
এসএসসিতে ১৯ বছরে সর্বনিম্ন পাস, মাদরাসা ও কারিগরিতেই বড় ধাক্কা
২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন! তবে সামগ্রিক ফলাফলের চেয়েও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায়।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মাধ্যমিকে এবার পাস করেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবারের ফলাফল পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং চলতি বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। সারাদেশের নয়টি শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে পাসের হার হিসাবে চট্টগ্রাম বোর্ডের অবস্থান পঞ্চম। সকল সূচকেই চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল এবারে নিম্নমুখী।
তিন র্পাবত্য জেলা এবং মানবিক বিভাগের ফলাফল, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের র্দুবলতার কারণে এবারে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলাফলের নিম্নমুখী ধারা থেকে উত্তরণে তিন র্পাবত্য জেলায় শিক্ষার মান বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষার্বোড। পাঁচ বছরের মধ্যে ফলাফল সর্বনিম্ন হলেও সারাদেশের বিবেচনায় এটিকে ‘ততটা খারাপ’ বলতে রাজি নন র্বোড সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বোর্ডে এবারে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ, অথচ গত বছরে এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। অপরদিকে এবারে বিজ্ঞান বিভাগে পাস করেছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষায় ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
তিন র্পাবত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়িতে পাস করেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গতবারে এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এবারে রাঙামাটি জেলায় ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গেল বছরে এ দুই জেলায় পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ৫৫ এবং ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবারে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মহানগরী বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গতবার ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

গতবছর (২০২৫) চট্টগ্রামে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে পাস করে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে পাস করে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১টি। এবারে এ র্বোডের অধীন আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। অথচ গত বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৩টি আর কেউ পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। সব সূচকেই চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারে মাধ্যমিকের ফল ছিল নিম্নমুখী।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী চরচাকে বলেন, “পাঁচটি জেলা নিয়ে চট্টগ্রাম র্বোড। এর মধ্যে তিন র্পাবত্য জেলায় পাসের হার এবারে কমেছে। তবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় পাসের হার বেশি আছে। মানবিক বিভাগেও পাসের হার অনেক কমেছে। ওই তিন র্পাবত্য জেলায় এবং মানবিকে পাসের হার কমে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।”
এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রকৃত মূল্যায়ন হয়েছে মন্তব্য করে পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “সারাদেশের গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সে হিসেবে আমাদের বোর্ডের ফলাফল ততটা খারাপ হয়নি। গণিত ও ইংরেজি প্রথমপত্রে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম পাস করেছে। এ দুটি বিষয়ের ফলাফলও বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।”
এ বছর চট্টগ্রাম র্বোডে ১২১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ।
র্বোড সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ইংরেজি প্রথম পত্রে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৯৩ হাজার ৪৯০ জন। এ বিষয়ে পাসের হার ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ। গণিত বিষয়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৫২ জন। এ বিষয়ে পাসের হার ৮০ দশমিক ০৫ শতাংশ। বাকিগেুলোতে বিষয়ভিত্তিক পাসের হার ৯০ শতাংশের বেশি।
ফলাফল ভালো করতে তিন র্পাবত্য জেলায় শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের বোর্ডের অধীন পাহাড়ের তিন জেলায় শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। অঙ্ক ও ইংরেজিতেও ভালো শিক্ষক কম।”

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভালো শিক্ষকরা থাকতে চান না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ ও ভালো শিক্ষকদের রাখার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া ফলাফল খারাপ কেন হলো–তা নিয়ে আরও গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
এবার চট্টগ্রাম মহানগরকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফলাফল ভালো করেছে। চট্টগ্রামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এবার পিছিয়ে পড়া জেলাসমূহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কম ভালো করেছে। এর প্রভাব সামগ্রিক ফলাফলে গিয়ে পড়েছে।”
চট্টগ্রামের অন্যতম র্শীষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার চরচাকে বলেন, “পাহাড়ের র্দুগম এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানদের পড়ালেখায় তাদের পারিবারিক বিভিন্ন টানাপোড়নের প্রভাব পড়ালেখায় পড়ে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর আমাদের নজর বেশি দেওয়া দরকার। সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখার মানও বাড়াতে হবে।”

২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন! তবে সামগ্রিক ফলাফলের চেয়েও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায়।

ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলে প্রকাশ্য বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব আলাদা করে এর ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন। পরে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেন।

এখানেই ভবিষ্যতের বড় প্রশ্নটি তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ভিত্তি দুর্বল করে, তাহলে চীন সেই শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাবে। চীনের আইনি ব্যবস্থা পশ্চিমা ধাঁচের উদার গণতান্ত্রিক আইনব্যবস্থার মতো না হলেও, বৈশ্বিক ক্ষমতার জন্য সেটি হওয়া আবশ্যক নয়।

শেষ পর্যন্ত পুরো সংকটটি গিয়ে ঠেকছে আস্থার প্রশ্নে। ইরান বিশ্বাস করে না যে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিলে তা অবশ্যই পালন করবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বড় অংশ মনে করে, ইরান কৌশলগত সুবিধা পেলেই আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।