চরচা ডেস্ক

স্পেনে নির্বাসিত স্প্যানিশ নাগরিকদের বংশধরদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণীত ক্ষতিপূরণমূলক আইনকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডানপন্থি বিরোধী নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, আগামী বছরের নির্বাচনে নতুন ভোটার যুক্ত করে নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে পাস হওয়া এই আইনের আওতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭২২ জন স্পেনের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬ হাজার ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেছেন। এ ছাড়া, এখনো প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ডানপন্থি রাজনীতিকেরা এ সপ্তাহে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, সমাজতান্ত্রিক সরকার এমন দেশগুলোর আবেদন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে, যেসব দেশের নতুন নাগরিকেরা তাদের কম সমর্থন করতে পারেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, কয়েকটি অতিরিক্ত আসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে নতুন ভোটার নিবন্ধন করা হচ্ছে।
অতি-ডানপন্থি দল ভক্স মঙ্গলবার বিদেশ থেকে ডাকযোগে পাঠানো সব ভোট সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানায়।
এই বক্তব্যগুলো অনেকটা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে ভোটব্যবস্থা কারচুপির অভিযোগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সংসদীয় অচলাবস্থা এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে আগামী ২০২৭ সালের আগস্টের আগেই আগাম নির্বাচন ঘোষণার চাপের মধ্যে রয়েছেন।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য দলটিকে ভক্সের সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
পিপি নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো সোমবার স্প্যানিশ রেডিওতে বলেন, “বর্তমান ভোটারদের নিয়ে সানচেজের হিসাব মিলছে না। তাই তিনি হয়তো নতুন ভোটার তৈরি করে সেই হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন।”
সরকার ফেইহোর অভিযোগকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, নতুন নাগরিকেরা কোথায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করবেন, সে বিষয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। উল্লেখ্য, নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ গত অক্টোবরেই শেষ হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের পরিধি সম্প্রসারণ
‘ডেমোক্রেটিক মেমোরি’ আইন ২০০৭ সালের একটি আইনের ধারাবাহিকতা। ওই আইনের মাধ্যমে ১৯৩৬-৩৯ সালের স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর একনায়কতন্ত্রের সময় নির্বাসিত হওয়া প্রায় পাঁচ লাখ স্প্যানিশের নাতি-নাতনি এবং বিদেশে বসবাসকারী স্প্যানিশদের প্রথম প্রজন্মের সন্তানদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হয়।
২০২২ সালে সানচেজ সরকার এই সুবিধার পরিধি আরও বাড়ায়। নতুন আইনের আওতায় ২০০৭ সালের আইনে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা, যৌন পরিচয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে নির্যাতিত ব্যক্তিদের বংশধরেরা এবং ফ্রাঙ্কো আমলে বিদেশিকে বিয়ে করার কারণে নাগরিকত্ব হারানো নারীরাও স্প্যানিশ নাগরিকত্বের অধিকার পান।
স্পেন একমাত্র দেশ নয়; ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও নির্বাসিত নাগরিকদের বংশধরদের নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। ইতালি, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিসহ বেশ কয়েকটি দেশ রাজনৈতিক ইতিহাস নির্বিশেষে নাতি-নাতনিদেরও নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিদেশে বসবাসকারী প্রায় ২৩ লাখ স্প্যানিশ নাগরিকের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন।
চলতি বছর কয়েকটি আঞ্চলিক নির্বাচনে বিদেশি ভোট সমাজতান্ত্রিকদের পক্ষে বেশি গেলেও, দেশের অভ্যন্তরে দলটি উল্লেখযোগ্যভাবে সমর্থন হারিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সানচেজ সরকারের ওপর দুর্নীতির চাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি (২৩ মে) রাজধানী মাদ্রিদে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্চ ফর ডিগনিটি বা মর্যাদার পদযাত্রা নামক ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে নিজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে আদালতের দুর্নীতি তদন্ত শুরু হলে পেদ্রো সানচেজ সাময়িকভাবে পদত্যাগের কথাও বিবেচনা করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই সানচেজ ও তার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের পরিবারকে হেয় করতে এসব ছক কষছে। গত মাসে স্পেনের একজন সরকারি প্রসিকিউটরও ডানপন্থী দলগুলোর দায়ের করা ওই মামলাটি বন্ধ করার জন্য তদন্তকারী বিচারককে অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্পেনে নির্বাসিত স্প্যানিশ নাগরিকদের বংশধরদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণীত ক্ষতিপূরণমূলক আইনকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডানপন্থি বিরোধী নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, আগামী বছরের নির্বাচনে নতুন ভোটার যুক্ত করে নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে পাস হওয়া এই আইনের আওতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭২২ জন স্পেনের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬ হাজার ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেছেন। এ ছাড়া, এখনো প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ডানপন্থি রাজনীতিকেরা এ সপ্তাহে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, সমাজতান্ত্রিক সরকার এমন দেশগুলোর আবেদন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে, যেসব দেশের নতুন নাগরিকেরা তাদের কম সমর্থন করতে পারেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, কয়েকটি অতিরিক্ত আসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে নতুন ভোটার নিবন্ধন করা হচ্ছে।
অতি-ডানপন্থি দল ভক্স মঙ্গলবার বিদেশ থেকে ডাকযোগে পাঠানো সব ভোট সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানায়।
এই বক্তব্যগুলো অনেকটা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে ভোটব্যবস্থা কারচুপির অভিযোগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সংসদীয় অচলাবস্থা এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে আগামী ২০২৭ সালের আগস্টের আগেই আগাম নির্বাচন ঘোষণার চাপের মধ্যে রয়েছেন।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য দলটিকে ভক্সের সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
পিপি নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো সোমবার স্প্যানিশ রেডিওতে বলেন, “বর্তমান ভোটারদের নিয়ে সানচেজের হিসাব মিলছে না। তাই তিনি হয়তো নতুন ভোটার তৈরি করে সেই হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন।”
সরকার ফেইহোর অভিযোগকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, নতুন নাগরিকেরা কোথায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করবেন, সে বিষয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। উল্লেখ্য, নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ গত অক্টোবরেই শেষ হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের পরিধি সম্প্রসারণ
‘ডেমোক্রেটিক মেমোরি’ আইন ২০০৭ সালের একটি আইনের ধারাবাহিকতা। ওই আইনের মাধ্যমে ১৯৩৬-৩৯ সালের স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর একনায়কতন্ত্রের সময় নির্বাসিত হওয়া প্রায় পাঁচ লাখ স্প্যানিশের নাতি-নাতনি এবং বিদেশে বসবাসকারী স্প্যানিশদের প্রথম প্রজন্মের সন্তানদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হয়।
২০২২ সালে সানচেজ সরকার এই সুবিধার পরিধি আরও বাড়ায়। নতুন আইনের আওতায় ২০০৭ সালের আইনে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা, যৌন পরিচয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে নির্যাতিত ব্যক্তিদের বংশধরেরা এবং ফ্রাঙ্কো আমলে বিদেশিকে বিয়ে করার কারণে নাগরিকত্ব হারানো নারীরাও স্প্যানিশ নাগরিকত্বের অধিকার পান।
স্পেন একমাত্র দেশ নয়; ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও নির্বাসিত নাগরিকদের বংশধরদের নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। ইতালি, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিসহ বেশ কয়েকটি দেশ রাজনৈতিক ইতিহাস নির্বিশেষে নাতি-নাতনিদেরও নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিদেশে বসবাসকারী প্রায় ২৩ লাখ স্প্যানিশ নাগরিকের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন।
চলতি বছর কয়েকটি আঞ্চলিক নির্বাচনে বিদেশি ভোট সমাজতান্ত্রিকদের পক্ষে বেশি গেলেও, দেশের অভ্যন্তরে দলটি উল্লেখযোগ্যভাবে সমর্থন হারিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সানচেজ সরকারের ওপর দুর্নীতির চাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি (২৩ মে) রাজধানী মাদ্রিদে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্চ ফর ডিগনিটি বা মর্যাদার পদযাত্রা নামক ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে নিজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে আদালতের দুর্নীতি তদন্ত শুরু হলে পেদ্রো সানচেজ সাময়িকভাবে পদত্যাগের কথাও বিবেচনা করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই সানচেজ ও তার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের পরিবারকে হেয় করতে এসব ছক কষছে। গত মাসে স্পেনের একজন সরকারি প্রসিকিউটরও ডানপন্থী দলগুলোর দায়ের করা ওই মামলাটি বন্ধ করার জন্য তদন্তকারী বিচারককে অনুরোধ জানিয়েছেন।

গত ২৯ জুন আদালত ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলায় দীর্ঘদিনের এক আইনি নিয়ম বাতিল করে দিয়েছে। ৬-৩ ভোটে আদালতের বিচারকরা হামফ্রে মামলার সেই ঐতিহাসিক আইনি সুরক্ষা বিলুপ্ত করেন। এর মাধ্যমে তিনি এখন এমন এক ক্ষমতা পেয়ে গেছেন, যা তিনি একসময় নিজের রিয়েলিটি শো-তে খুব আনন্দের সাথে বলতেন—’ইউ আর ফায়ার্ড’।