
রমেক হাসপাতালে কেন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার অনুরোধ আসে। বিপরীতে ১০টি শয্যা থাকায় চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই এক অদ্ভুত আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেটা হলো, মৌলভিত্তিসম্পন্ন বা ভালো শেয়ারের দাম কমছে, আর বন্ধ বা লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে চিত্রটি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। যেখানে উৎপাদনহীন, নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, উল্টো চিত্র দেখা গেছে ভালো পারফর্ম করা ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে। এগুলোর দাম না বেড়ে বরং কমেছে।
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকার আটটিই ছিল ‘জেড’ ক্যাটাগরির। সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ দর বেড়ে তালিকার শীর্ষে স্থান করে নেয় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
অন্যদিকে, শীর্ষ ১০টি দরপতনের তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায় ঠিক বিপরীত ছবি। সেখানে ১০টির মধ্যে সাতটিই ‘এ’ ক্যাটাগরির এবং একটি ‘বি’ ক্যাটাগরির মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি।
একটি সুস্থ পুঁজিবাজারে এই ধরনের প্রবণতা কেবল অস্বাভাবিকই নয়, বরং পুরো বাজার ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। ডিএসইর এই সাম্প্রতিক চিত্রকে সামনে রেখে বিশ্লেষণ করলে বাজারের কিছু ক্ষতিকর দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মূলধন সুরক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি
‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর অধিকাংশেরই উৎপাদন বন্ধ, কোনো লভ্যাংশ নেই এবং অনেক কোম্পানির আর্থিক বিবরণীও স্বচ্ছ নয়। স্বাভাবিক নিয়মে এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকার কথা নয়। কিন্তু কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং নানা গুজব বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে এক শ্রেণির চক্র এই শেয়ারগুলোর দাম বাড়িয়ে দেয়।
সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ বা চরম আর্থিক সংকটে থাকা পিপলস লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স কিংবা তুং হাই নিটিংয়ের দাম এক সপ্তাহেই ২০ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যখন ভালো শেয়ারে রিটার্ন না পেয়ে এই কৃত্রিম দর বৃদ্ধির পেছনে ছোটেন, তখনই তারা বড় ধরনের ফাঁদে পড়েন। কারসাজিকারীরা মুনাফা তুলে কেটে পড়লে এসব জাঙ্ক বা পঁচা শেয়ার সাধারণ মানুষের হাতে আটকে যায় এবং তাদের মূলধন চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়।
রবিউল ইসলাম একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী। তিনি চরচাকে বলেন, “একটা সময় আমি প্রায় ১২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছিলাম। এখন আমার পুঁজি প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এখন শেয়ার দরের যা অবস্থা, বিক্রি করতে গেলে আমি তেমন দামই পাব। এই ক্ষতি আমি কাটিয়ে উঠতে পারব কি না, জানি না।”
শুধু রবিউল ইসলামই নন, এমন অনেক বিনিয়োগকারী মূলধন হারিয়ে এখন লোকসানের মুখে রয়েছে।
‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে তারল্য সংকট
সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অ্যাপেক্স স্পিনিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, আর্গন ডেনিম কিংবা টেকনো ড্রাগসের মতো ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলো শীর্ষ দরপতনের তালিকায় রয়েছে। যখন বাজার থেকে মূলধন বের হয়ে অকার্যকর ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে চলে যায়, তখন মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া ভালো শেয়ারগুলোতে ‘তারল্য সংকট’ দেখা দেয়।
