্দেশ্যে?
একটি ব্যাংক সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হবে কিনা, তার অনেকটাই নির্ভর করে এর নীতিনির্ধারকদের ওপর। কিন্তু দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বাণিজ্যিক খাতটিতে পর্ষদ গঠনের সময় পেশাদারত্বকে দূরে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক পরিচয়কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে ব্যাংকিং খাতের জটিল ঝুঁকি বা আধুনিক ব্যাংকিং নিয়ে ন্যূনতম ধারণা না থাকা সত্ত্বেও কেবল দলীয় বিবেচনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পর্ষদের শীর্ষ চেয়ারে বসে পড়েন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে- যাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই, তাদের হাতে আমানতকারীদের কোটি কোটি টাকা সুরক্ষিত থাকবে কীভাবে? ব্যবসায়ীক যুক্তির চেয়ে দলীয় প্রভাবে যখন বড় বড় ঋণ অনুমোদন পায়, তখন ব্যাংকের ভিত্তিমূল দুর্বল হতে বাধ্য।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পর্ষদে রাজনৈতিক বিবেচনায় অদক্ষ ও দলীয় ব্যক্তিদের বসানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সোনালী ব্যাংক তার অন্যতম জ্বলন্ত উদাহরণ। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে- আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা আধুনিক ব্যাংকিং বোঝেন না এমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তোষামোদকারী বা আমলাদের সরাসরি সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসানো হয়েছে। এই পর্ষদগুলোর মূল লক্ষ্য ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা নয়, বরং ক্ষমতাসীন মহলের আবদার মেটানো এবং রাজনৈতিক সুপারিশে ঋণ পাস করানো।
রাজনৈতিক প্রভাবে গঠিত পর্ষদ যখন দায়িত্বে থাকে, তখন ব্যাংকের পেশাদার নির্বাহীরা পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। কোনো নিয়মনীতি বা ব্যাংকিং নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কেবল ফোনের ইশারায় বা নির্দেশে ঋণ প্রদান কিংবা ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে এই পর্ষদগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন হলমার্কের মতো হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ঘটার সুযোগ তৈরি হয় এবং খেলাপির সংস্কৃতি নিয়মে পরিণত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ২০১২-১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকটির পরিচালক পদে বসানো হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাত আরা হেনরি এবং মহাজোট সরকারের অনুগত সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়কে। ব্যাংকিং খাতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল দলীয় পরিচয়ে তারা দেশের বৃহত্তম এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে জায়গা পেয়েছিলেন। তাদের মেয়াদকালেই হলমার্ক গ্রুপ ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে উঠে আসে- এই রাজনৈতিক পর্ষদের উদাসীনতা, দুর্বল নজরদারি এবং সুশাসনের অভাবেই এত বড় জালিয়াতি সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে পর্ষদ সদস্যরা সব দায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
একই ঘটনা ঘটেছিল জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর ক্ষেত্রে। ২০০৯ সালে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাহীন বাচ্চুকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। তার ৫ বছরের মেয়াদে ব্যাংকটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে এবং ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। এমন একাধিক ঘটনা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
খেলাপি ঋণ হচ্ছে কীভাবে?
ভুয়া জামানত ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ক্ষমতার দাপটে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ সংস্কৃতি। সোনালী ব্যাংকের ২০১২ সালের হলমার্ক কেলেঙ্কারি এর বাস্তব প্রমাণ। প্রকৃত পণ্য বা জামানত ছাড়াই কেবল কাগুজে এলসি বানিয়ে ব্যাংকটির রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নেয়।
একইভাবে জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা যায়- একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে কত টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে, সেই ‘একক গ্রাহক ঋণসীমা’ ভেঙে ক্রিসেন্ট ও অ্যাননটেক্স গ্রুপকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরিণতিতে ব্যাংকটির নিজের মূলধনের চেয়েও বেশি টাকা আটকে যায় এই দুই গ্রুপের কাছে। যখন আমানতকারীর টাকার রক্ষক নিজেই ভক্ষক হয়, তখন সেই ব্যাংক ভালো রেটিং আশা করতে পারে না।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠিত পর্ষদের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকেও বড় বিপর্যয় ঘটে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের প্রভাব খাটিয়ে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ও উপযুক্ত জামানত ছাড়া নামসর্বস্ব, ভুয়া ও অস্তিত্বহীন কোম্পানিকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যায়। এর ফলে ব্যাংকটির সিংহভাগ ঋণই চিরতরে খেলাপিতে পরিণত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি এখনো তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে।
ঋণ দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই হচ্ছে তো?
সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ মূল্যায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এখনো বহু পুরানো ধাঁচের রয়ে গেছে। কোনো প্রকল্পে অর্থায়নের আগে তার অর্থনৈতিক যোগ্যতা বা উদ্যোক্তার অতীত ইতিহাস যাচাইয়ের মানসম্মত সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অনেক সময় কাগজে-কলমে জামানতের দাম বাড়িয়ে দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঋণ পাস করা হয়।
ঋণ নেওয়ার পর সেই টাকা নির্দিষ্ট খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা তদারকির কোনো ব্যবস্থা থাকে না। ফলে শিল্পের নামে নেওয়া টাকা চলে যায় জমি কেনায়, শেয়ারবাজারে কিংবা দেশের বাইরে পাচারে। তদারকির এই চরম ঢিলেঢালা ভাবই ভালো ঋণকেও রাতারাতি মন্দ ঋণে পরিণত করছে।
এর বহুল দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন- রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ‘ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েক শত কোটি টাকা ঋণ দেয় রূপালী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কাজের ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়েছিল, যার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে কোনো পরিদর্শন বা জামানত যাচাই না করেই তড়িঘড়ি করে ঋণ পাস করে, যা পরবর্তীতে পুরোপুরি খেলাপি হয়ে পড়ে।
একইভাবে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ভুয়া ও জাল রপ্তানি বিল এবং ভুয়া বিদেশি ক্রেতার ক্রয়াদেশ দেখিয়ে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কয়েক শ কোটি টাকার ঋণ হাতিয়ে নেয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এলসি ইস্যু করার আগে নথিপত্র কিছুই যাচাই করেনি; ফলে অর্থ ছাড়ের পর পরই গ্রুপের মালিকরা টাকা বিদেশে পাচার করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা থেকেও সমপরিমাণ বড় জালিয়াতি করে এই বিসমিল্লাহ গ্রুপ। ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ও ব্যাংকিং রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করার নিয়ম থাকলেও রাজনৈতিক ইশারায় তা করা হয়নি। শাখা ব্যবস্থাপকরা বাস্তবে কোনো কিছু যাচাই না করে কেবল কাগজের নথির ওপর ভিত্তি করে শত শত কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেন, যে টাকা আর কখনো ফেরত আসেনি।
সরকার কি প্রতি বছরই ভর্তুকি দিতে থাকবে?
খেলাপি ঋণের পাহাড়সম বোঝা বইতে গিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি চরম নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ‘ব্যাসেল-৩’ নীতিমালা অনুযায়ী, ঝুঁকির বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) জমা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি ব্যাংকগুলোর সেই সক্ষমতা নেই।
এই বিশাল মূলধন ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর জাতীয় বাজেট থেকে হাজার কোটি টাকার ‘পুনঃমূলধন’ বা ভর্তুকি দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এতে ব্যাংকগুলোর নিজেদের আয়ে টিকে থাকার যে বাণিজ্যিক তাগিদ, তা নষ্ট হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে, লোকসান যতই হোক না কেন, সরকার তো টাকা দিয়ে উদ্ধার করবেই!
সরকার আর কতদিন কাগুজে মুনাফা দেখাবে?
বাস্তব চিত্র আড়াল করতে সরকারি ব্যাংকগুলোতে ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কাগুজে মুনাফা দেখানোর কৌশল ব্যবহার করা হয়। ব্যাংকের হিসাব খাতা পরিষ্কার দেখাতে নামমাত্র শর্তে বারবার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় এবং কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়। কিন্তু খাতায় আয় দেখানো হলেও ব্যাংকের ভল্টে বাস্তব নগদ অর্থ জমা হয় না। এই কাল্পনিক মুনাফার ওপর ভিত্তি করে আবার সরকারকে লভ্যাংশ দেওয়া হয় এবং কর্মকর্তারা পারফরম্যান্স বোনাস পান। ফলে ভেতরের ফাঁপা অবস্থা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় থাকে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে?
আইন অনুযায়ী দেশের সব ব্যাংকের ওপর নজরদারির মূল ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকার কথা। কিন্তু সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সেটি বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ, এসব ব্যাংকের ওপর বড় ধরনের ক্ষমতা চর্চা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ’। অন্যভাবে বলতে গেলে, মূল ভূমিকা পালন করছেন আমলারা ও সরকার, যার পেছনে আবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই মুখ্য হয়ে উঠছে।
পর্ষদ গঠন থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ- সব সিদ্ধান্তেই যদি মন্ত্রণালয় ও সরকারের হস্তক্ষেপ থাকে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে স্বাধীনভাবে তদারকি করা সম্ভব হয় না। এই দ্বৈত শাসনই মূলত সরকারি ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।