শান্তিচুক্তির জন্য ইরানের দেওয়া শর্তের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা দাবি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। এই দাবি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে, ওমানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিটি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর তেহরানের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ অবস্থায় আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। এ ছাড়া, অতীতে ট্রাম্পকে সমর্থন করা গ্রামীণ এলাকাগুলোতে জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি বিল কিটিং সিএনএনকে বলেন, “আপনারা এখানে যা দেখছেন, তা হলো আত্মসমর্পণের শুরু। এটাই বাস্তবতা। বিষয়টি এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”এর আগে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনা “সুষ্ঠুভাবে ও গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে”। তিনি জানান, নৌপথের একটি মানচিত্র নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে কিছু কারিগরি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
বাঘাই বলেন, আলোচনায় এমন কিছু সেবার বিষয়ও এসেছে, যেগুলোর জন্য সাধারণত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এর মধ্যে নিরাপদ নৌ চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক সেবা এবং অপরাধ দমন অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, এমন কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না, যার মাধ্যমে তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ফি আদায় করতে পারে।
তবে জুলাইয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী হামলা অভিযানসহ কয়েক মাসের আমেরিকান সামরিক তৎপরতা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি ওয়াশিংটন। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প সোমবার আবারও দাবি করেছেন, প্রণালিটি খোলা রয়েছে এবং বলেছেন, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে।”
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করে। তেহরান বলেছে, এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
এর জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও লক্ষ্যবস্তু করেছে।