
একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণও জরুরি। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে অনুগ্রহের নয়, অংশীদারত্বের। ভারতকেও বুঝতে হবে: বাংলাদেশ কোনো বাফার স্টেট নয়, এটি একটি গর্বিত জাতি যার নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ আছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক কাঠামোয় উন্নীত করা, মিয়ানমার হয়ে নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের আলোচনা, প্রথমবারের মতো ‘টু প্লাস টু’ নিরাপত্তা সংলাপ, তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা, জিডিআইয়ে যোগদান এবং ১৭টি সমঝোতা–সব মিলিয়ে সফরের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো দৃশ্যমান অবকাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি কৌশলগত।

উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও চীন।

উপদেষ্টার তথ্যমতে, দুই নেতা প্রথমে তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধিদলকে সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। সেখানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অব দ্য কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না’ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাদুঘরটিতে চীনের ক্ষমতাসীন দলটির ইতিহাস ও বিকাশ তুলে ধরা হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপলে’ বৈঠকটি শুরু হয়।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আজ শুক্রবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বহুল আলোচিত এ বৈঠককে প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠক দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীন তার প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক একীকরণ, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং কাঠামোগত লিভারেজ বা সুবিধাকে বেশি কাজে লাগাচ্ছে। এটি এখন এই অঞ্চলের একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য অংশীদার, অর্থায়নের একটি অন্যতম প্রধান উৎস এবং পণ্য ও কৃষি রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে।

চীনা এই নেতা ২০১৯ সালের পর থেকে আর পিয়ংইয়ং সফরে যাননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজের বিদেশ সফর একেবারেই কমিয়ে এনেছেন। আজকাল সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের মতো বিশ্ব নেতারাই তার সাথে দেখা করতে বেইজিংয়ে আসেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের ঐতিহাসিক পিয়ংইয়ং সফরের ঠিক আগের দিন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান সামরিক কারখানা পরিদর্শন করলেন কিম জং উন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর জন্য কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পর্ব-২
আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ মূলত আমাদের আবার স্নায়ুযুদ্ধের অতীতের দিকেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। অবশ্য এটি পুরোপুরি অতীতের হুবহু পুনরাবৃত্তি হবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী চীনের কাছে অর্থনৈতিক আকর্ষণ এবং জোরজুলুম করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে অনেক ভালো বিকল্প রয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, মার্চের শেষ নাগাদ পাকিস্তানি বোমায় ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরও হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কুনার প্রদেশের নারি জেলার ৩১ বছর বয়সী দেলাওয়ার খান বলেন, তার পরিবার এবং আরও অনেকেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। খাবার ও পানি জোগাড় করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা একটি পরিচিত আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মাত্র কয়েক দিন পরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনে পৌঁছান।

ডলার বর্জন, জ্বালানির নতুন বাজার তৈরি এবং যৌথ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মস্কো ও বেইজিং কেবল নিজেদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাই নিশ্চিত করছে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার একক আধিপত্যের বিপরীতে এক শক্তিশালী বিকল্প মেরু গড়ে তুলছে।

ডলার বর্জন, জ্বালানির নতুন বাজার তৈরি এবং যৌথ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মস্কো ও বেইজিং কেবল নিজেদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাই নিশ্চিত করছে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার একক আধিপত্যের বিপরীতে এক শক্তিশালী বিকল্প মেরু গড়ে তুলছে।