ফলে ভালো কোম্পানির উদ্যোক্তা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের যৌক্তিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বাজার তার মূল উদ্দেশ্য- যেমন: ভালো কোম্পানিতে মূলধন সরবরাহ করা থেকে দূরে সরে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটা শেয়ারবাজারের জন্য ভালো নয়।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ চরচাকে বলেন, “শেয়ারবাজারে বর্তমানে তেমন পরিস্থিতিই চলছে। যেখানে ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম কমছে, আর জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম বাড়ছে। এটা মার্কেটের স্বাভাবিক গতি নয়। এটা জুয়াড়িদের কারবার।”
জুয়ার প্রবণতা
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা, ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা। কিন্তু যখন লোকসানি ও বন্ধপ্রায় ফারইস্ট ফাইন্যান্স বা ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের মতো শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে, আর অন্যদিকে নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া সি-পার্ল বা আর্গন ডেনিমের মতো ভালো শেয়ারের দর পড়ে যায়, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ভুল বার্তা পৌঁছায়।
এসব কারণে বাজার থেকে সুস্থ বিনিয়োগ সংস্কৃতি হারিয়ে যায়। কায়েম হয় ফটকাবাজি বা জুয়ার প্রবণতা। ভালো কোম্পানিতে রিটার্ন না পেয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানি বিশ্লেষণ ছেড়ে অসাধু চক্রের ছড়ানো গুজব ও ‘হট টিপস’- এর পেছনে ছুটতে বাধ্য হন। ফলে পুঁজিবাজার তার মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে একটি ঝুঁকিভিত্তিক জুয়ার আসরে পরিণত হয়। এটা দীর্ঘমেয়াদে পুরো বাজারের টেকসই ভিত্তিকে ধসিয়ে দেয়।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধস
প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে সাধারণ কোনো গুজবে কান দিয়ে বিনিয়োগ করেন না। তারা মূলত কোম্পানির নিরীক্ষিত ব্যালেন্স শিট, লভ্যাংশ দেওয়ার হার এবং পরিচালনা পর্ষদের সুশাসনের ব্যাপারগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ডিএসইর সাম্প্রতিক এই সাপ্তাহিক চিত্রটি তাদের সামনে বাজারের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকে উন্মোচিত করে দিয়েছে, যেখানে সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির ৮০ শতাংশই অকার্যকর বা পঁচা শেয়ারের দখলে। আর দরপতনের ৮০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে দেশের ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো।
এই ধরনের অস্বাভাবিক বাজার প্রবণতা দেশি-বিদেশি বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক সংকেত পাঠায়। তারা মনে করেন, বাজারটি সুস্থ নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে চলছে না। এটি সম্পূর্ণ কারসাজি ও অনুমানের ওপর পরিচালিত হচ্ছে।
তখন তাদের বিনিয়োগ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে এবং তারা দ্রুত বাজার থেকে নিজেদের মূলধন গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে নিলে বাজারের লেনদেনের সামগ্রিক গতি কমে যায়, শেয়ারের তারল্য কমে যায় এবং প্রধান মূল্যসূচকগুলো ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী হতে থাকে।
আবু আহমেদ বলেন, “মানুষ যেখানে ভালো কিছু দেখে, সেদিকে এগিয়ে যায়। দেশের বাজার ভালোমতো চললে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা আসবেন। আর যদি দেখেন যে, মার্কেট জুয়াড়িদের দখলে, তখন প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন।”
বাজার নিয়ম মানছে না, ডিএসইর দায় কতটা?
