কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা, মাওলানা সা’দ কান্ধলভিকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং হিজবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন কওমি ও সমমনা সংগঠনের আলেম-ওলেমা। দাবি মানা না হলে জেলা সমাবেশ, বিভাগীয় মহাসমাবেশসহ প্রয়োজনে ঢাকা অবরোধ ও জাতীয় সংসদ ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক আলেম-ওলেমা সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সম্মেলনে কওমিভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী সম্মেলনে ১০ দফা সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং সংগঠনের পক্ষে নতুন কর্মসূচি তুলে ধরেন।
ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• আইন প্রণয়ন ও ধর্মীয় পরিচয়: জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে তাদের ধর্মীয় পরিচয় কাদিয়ানী উল্লেখ করতে হবে।
• পরিভাষা ও প্রচার বন্ধ: কাদিয়ানীরা মুসলমানদের মসজিদ, আজান, নামাজ, ইমাম, খলিফা বা বাইয়াতের মতো ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া তাদের বই-পুস্তক, লিটারেচার, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপস ও প্রচারমূলক উপাদান অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করতে হবে।
• আইন ও শিক্ষাক্রম: আল্লাহ, মহানবী (সা.) ও ইসলামের অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খতমে নবুওয়ত-এর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
• মাওলানা সা’দ ও ইজতেমা বিষয়ক দাবি: ভারতের তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা সা’দকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা এবং তাঁর অনুসারীদের (সা’দপন্থী) ইজতেমা করার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
• হিজবুত তওহীদ ও বাণিজ্য বিষয়ক দাবি: হিজবুত তওহীদ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে তাদের সকল প্রচার-প্রকাশনা বন্ধের দাবি তোলার পাশাপাশি কাদিয়ানীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএলকে দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
ঘোষিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে রাজধানী অচল, ঢাকা অবরোধ ও সংসদ ঘেরাওয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান আয়োজক নেতারা।