পুঁজিবাজারের প্রধান ও মৌলিক দর্শন হলো, ‘প্রাইস ডিসকভারি মেকানিজম’ বা শেয়ারের সঠিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া। সহজ কথায় বললে, কোনো কোম্পানিকে ঘিরে খবরগুলো ভালো হলে, কোম্পানিটির পারফরম্যান্স ভালো হলে তার শেয়ার দর বাড়বে। আবার ব্যবসায়ীক মন্দা বা খারাপ খবরের কারণে তার শেয়ারের দর কমবে। এটাই একটি স্বাভাবিক বাজারের নিয়ম। ডিএসইর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলসের দর ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ কমার পেছনে যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ, কোম্পানিটির কারখানা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছিল।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন বা অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের মতো সুপরিচিত ও সচল ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর দাম ৮ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। অথচ এদের ব্যবসায়ীক পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক খবর ছিল না। কোনো সুস্পষ্ট মৌলিক কারণ বা নেতিবাচক সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই ভালো শেয়ারগুলোর দরপতন এবং বিপরীতে বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানির দর বৃদ্ধি প্রমাণ করে, বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।
যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই অকার্যকর কোম্পানির শেয়ারের দাম এমন লাগামহীন বাড়তে থাকা সরাসরি এই ইঙ্গিতই দেয় যে, বাজারে কৃত্রিম উপায়ে মূল্য প্রভাবিত করা হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি সময়মতো এই অসঙ্গতি শনাক্ত করতে না পারে বা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বাজার ব্যবস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম আস্থাও থাকবে না।
তবে মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কিছু উদ্যোগ চোখে পড়ে। যেমন, গত সপ্তাহের দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সের লেনদেন বন্ধ করেছে ডিএসই। ডিএসই সূত্র বলছে, সম্প্রতি কোম্পানি তিনটির শেয়ারের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। অথচ এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করা হয়নি এবং উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ীক অগ্রগতির ঘোষণাও আসেনি। তারপরও এই দর বৃদ্ধির কারণে কোম্পানি তিনটির লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাজ কী?
পুঁজিবাজারকে বলা হয় একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার দর্পণ। তবে সেই দর্পণে যদি বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত না হয়ে কেবল কৃত্রিম বা বিকৃত দৃশ্য ভেসে ওঠে, তখন সেই বাজার দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে গতিশীল করার বদলে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে পুঁজিবাজারকে রক্ষা করতে হলে প্রথমত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ডিএসইকে তাদের নজরদারি ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে। যেসব ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার দর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, সেগুলোর লেনদেনের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা ছিল কি না, তা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে বাজার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কৃত্রিম ঋণের প্রবাহ বন্ধ করা জরুরি। বিশেষ করে জাঙ্ক বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার জন্য যেন কোনো অবস্থাতেই মার্জিন ঋণ বা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করা না যায়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এসব শেয়ারের সেটেলমেন্ট সময়সীমা বাড়ানো এবং ট্রেডিং সুবিধা আরও সীমিত করার মতো নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে অনুৎপাদনশীল কোম্পানিতে ফটকাবাজদের মূলধন আটকে যাওয়ার ভয় তৈরি হয় এবং তারা মূলধারার বিনিয়োগের দিকে ফিরতে বাধ্য হয়।
ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিও জোরদার করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের উদ্যোগে সমন্বিত শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালানো উচিত, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো ধরনের ফাঁকা বার্তা বা গুজবে কান না দেন। একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থিতিশীল বাজারের জন্য বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদী অসৎ মুনাফার লোভ ছেড়ে কোম্পানির আর্থিক ভিত, লভ্যাংশ দেওয়ার ইতিহাস এবং ব্যবসার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি অবিলম্বে এসব কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে পঁচা শেয়ারের এই কৃত্রিম বুদ্বুদ যেকোনো সময় ফেটে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেষ সম্বলটুকুও বিলীন করে দেবে। এটা পুরো পুঁজিবাজারের ওপর থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার অনুরোধ আসে। বিপরীতে ১০টি শয্যা থাকায় চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করা সম্ভব হয় না।

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয় নিয়ে বারবার যে আলোচনা হয়, তা প্রায়ই জাতিগত, ভাষাগত ও রাজনৈতিক দরকষাকষির বিষয়ে সীমিত হয়ে পড়ে। তবে মিডিল ইস্ট মনিটরে সাইমা আফজালের লেখা এক নিবন্ধে মূল সমস্যাটি ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মাধ্যমিকে এবার পাস করেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবারের ফলাফল পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং চলতি বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। সারাদেশের নয়টি শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে পাসের হার হিসাবে চট্টগ্রাম বোর্ডের অবস্থান পঞ্চম।

২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন! তবে সামগ্রিক ফলাফলের চেয়েও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায়।